ভূত শিকারি!

ঘোস্ট হান্টারদের দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সিরিজ ও সিনেমায়
মধ্যরাতের ভারী নিস্তব্ধতা হঠাৎ চিরে দেয় হাড় হিম করা এক আর্তনাদ। পকেটে থাকা ইএমএফ মিটারের লাল বাতিটা পাগলের মতো জ্বলে ওঠে আর থার্মাল ক্যামেরার স্ক্রিনে ভেসে ওঠে মানুষের আকৃতির এক জ্বলজ্বলে অদৃশ্য তাপরেখা। ঘাড়ের কাছে কেউ যেন ফিসফিস করে বরফঠান্ডা নিঃশ্বাস ফেলে। টর্চের আলোটা কাঁপতে কাঁপতে গিয়ে পড়ে প্রাচীন কোনো ম্যানসনের রুদ্ধ দরজায়। যেখান থেকে একটু আগেই ভেসে এসেছিল শিকল টানার শব্দ। চরম রোমাঞ্চ আর মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে অজানা ভয়ের রাজত্বে হানা দেওয়ার এই পেশাদার অ্যাডভেঞ্চারই হলো ঘোস্ট হান্টিং।
বিদেশে, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইউরোপে এটি তুমুল জনপ্রিয় এক সংস্কৃতি। প্রাচীন অভিশপ্ত দুর্গ, পরিত্যক্ত মানসিক হাসপাতাল কিংবা কবরস্থানের গভীরে নাইট ভিশন ক্যামেরা, ইএমএফ ডিটেক্টর আর ডিজিটাল অডিও রেকর্ডার নিয়ে ঘোস্ট হান্টাররা নেমে পড়েন অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হতে।
বিশ্ব জুড়ে এমন কিছু লোমহর্ষক ঘোস্ট হান্টিং জোন রয়েছে, যেখানে পা রাখলে রক্তের গতি থেমে যায়। লস অ্যাঞ্জেলেসের পরিত্যক্ত বিলাসবহুল জাহাজ কুইন মেরির অন্ধকার ইঞ্জিনরুমে আজও নাকি সাঁতারের পুলে ডুবে মৃত শিশুদের কান্নার আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হয়। আমেরিকার দানবীয় পরিত্যক্ত কারাগার ইস্টার্ন স্টেট পেনিটেনশিয়ারির নিঃসঙ্গ সেলে কুখ্যাত কয়েদিদের অতৃপ্ত আত্মারা এখনো নাকি নখ দিয়ে দেয়াল আঁচড়ায়। প্যারানরমাল গবেষকদের কাছে এসব স্থান যেন একেকটি তীর্থস্থান।
বাস্তব দুনিয়ার এই অন্ধকারের রাজত্বে সবচেয়ে আতঙ্কের ও কিংবদন্তি নাম হলো এড ও লরেন ওয়ারেন দম্পতি। আমিটিভিলের কুখ্যাত ভৌতিক বাড়ি থেকে শুরু করে রক্ত হিম করা সব প্যারানরমাল কেস তদন্ত করে তারা কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন পৃথিবী, যাদের অমীমাংসিত রহস্য আজ রূপ নিয়েছে হলিউডের ‘দ্য কনজুরিং’ সিনেমায়। ঘোস্ট হান্টিারদের দেখা যায় বিভিন্ন সিরিজেও।



