Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
সচেতন করতে জহিরের দেয়াল লিখন
রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • চট্টগ্রাম
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • চট্টগ্রাম
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় অপূর্বা

ফোকাস

মাস্টারশেফ ইসমাইলের রান্নার ভুবন

অলকানন্দা রায়
agamir somoy
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৯:০২
মাস্টারশেফ ইসমাইলের রান্নার ভুবন

মাস্টারশেফ ইসমাইল হোসেন

বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া তরুণ শেফদের মধ্যে অন্যতম নাম মাস্টারশেফ ইসমাইল হোসেন। রাজশাহীতে বেড়ে ওঠা এই রন্ধনশিল্পী বর্তমানে লন্ডনে হেড শেফ হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি বিবিসির জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ‘মাস্টারশেফ: দ্য প্রফেশনালস’-এ অংশ নিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। বিশেষ করে তার রান্না করা হালিম ও বিফ ভুনা বিচারকদের মুগ্ধ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্বাদকেও পৌঁছে দিয়েছে এক নতুন উচ্চতায়। ইসমাইল হোসেনের এই যাত্রা শুধু একজন শেফের সাফল্যের গল্প নয়, বরং কঠোর অধ্যবসায় আর শেকড়কে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার গল্পও। তার রান্নার দর্শনে তাই একসঙ্গে মিশে থাকে ক্ল্যাসিক টেকনিক ও বাংলা খাবারের গভীর স্মৃতি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অলকানন্দা রায়

প্রশ্ন: লন্ডনের মানুষ ফ্লেভারের ব্যাপারে খুব সচেতন। বাঙালি মশলার সেই ঝাঁজ বা স্বাদকে ক্লাসিক্যাল ব্রিটিশ বা ইউরোপীয় রান্নার কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আপনাকে কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে?

ইসমাইল হোসেন: রান্নাবান্নার সঙ্গে আছি দীর্ঘদিন। প্রায় ১৬-১৭ বছর, ফলে এই জানা-বোঝার বিষয়গুলো কাজ করতে করতে আয়ত্ত হয়ে গেছে। অনেকেই মনে করেন, ব্রিটিশ মানুষ কিংবা বিদেশি মানুষ ঝাল খায় না কিংবা মসলা খায় না। ‍এইসব আমরা যেভাবে প্রতিদিন খাই, ওরা সেভাবে খায় না। কিন্তু তারা ঝাল খাবার পছন্দ করে; শুধু ঝাল খায় তাই নয়, তারা নানা ধরনের মসলা আর ফ্লেভারযুক্ত খাবারও পছন্দ করে। আমি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় শিখেছি, কীভাবে রান্নায় মসলা ও ফ্লেভারের ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়।

প্রশ্ন: বাঙালি রান্নার মূল হলো মশলা কষানো বা ‘ভুনা’ করা। মাস্টারশেফের মতো সীমিত সময়ে সেই খাঁটি দেশি স্বাদটা ফিরিয়ে আনা কি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল?

ইসমাইল হোসেন: চ্যালেঞ্জিং অবশ্যই ছিল, কারণ সময় অনেক কম, কাজ অনেক বেশি। মাস্টারশেফের জন্য যখন মেন্যু প্ল্যান করতাম, তখন চিন্তা করে দেখতাম কোনটা করতে কতক্ষণ লাগবে। সেভাবেই আমি প্র‍্যাকটিস করতাম। কোনো আইটেম করতে যদি ২০ মিনিট কিংবা আধা ঘণ্টা, বা এক ঘণ্টা লাগে, সেক্ষেত্রে কোনো টেকনিক ইউজ করে সময়টা কমিয়ে আনা যায় কি না, এটা নিয়ে অনেক রিসার্চ করতাম, সময় দিতাম। হিট হাই হলে কেমন হবে, কিছু টেকনিক যেমন-সবকিছু একসঙ্গে না করে আলাদা আলাদা প্যানে অনেক হাই হিটে মসলা কষানো, এর ফলে খুব তাড়াতাড়ি হবে। তারপর সময়টা কমানোর জন্য স্বাভাবিক পানি ব্যবহার না করে গরম পানি ব্যবহার করা। আদা-রসুনের মসলা আগে দিয়ে দেওয়া যাতে তাড়াতাড়ি রান্না হয়। এই সব টেকনিকগুলো ইউজ করেছি। এটা তো শুধু রান্না না, এটা একটা টেলিভিশন শো। ওখানে ৮-৯টা ক্যামেরা আপনার ওপর আছে, তারপর অনেক বড় বড় জাজ, অনেক বড় বড় শেফ আপনার আশেপাশে। সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া। আবার ওই সময়ের ভেতরেই ইন্টারভিউ হচ্ছে, নিজেকে কন্ট্রোল করা, নিজের নার্ভকে কন্ট্রোল করা-আমি মনে করি এটা ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং পার্ট।

