এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ডায়েরি তৃতীয় দিন
এভারেস্ট ভিউ পয়েন্টের রোমাঞ্চ ও এক্লিটাইজেশনের পাঠ

সংগৃহীত ছবি
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে আমাদের এভারেস্ট বেস ক্যাম্প অভিযানের তৃতীয় দিনের যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল ফাকডিং (ফারদিন) থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আমরা এসে পৌঁছেছিলাম ৩,৪৪০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ট্রেকারদের রাজধানী খ্যাত ‘নামচে বাজার’-এ। সেখানে সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজার ঘুরে পাহাড়ের কোলে এক সুন্দর টি-হাউজে রাত কাটিয়েছি।
আজ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে আমরা এক্লিটাইজেশন বা উচ্চতার সাথে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৮৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত এভারেস্ট ভিউ পয়েন্টের উদ্দেশ্যে আমাদের এই চড়াই পথচলা শুরু হয়। এই এভারেস্ট ভিউ পয়েন্ট ও এক্লিটাইজেশন পর্ব আমাদের অভিযানের অন্যতম একটি আকর্ষণ। মূলত অধিক উচ্চতায় অক্সিজেনের স্বল্পতার সাথে শরীরকে অভ্যস্ত করে তুলতেই এই এক্লিটাইজেশনের আয়োজন করা হয়, যা আল্টিটুড সিকনেস বা উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। ভিউ পয়েন্টে পৌঁছে সেখানে কিছু সময় কাটিয়ে চারপাশটা খুব ভালোভাবে উপভোগ করলাম। এরপর সেখানকার একটি মনোমুগ্ধকর টি-হাউজে বসে গরম গরম কফি ও চা পানের যে তৃপ্তি, তা এককথায় অসাধারণ।
নামচে বাজার থেকে এভারেস্ট ভিউ পয়েন্টে যাওয়া এবং ফিরে আসার এই পথটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ও হার্ডওয়ার্কিং। খাড়া পাহাড়ি উজান পথে হাঁটার সময় ফুসফুসে প্রচণ্ড চাপ পড়ে এবং ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয়। প্রতিটি পদক্ষেপে রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি টের পাওয়া যায়, ফলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তবে এই কঠিন পরিশ্রমের প্রতিটি মুহূর্ত সার্থক হয়ে ওঠে যখন চারপাশের জগতটাকে রূপকথার মতো সুন্দর মনে হয়। সব ক্লান্তি দূরে ঠেলে দুপুর ২টার মধ্যেই আমরা নিরাপদে আবার নামচে বাজারের হোটেলে ফিরে আসি।
এই কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার সময় আমাদের গাইড আমাদেরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশল শিখিয়েছেন। উচ্চতায় ওঠার সময় প্রতিটি স্টেপ বা পদক্ষেপ ফেলার সাথে সাথে মুখ হা করে জোরে শ্বাস ছেড়ে দিতে হয়; অর্থাৎ পা ফেলার সাথে মুখ দিয়ে বাতাস ছাড়ার এই ছন্দ বজায় রাখলে উপরের দিকে উঠতে কষ্ট তুলনামূলক অনেক কম হয়।
পাহাড়ের নিজস্ব কিছু অবধারিত নিয়ম রয়েছে, যা চাইলেই কেউ ভাঙতে পারে না। মাউন্টেন কখনোই মানুষের খেয়ালে চলে না, বরং এখানকার আবহাওয়া ও পরিবেশ প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে থাকে। তাই পাহাড়ে আসার আগে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।
আজকেও আমরা নামচে বাজারেই অবস্থান করছি। কাল সকালে আবার নতুন কোনো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে আমাদের পথচলা শুরু হবে। ইনশাআল্লাহ, আমাদের এই রোমাঞ্চকর অভিযানের প্রতিদিনের খুঁটিনাটি আপনাদের সাথে এভাবেই ভাগ করে নেব। সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।





