আনকোরা
কাতানের আরেক কেতা

মডেল: মনোয়ারা জলি ও আয়শা লিন্ডা। সাজ: হাসান খান। স্টাইলিং: খালিদ ত্বকী। ছবি: দুর্জয়
বিশ্ব ফ্যাশনে ফিউশন ডিজাইন এবং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা। সেই দর্শন থেকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র কাতান নিয়ে নতুন সংগ্রহ প্রকাশ করেছেন উদীয়মান নকশাকার খালিদ ত্বকী। জানা যাক তারই বয়ানে
আমরা সাধারণত কাতানকে একটি ঐতিহ্যবাহী শাড়ির কাপড় হিসেবেই চিনি। বিয়ে, উৎসব কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে বহু বছর ধরে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু একজন নকশাকার হিসেবে আমি সবসময় বিশ্বাস করি, একটি ফেব্রিকের সম্ভাবনা তার প্রচলিত ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি কাপড়কে নতুনভাবে উপস্থাপন করার মধ্যেই একজন ডিজাইনারের সৃজনশীলতা প্রকাশ পায়। সে কারণেই কাতানকে ওয়েস্টার্ন টেইলরিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিই।
আমার এই কালেকশনে ব্লেজার ও কটির মতো স্ট্রাকচার্ড সিলুয়েট নির্বাচন করার পেছনে মূল কারণ ছিল কাতানের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য। এটি পোশাককে একটি সুন্দর আকার দেয়, যা ওয়েস্টার্ন ফরমালওয়্যারে নিয়মিতই দেখা যায়। পাশাপাশি সিল্ক ব্যবহার করেছি ডিজাইনে একটি প্রিমিয়াম ফিনিশ, নরম টেক্সচার এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা যোগ করার জন্য।
এমন একটি ফিউশন তৈরি করতে চেয়েছি, যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতা নিজ নিজ পরিচয় ম্লান না করেই একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠবে
আমার কাছে এ কালেকশন শুধু পোশাকের নকশা নয়; বরং বাংলাদেশের টেক্সটাইল ঐতিহ্যকে সমসাময়িক ফ্যাশনের মাধ্যমে নতুনভাবে উপস্থাপনের একটি প্রচেষ্টা। এমন একটি ফিউশন তৈরি করতে চেয়েছি, যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতা নিজ নিজ পরিচয় ম্লান না করেই একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠবে।
এ নকশার মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছি, আমাদের দেশীয় কাপড় শুধু ট্র্যাডিশনাল পোশাকের মধ্যেই আটকে নেই। সঠিক গবেষণা, টেক্সটাইল বোঝাপড়া, টেইলরিং এবং ডিজাইন চিন্তার মাধ্যমে একই কাপড় আন্তর্জাতিক মানের সমসাময়িক ফ্যাশনেও সমানভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
আমার নকশা দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘থিংক গ্লোবাল, ডিজাইন লোকাল’। বিশ্বাস করি, একজন নকশাকারের কাজ শুধু আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড অনুসরণ করা নয়; বরং নিজের দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, কারুশিল্প এবং টেক্সটাইলকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে উপস্থাপন করা।
বাংলাদেশের তাঁতশিল্প, হ্যান্ডলুম, বুননশৈলী এবং দেশীয় কাপড় আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনশীল ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক সময় বিদেশি কাপড় ও নকশা বেশি গুরুত্ব পায়। আমি মনে করি, নিজেদের টেক্সটাইলের মধ্যেও অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে, যা সঠিকভাবে উপস্থাপন করলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হতে পারে। এ কারণেই আমার নকশায় যতটা সম্ভব দেশীয় ফেব্রিক এবং লোকাল মোটিফ ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। আমি চাই, যখন কেউ এ পোশাক দেখবেন, তখন শুধু একটি সুন্দর ব্লেজার বা কটিই নয়; বরং বাংলাদেশের তাঁতশিল্প, বুনন ঐতিহ্য এবং কারুশিল্পের প্রতিফলনও যেন দেখতে পান।