প্রশ্ন: বিচারকরা আপনার ‘হালিম' বা ‘বিফ রেজালা’র খুব প্রশংসা করেছেন। এই অতি পরিচিত খাবারে এমন কী ‘সিক্রেট টাচ’ দিয়েছিলেন যা তাদের কাছে একদম নতুন মনে হয়েছে?

ইসমাইল হোসেন: দেখুন, আমি সবসময় বলি, আই অ্যাম নট ট্রাইং টু মেক বাংলাদেশি ফুড বেটার, আই ওয়াজ ট্রাইং টু ব্রিং দ্য বাংলাদেশি ফুড অ্যাজ অথেন্টিক অ্যাজ পসিবল। আমি চেয়েছিলাম এটাকে অথেন্টিক করতে, যাতে আমি ছোটবেলা থেকে যা খেয়ে বড় হয়েছি বা বাংলাদেশে আমরা যা খাই, তারা যেন ঠিক সেই স্বাদটাই পায়। এটাই ছিল মূল লক্ষ্য। এখানে সিক্রেট টাচ বলতে তেমন কিছু নেই। তবে সমস্যা ছিল আমরা যেসব ঝাল খাবার খাই কিংবা যেমন মসলা খাই, সেটাকে সবার জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, তারপরে নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে কাজ শেষ করা। এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জিং ছিল; ওই যে বললাম-টুকটাক টেকনিক ইউজ করা! প্রোগ্রামের জন্য যখন মেনু বা রেসিপি লিখতাম, এমনভাবে প্ল্যান করতাম যেন তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়। আর সিক্রেট টাচ হচ্ছে, সব মশলা ভালোমতো কুক করা; কোনো কিছু যেন বেশি বা কম না হয়। সবকিছু যেন পরিপূর্ণরূপে রান্না হয়। এছাড়া কিছু মশলা ব্যবহার করেছি যা স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে। আসলে এর পেছনে কোনো বিশেষ গোপন রহস্য নেই। শুধু রান্নার প্রক্রিয়া কিংবা কতক্ষণ রান্না করতে হবে কিংবা কখন কী করতে হবে, রান্নার এই প্রণালীটাই আসল সিক্রেট।

প্রশ্ন: আপনার হাতের রান্নায় সেই ‘রাজশাহীর ছোঁয়া' বা ‘মায়ের হাতের স্বাদ’ কি বিচারকরা খুঁজে পেয়েছিলেন? তারা কি কখনো জানতে চেয়েছেন আপনার এই স্বাদের রহস্য কী?

