এলব্রুস জয় শেষে দেশের পতাকা ফিরিয়ে দিলেন শাকিল

পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানো যে শুধুই একটি অভিযান তা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য স্বপ্ন, পরিশ্রম, সাহস আর দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব। ইউরোপের সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এলব্রুস জয় করে সেই গর্বই বয়ে এনেছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। অভিযান শেষে এবার দেশের জাতীয় পতাকা প্রত্যর্পণ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তুলে ধরেছেন দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা এবং দেশের পর্বতারোহণের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনা।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে রাশিয়ান হাউজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অতিথিদের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দেন শাকিল। পরে স্লাইড প্রদর্শনীর মাধ্যমে অভিযানের নানা অভিজ্ঞতা ও স্মরণীয় মুহূর্ত তুলে ধরেন তিনি। তাঁর তোলা ছবিতে উঠে আসে এলব্রুস অভিযানের পথ, পাহাড়ের প্রকৃতি এবং চূড়ায় পৌঁছানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
তবে অভিযানের সাফল্যের আনন্দের পাশাপাশি দেশের পর্বতারোহণের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা আক্ষেপও প্রকাশ করেন শাকিল। তাঁর মতে, পর্বতারোহীরা অনেক স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা। প্রতিটি অভিযানের জন্য স্পন্সর সংগ্রহ করতে তাঁদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়।
শাকিল বলেন, “আমরা যারা পর্বতারোহণ করি, তারা অনেক স্বপ্ন বুনি। কিন্তু সেই স্বপ্নটা তখনই বাস্তবায়ন করতে পারি, যখন কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে। প্রতিটি অভিযানে একটা স্পন্সর পেতে আমাদের অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, পাকিস্তানেও পর্বতারোহীদের রাষ্ট্রীয় পদক দেওয়া হয়। সত্যি বলতে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে একটা সময় বাংলাদেশে পর্বতারোহণ হারিয়ে যাবে।”
পতাকা প্রত্যর্পণ অনুষ্ঠানের পর শাকিলের তোলা ৫০টি ছবি নিয়ে আয়োজন করা হয় আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এর উদ্বোধন করেন রাশিয়ান হাউজের পরিচালক অ্যালেক্সান্দ্রা খ্লেভনয়ে। প্রদর্শনীতে এলব্রুস অভিযানের বিভিন্ন মুহূর্ত, পাহাড়ের সৌন্দর্য এবং অভিযাত্রার অভিজ্ঞতা ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সেক্রেটারি সাদিয়া সুলতানা জানান, প্রদর্শনীটি বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। চলবে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাখি বিশেষজ্ঞ ও অ্যান্টার্কটিকা অভিযাত্রী ইনাম আল হক, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি ডা. নিয়াজ আব্দুর রহমান, আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সীমান্ত দীপু, এমকে এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনতাসির করীম, চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এম. জাকির হোসেন খান এবং জ্যাপের এডিটোরিয়াল কনসালটেন্ট আকিব সাফওয়ান।
এর আগে পতাকা প্রত্যর্পণ অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তা প্রদর্শন করা হয় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু এবং রাশিয়ান হাউজের পরিচালক অ্যালেক্সান্দ্রা খ্লেভনয়ের।
যেভাবে এলব্রুসের চূড়ায় শাকিল
ইউরোপের সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এলব্রুসের চূড়ায় শাকিলের পৌঁছানোর দিনটি ছিল গত ২৬ সেপ্টেম্বর। রাশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি এলব্রুসের শিখরে পা রাখেন। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ অভিযান’ উপলক্ষে ঢাকার রাশিয়ান হাউজে তাঁর হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। অভিযানের উদ্দেশ্যে ১৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার পথে ঢাকা ছাড়েন তিনি।
অভিযানটির আয়োজন করে যৌথভাবে রাশিয়ান হাউজ ইন ঢাকা এবং বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। এতে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে টার্কিশ এয়ারলাইনস, জ্যাপ, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, আলিয়া শিপিং লিমিটেড, এমকে এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও নেচার ইনসাইটস। সহযোগিতায় ছিল ইউএন ভলেন্টিয়ার (ইউএনভি) এবং কিরণ স্টাডি।






