ছবির মানুষ

ঝলমলে ল্যাবরেটরির আধো-অন্ধকারে অদ্ভুত নীল আলো ছড়ানো এক কাচের জারের দিকে তাকিয়ে তিনি এক যুগ পার করে দিয়েছিলেন। চোখের সামনে তখন কোনো পুরস্কারের ঝিলিক ছিল না; ছিল শুধু অজানা এক খনিজের তথ্য উন্মোচনের জেদ। গ্লাভসহীন হাতে ফুটন্ত তেজস্ক্রিয় মৌলের ফ্লাস্ক নাড়াতে নাড়াতে আঙুলগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু কাজের গতি কমেনি একটুও।
সহকর্মীদের ভ্রূকুটি আর সমাজের বঞ্চনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি ইতিহাসের পাতায় প্রথম নারী হিসেবে নোবেল জয়ের নজির গড়লেন। শুধু তাই নয়, ভিন্ন দুটি ক্যাটাগরিতে বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নোবেল পুরস্কারের খেতাব নিজের নামের পাশে জুড়লেন। অথচ সেই মানুষটিই যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আহত সৈনিকদের বাঁচাতে নিজের হাতে এক্স-রে ভ্যান নিয়ে ফ্রন্টলাইনে ছুটে গেলেন, তখন তার গায়ে ছিল সাধারণ নার্সের পোশাক। নোবেল মেডেলগুলো দেশের প্রয়োজনে সোনা হিসেবে গলিয়ে দিতেও একমুহূর্ত ভাবেননি। জীবনের শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য মরণঘাতী রশ্মি তার রক্তকণিকাগুলো খেয়ে নিলেও তিনি হাসিমুখে বিজ্ঞানের বেদিমূলে নিজেকে নিঃশেষ করে গেছেন।
বলুন তো তিনি কে?
উত্তর পাঠাতে হবে ১১ নভেম্বরের মধ্যে। সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে একজন পাবেন ১০০০ টাকার বই।



