প্রবীণদের খাবার কেমন হবে

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পুষ্টির চাহিদা ও খাবার হজমের ধরনে পরিবর্তন আসে। তাই বয়স যখন ৬০, তখন শুধু পেট ভরে খাওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং খাবারের তালিকায় প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি আছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সুষম খাবার শরীরের শক্তি ধরে রাখতে, হাড় ও পেশি সুস্থ রাখতে, হজম ভালো রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রবীণদের মধ্যে অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও অস্টিওপোরোসিসের সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এ কারণে খাবারের তালিকায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের পেশি ক্ষয় বা সারকোপেনিয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
দিনাজপুরের রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পুষ্টিবিদ লিনা আক্তার বললেন, ‘বয়স্কদের মূলত অস্টিওআর্থ্রাইটিস এবং অস্টিওপোরোসিসের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এজন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-যুক্ত খাবার তালিকায় রাখা ভালো। আবার সারকোপেনিয়া বা পেশি ক্ষয়রোধে পর্যাপ্ত প্রোটিনও প্রয়োজন। দুধ, ডিম, মাছ ও মাংস এক্ষেত্রে ভালো উৎস হতে পারে।’
প্রবীণদের অনেকেরই গ্যাস্ট্রিক, বদহজমসহ নানা ধরনের হজমের সমস্যা থাকে। তাই খাবার সহজপাচ্য ও নরম হওয়া ভালো। তবে শুধু নরম খাবার হলেই চলবে না, সেটি হতে হবে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও সুষম।
স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার প্রবণতাও বয়স বাড়ার সঙ্গে দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার উপকারী হতে পারে। লিনা আক্তার বললেন, ‘সামুদ্রিক মাছ সপ্তাহে এক থেকে দুদিন রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণও জরুরি।’
প্রবীণরা ভাত খেতে পারবেন কি না কিংবা দিনে কতবার ভাত খাবেন এ নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বয়সের ভিত্তিতে সবার জন্য একই পরিমাণ ভাত নির্ধারণ করা ঠিক নয়। এ ব্যাপারে লিনা আক্তার বললেন, ‘প্রবীণরা দিনে তিনবেলাও ভাত খেতে পারেন, যদি পরিমাণটা পরিমিত হয়। এখানে মূল বিষয় হলো, খাবারের পরিমাণ এবং ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার রাখা।’
প্রবীণদের সুষম খাবারের তালিকায় তাই ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, প্রোটিন, ফাইবার ও প্রয়োজনীয় ক্যালরির ভারসাম্য থাকা দরকার। পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত হালকা ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ।