ইসমাইল হোসেন: ওরা তো কখনো রাজশাহীর খাবার কিংবা আমার মায়ের হাতের খাবার কখনো খায়নি, তাই ওরা সরাসরি সেটা বলতে পারবে না। কিন্তু আমি যা ট্রাই করেছি বা টেস্ট করেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে যে, দিস ইজ দ্য অথেন্টিক ফুড দ্যাট ইউ নো মাই মম ইউজড টু কুক অ্যান্ড আই ইউজড টু ইট। রেসিপি নিয়ে আমি আম্মার সঙ্গে কথা বলতাম, সাজেশন নিতাম-এটা কীভাবে করব, কী করলে ভালো হয়? তার সঙ্গে সবসময় আলোচনা করতাম। এখন ঠিক ওই স্বাদটাই ওরা পেয়েছে কি না তা বলতে পারব না, বাট আই লাইকড ইট অ্যান্ড আই থট আই ডিড আ ভেরি গুড জব ইন ক্রিয়েটিং মাই মম’স রেসিপি।

এখন ওরা রহস্য জানতে চেয়েছে কি না, ইউ নো দে নো আই কুক উইথ দ্য হার্ট। আই থিঙ্ক দ্যাটস দ্য মোস্ট ইম্পর্টেন্ট পার্ট। আপনি যখন ভালোবাসার কোনো কাজ মন থেকে করবেন এবং নিজের সবটুকু প্যাশন ঢেলে দেবেন, তখন রেজাল্ট আসবেই। আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। আমি যখন রান্না করতাম, ওরা সবসময় আশেপাশে থাকত। রান্নার ঘ্রাণ কিংবা স্বাদ সবসময় ওরা পেত। বাট সেখানে কোনো রহস্য বা মিস্ট্রি বলে কিছু ছিল না। কুকিং ইজ পিউরলি প্র‍্যাকটিস অ্যান্ড ইয়োর টেস্ট বাড।

প্রশ্ন: রান্না কি আপনার কাছে শুধুই রেসিপি মেনে চলা, না কি ক্যানভাসে ছবি আঁকার মতো কোনো শিল্প? নতুন কোনো ডিশ তৈরি করার সময় আপনার মাথায় আগে কী আসে, রং, সুগন্ধ না কি স্বাদ?

ইসমাইল হোসেন: আমরা যারা প্রফেশনাল শেফ, আমাদের কাছে রেসিপি জাস্ট একটা গাইডলাইন। রেসিপি হচ্ছে জুনিয়রদের শেখানোর জন্য কিংবা স্রেফ বইয়ে লিখে রাখার জন্য। আমি কখনোই রেসিপি ফলো করি না। আমি রেসিপি পড়ি শুধু একটা আইডিয়া নেওয়ার জন্য বা নোট নেওয়ার জন্য, যাতে ভবিষ্যতে কাজে লাগে। কিন্তু আপনি ঠিকই বলেছেন, রেসিপি একটা ক্যানভাসের মতো, আমি একজন শিল্পী আর খাবার হলো সেই শিল্প। রেসিপি স্রেফ একটা গাইডলাইন বলছি কারণ সেখানে সবকিছু লেখা থাকলেও আপনি সবসময় সব উপকরণ একরকম পাবেন না। উদাহরণস্বরূপ, ধরুন রেসিপিতে টমেটো আছে; কিন্তু আপনি যে টমেটো কিনলেন সেটা হয়তো বেশি পানসে, অথবা বেশি টক বা বেশি মিষ্টি। তাই প্রতিবার রান্না করলে স্বাদ একদম হুবহু আসবে না। আপনাকে চেখে দেখতে হবে এবং বিচার করতে হবে আপনার এক কেজি টমেটো লাগবে নাকি ৫০০ গ্রাম, নাকি ১০০ গ্রাম।

