চোখ দেখেই ডায়াবেটিসের খবর দেবে এআই!

চোখ মনের কথা বলে— সে কথা তো সবার জানা। এই চোখ জোড়াই এখন জানাবে মানবদেহে কোনো রোগ বাসা বাঁধছে কি না। ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে হৃদরোগ— অনেক অসুস্থতার অগ্রিম বার্তা জানা সম্ভব হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে। বিবিসির গতকাল শুক্রবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়মিত চোখের পরীক্ষায় ব্যবহৃত হবে এআই। প্রযুক্তির এই অংশ সাহায্য করবে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তে। রোগীদের দ্রুত রোগ নির্ণয়ের আশায়, যুক্তরাজ্যের সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নর্দার্ন অপথালমিক রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (নোরি)’ হাব এই প্রকল্পের জন্য ‘ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন’ (ইউকেআরআই)-এর মাধ্যমে সরকারের কাছে থেকে অনুদান পেয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ পাউন্ড। স্বাস্থ্যবিষয়ক অন্তর্বর্তী প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং নোরির সহ-পরিচালক ম্যাথিউ ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, এই অর্থ তাদের রোগের প্রাথমিক লক্ষণ নির্ণয়ের প্রযুক্তিটি উন্নত করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রযুক্তি নিয়োজিত হবে শুধু ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ নির্ণয়ের কাজে। তবে পরে এটি ডিমেনশিয়া ও স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝতেও ব্যবহার হতে পারে। বিশেষ এই প্রযুক্তিটি রোগীদের কাছে আরও সহজে চিকিৎসা পৌঁছে দেবে বলে গত বৃহস্পতিবার আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানমন্ত্রী ক্রিস ম্যাকডোনাল্ড। তিনি জানিয়েছেন, রোগের দ্রুত শনাক্তকরণ রোগীদের জন্য উন্নত ফলাফল বয়ে আনে এবং আমাদের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) ওপর চাপ কমায়; আর এক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রোগ নির্ণয়ে এই প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হবে চোখের পেছনের ক্ষুদ্র রক্তনালি ও স্নায়ু কলা। নোরির মতে, কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশের আগেই এগুলো একজন ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে চোখের নিয়মিত স্ক্যান, এনএইচএসের স্বাস্থ্য রেকর্ড এবং কমিউনিটি ডেটা করা হবে বিশ্লেষণ। এতে করে শনাক্ত করা যাবে শরীরের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো। এগুলোই হতে পারে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। ক্যাম্পবেল বলেছেন, ‘এই বিনিয়োগ উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবনের একটি নতুন ইকোসিস্টেম তৈরি করবে।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘এখন আমাদের কাছে এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করার সক্ষমতা, বাস্তব স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশে সেগুলো পরীক্ষা করার এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা এবং পরিসর রয়েছে।’



