ভুল হাতে এআই গেলে শত কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে : বিল গেটস

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ছবি: সংগৃহীত
ভুল মানুষের হাতে পড়লে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, যাতে শত কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এ কারণে প্রযুক্তিটির ওপর কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গেটস বলেন, ‘এআই অবশ্যই এমন ঘটনা ঘটানোর মতো শক্তিশালী, যাতে শত কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তাই পুরো মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া ১০০ শতাংশ সম্ভব না হলেও, সর্বশেষ এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী অসৎ উদ্দেশ্যের মানুষের সমন্বয়ের মতো শক্তিশালী অস্ত্র আগে কখনো ছিল না।’
সম্প্রতি একের পর এক উচ্চপর্যায়ের সাইবার নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার ঘটনায় এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো উন্নত এআই প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তৈরি মডেল নিয়ন্ত্রণে কতটা সক্ষম, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
এ সপ্তাহে জানা যায়, ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি জনস্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালিয়েছিল। হামলার কয়েক মাস পরও অস্ট্রেলিয়া সরকারকে বিষয়টি জানায়নি সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, বিষয়টি ‘স্পষ্টতই গ্রহণযোগ্য নয়’।
চলতি মাসে অ্যানথ্রপিকও জানায়, ইরান-সমর্থিত হুতি হিসেবে ধারণা করা ইয়েমেনের কয়েকজন সশস্ত্র সদস্য তাদের তৈরি ক্লড এআই মডেল ব্যবহার করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দেশনা, নিয়ন্ত্রণ ও গতিপথ নির্ধারণের সফটওয়্যার তৈরির চেষ্টা করেছিল।
সিলিকন ভ্যালিতে এআই নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো প্রযুক্তিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধিতা করে আসছেন। এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে তিনি ‘ভাঁওতা’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগকে তিনি ‘বিশ্বায়নপন্থীদের ষড়যন্ত্র’ বলেও প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য দিয়েছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান ও অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই। এআইয়ের নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশের গতি কমানোরও দাবি উঠেছে।
তবে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকেও এআই প্রযুক্তির বিকাশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অঙ্গীকার আসেনি।
বুধবার ধারণ করা এবং চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে প্রচারের জন্য নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে গেটস বলেন, এআইয়ের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের ‘অবশ্যই’ কেন্দ্রীয় আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘কেউই মনে করেন না যে নিজেদের উদ্যোগে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করাই যথেষ্ট।’ তার ভাষ্য, আইন করা হলে ‘শিল্পখাতে কিছুটা বাড়তি প্রশাসনিক চাপ তৈরি হবে, তবে তারা যে কাজ করছে, তার গতি নাটকীয়ভাবে কমে যাবে না।’
এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্বের সংকটের মধ্যে পার্থক্যও তুলে ধরেন গেটস। তার মতে, সন্ত্রাসী বা দায়িত্বজ্ঞানহীন রাষ্ট্রের হাতে এআইয়ের অপব্যবহারের ঝুঁকি এখনই বাস্তব। অন্যদিকে, প্রযুক্তিটি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে যে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা, তা দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির বিষয়।
সাবেক অ্যানথ্রপিক গবেষক জ্যাকব কক্সনসহ কিছু এআই নিরাপত্তা কর্মী আশঙ্কা করছেন, অনেক এআই উন্নয়নকারী মনে করেন, এই প্রযুক্তি চলতি দশকের শেষ নাগাদ ‘আমাদের সবাইকে হত্যা করতে পারে’।
এর এক মাস আগে গেটস নীতিনির্ধারকদের কিছু পেশাকে ‘মানুষের জন্য সংরক্ষিত’ হিসেবে নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ছয় হাজার শব্দের এক প্রবন্ধে এআইয়ের কারণে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।