রান্নার ক্ষেত্রে শেষ কথা বলে কিছু নেই। নতুন রেসিপি করার সময় মাথায় রাখতে হয়, খাবারের দাম, খাবারের রং, স্বাদ, ফ্লেভার এবং খাবার তৈরি করতে কতক্ষণ সময় লাগবে। এই সময়টা কি উপযুক্ত, নাকি খাবারটা দ্রুত তৈরি করার জন্য অন্য কোনো টেকনিক ইউজ করতে হবে-এগুলো চিন্তা করতে হয়। তারপর আমার সু-শেফ বা জুনিয়র শেফ যারা খাবারটা বানাবে, আমি যেভাবে চাই সেভাবে তারা ডেলিভারি দিতে পারবে কি না সেটাও দেখতে হয়। মাঝেমধ্যে রেসিপি সহজ করতে হয় যাতে অন্যরা সহজেই তৈরি করতে পারে। এরপর খাবারটা পরিবেশন কীভাবে করতে হবে, কোন প্লেটে দিলে খাবারটা বেশি ফুটবে, প্লেটের রং কেমন হবে, এসব দেখতে হয়। আর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘সাস্টেইনেবিলিটি’। খাবারটা তৈরি করার সময় খুব বেশি অপচয় হচ্ছে কি না, কিংবা সেই উচ্ছিষ্ট দিয়ে অন্য কিছু করা যাবে কি না, দিস ইজ অলসো ভেরি ইম্পর্টেন্ট। কারণ যখন প্রফেশনাল কিচেনে রেসিপি তৈরি করবেন, তখন সেটা শুধু আপনার জন্য না, পুরো টিমের জন্য।

আমি মনে করি একটা রেসিপি পারফেক্ট করতে হলে অন্তত পাঁচবার সেটা রান্না করতে হবে। আপনি যতবার সেটা ট্রাই করবেন, নিজেকে সমালোচনা করবেন এবং নিজের ভুলগুলো থেকে শিখবেন, তত আপনার রেসিপি ভালো হবে। পরের ভার্সনগুলো আরও উন্নত হবে। আমি এভাবেই কাজ করি।

প্রশ্ন: একজন হেড শেফ হিসেবে আপনার কিচেনে কোনো ‘সিগনেচার রুল’ বা নিয়ম আছে কি, যা ইসমাইল হোসেনকে অন্যদের থেকে আলাদা করে?

ইসমাইল হোসেন: আমার সিগনেচার রুল হচ্ছে, কিচেন সব জায়গাতেই এক; আপনাকে অবশ্যই সময়নিষ্ঠ হতে হবে। আপনার আচরণ এবং দৃষ্টিভঙ্গি ভালো হওয়া জরুরি। আমি যখন কোনো শেফ নিয়োগ করি, অবশ্যই তার অভিজ্ঞতা দেখি, কিন্তু সবচাইতে গুরুত্ব দেই তার অ্যাটিটিউড কেমন সেটির ওপর। আপনার যদি শেখার ক্ষুধা থাকে, তবে আমি আপনাকে শেখাতে পারব।

আমি আপনাকে একজন পারফেক্ট শেফ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। কিন্তু যদি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বা অ্যাটিটিউড ঠিক না থাকে, তবে আপনি কিছুই করতে পারবেন না। তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, ‘আপনি যা দেবেন, তা-ই ফিরে পাবেন’। তাই আপনাকে মানুষের যত্ন নিতে হবে। আপনার টিমের যত্ন নিতে হবে, নিজের সেকশনের যত্ন নিতে হবে। আর সবচাইতে বড় কথা, আপনাকে আপনার কাস্টমারের যত্ন নিতে হবে। আপনি যদি একজন শেফকে ভালোবেসে কিছু করতে বলেন, তবে সে আপনাকে অনেক বেশি সম্মান দেবে এবং আপনার অভাব অনুভব করবে। আমি মনে করি এটাই সবচাইতে জরুরি বিষয় এবং এই বৈশিষ্ট্যই আমাকে অন্য শেফ বা অন্য কিচেন থেকে কিছুটা আলাদা করে তোলে।

প্রশ্ন: পেছনের শিক্ষার্থী ইসমাইলকে নিয়ে গর্ব হয়? সাফল্যের সংজ্ঞা কি আপনার কাছে বদলে গেছে?

