তারাবতী

অলংকরণ করেছেন রজত
একটি শিশু একদিন তারা হয়ে গেল। তারপর কী হলো? সেই গল্প লিখেছে সাবিকা সামরিন। সে থাকে ঢাকায়; দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে বটমলী হোম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে
এক দেশে ছিল ছোট্ট একটি মেয়ে। ওর শরীর তারাদের মতো হলদেটে রঙের। তাই ওর নাম তারাবতী।
তারাবতী একদিন ওর মাকে বলল, ‘মা, আমি কেন তারাদের মতো আকাশে ভেসে বেড়াই না?’
এ কথা শুনে মা হেসে বললেন, ‘তুমি তো মানুষ, তুমি আবার তারা হতে যাবে কেন?’
‘কারণ আমি তারাদের মতো কাজ করি! তারারা যেভাবে মেঘ দিয়ে নিজেকে ঢাকে আবার বের হয়ে আসে; সেরকম আমিও ঝোপের মধ্যে কিছুক্ষণ বসে থাকি, আবার বের হয়ে আসি।’
‘আচ্ছা এমন এক জাদুকরের কাছে নিয়ে যাব, যে তোমাকে তারা বানিয়ে দেবে।’
এটা শুনে তারাবতী তো মহাখুশি! ওর খুশি আর ধরে না।
পরদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ওরা চলল জাদুকরের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে ওর মা জাদুকরের কাছ থেকে তারা বানানোর ওষুধ নিলেন। তারপর নিজের বাড়িতে ফিরে তারাবতীকে খাইয়ে দিলেন। এরপর সে আকাশের দিকে উঠতে লাগল এত দ্রুতবেগে যে, কী আর বলব!
তারপর?
তারপর একটি মিটিমিটি তারা আকাশে দেখা গেল। কিন্তু তারাবতী তারার কাছে পৌঁছে শুধু কাঁদছে আর বলছে, ‘আমি আবার মানুষ হতে চাই, আর তারা হব না।’
তা আর শুনবে কে? সে আকাশেই রয়ে গেল!
এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, সৃষ্টিকর্তা যাকে যেভাবে সৃষ্টি করেছেন, সেটাই তার জন্য ভালো।



