স্বাস্থ্য টিপস
এন্ডোমেট্রিওসিস থেকে বাঁচুন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এন্ডোমেট্রিওসিস হলে জরায়ুর ভেতরের স্তরের (এন্ডোমেট্রিয়াম) কোষগুলো জরায়ুর বাইরে, যেমন— ডিম্বাশয়, ফেলোপিয়ান টিউব বা তলপেটের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এন্ডোমেট্রিওটিক টিস্যুতে মাসিকের সময় রক্তপাত হয়ে ডিম্বাশয়ে সিস্ট তৈরি হয়, যাকে চকলেট সিস্ট বলে। এই সিস্টই ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ রোগীর বন্ধ্যত্বের জন্য দায়ী।
এই সিস্টের চাপের কারণে পাশের ভালো ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ডিমের ভাণ্ডার বা ওভারিয়ান রিজার্ভ কমে যায়। সিস্টের সঙ্গে তলপেটের পেরিটোনিয়াম, খাদ্যনালি, মূত্রথলি জট পাকায়। এতে ডিম্বাণু বের হলেও ফেলোপিয়ান টিউব তা ঠিকমতো লুফে নিতে পারে না।
লক্ষণ: এন্ডোমেট্রিওসিস হলে মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা, তলপেটে সার্বক্ষণিক ব্যথা, সহবাসের সময় ব্যথা, মাসিকের সময় প্রস্রাব করতে ব্যথা, পায়ুপথে ব্যথা— এমনকি বন্ধ্যত্ব হতে পারে।
চিকিৎসা: বন্ধ্যত্ব না থাকলে চকলেট সিস্ট রোগীদের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, প্রজেস্টেরন দিতে হতে পারে। কিন্তু রোগী বাচ্চা নিতে চাইলে তাদের জন্য এসব ওষুধ নয়। সিস্টের আকার ছোট হলে এবং একটি ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকলে সরাসরি ওভুলেশন ইনডাকশন ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সিস্টের আকার বড় হলে ওভারিয়ান রিজার্ভ চেক করে ল্যাপারোস্কপির সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে সিস্ট অপসারণের তিন মাসের মধ্যে রোগীকে দ্রুত গর্ভধারণের চেষ্টা করতে হবে। গর্ভধারণে বেশি দেরি করলে সিস্টটা আবার দেখা দিতে পারে। স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ না হলে IUI অথবা IVF-এর ব্যবস্থা নিতে পারেন।
লেখক : গাইনি, প্রসূতি ও বন্ধ্যত্ব রোগ বিশেষজ্ঞ, আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০।