ইসমাইল হোসেন: হ্যাঁ, আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ব করি, কারণ আমার কাছে কোনো পর্যাপ্ত সোর্স ছিল না, কারো কাছ থেকে বিশেষ সাহায্যও পাইনি। আমার কাছে অ্যাসাইনমেন্ট করার মতো ল্যাপটপ ছিল না। আমার বন্ধুরা যখন কলেজ বা ভার্সিটি থেকে এসে খেলতে যেত কিংবা ঘুরতে যেত, আমি তখন ড্রেস চেঞ্জ করে কাজে যেতাম। তাই আমি যা করেছি এবং যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমি অনেক গর্বিত। একেকজনের কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা একেক রকম। আই ডোন্ট থিঙ্ক আই অ্যাম সাকসেসফুল ইয়েট। আমি যেখানে পৌঁছাতে চাই, সেখানে এখনো যেতে পারিনি বলে আমি মনে করি। আই স্টিল হ্যাভ আ ফার ওয়ে টু গো। আমরা শুধু একটা কাজই করতে পারি, লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া। ফলাফলের দিকে না তাকিয়ে কঠোর পরিশ্রম করা। আমি বিশ্বাস করি সাফল্য মানে শুধু কাজ করে যাওয়া।

প্রশ্ন: মাস্টারশেফের সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর এই জার্নিতে আপনার স্ত্রী বা পরিবারের ভূমিকা ঠিক কতটা ছিল?

ইসমাইল হোসেন: পরিবারই আমার কাছে সব কিছু। তাদের সমর্থন ছাড়া আমি এখানে পৌঁছাতে পারতাম না। আমি শুটিং করছিলাম, তখন আমার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র দুই বা তিন মাস। লন্ডনে আমার স্ত্রী ছাড়া আমার আর কেউ নেই। আমার স্ত্রীকে তাই আমার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। নাহলে আমি একদিনের জন্যও শুটিংয়ে যেতে পারতাম না। সে একাই সব কিছু সামলেছে। পরিবার পাশে না থাকলে একা হাতে বাচ্চা মানুষ করা মোটেও সহজ কাজ নয়, কিন্তু সে আমার জন্য সেটা করেছে। তাই মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে এবং সব দিক থেকেই তার কাছ থেকে আমি অনেক বড় সমর্থন ও সাহায্য পেয়েছি।

বাংলাদেশ থেকে আমার ছোট ভাই আমাকে সাপোর্ট করে এসেছে। আব্দুল গণি ভাই, তাকে ছাড়া আমার আজ লন্ডনে থাকা হতো না। পুরো শো চলাকালীন সে আমাকে সাহস দিয়েছে, শান্ত রেখেছে এবং আমাকে নিয়ে গর্ব করেছে। আর স্ত্রী সবসময় ইতিবাচক কথা বলত এবং আমার ওপর তার অগাধ আত্মবিশ্বাস ছিল, আমি মনে করি এই বিশ্বাসটাই আমাকে অনেক দূর নিয়ে এসেছে।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে কি ‘শেফ ইসমাইল হোসেন’-কে নিজের কোনো রেস্তোরাঁ বা চেইন শপে দেখার সম্ভাবনা আছে, যেখানে পুরোপুরি বাঙালি ফিউশন রাজত্ব করবে?

ইসমাইল হোসেন: একশ ভাগ। এটাই আমার পরিকল্পনা এবং এই লক্ষ্য নিয়েই আমি কাজ করছি। কিন্তু লন্ডনের মতো জায়গায় রেস্তোরাঁ বা চেইন শপ খোলা এবং পরিচালনা করা খুব একটা সহজ নয়। আমি চেষ্টা করছি। কয়েকজন ইনভেস্টর, কিছু আগ্রহী ব্যবসায়ী এবং রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই কোনো সুখবর পাবেন। হ্যাঁ, সেখানে বাঙালি খাবারের রাজত্ব থাকবে। কারণ লন্ডনের ৯০% ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁই মূলত বাংলাদেশিরা চালায়। আমি বাংলাদেশ থেকে সেই আসল স্বাদ এখানে নিয়ে আসতে চাই। আমি খাবারকে উন্নত করার কথা বলছি না, আমি লন্ডনের বুকে আমাদের খাবারের সেই আসল বা খাঁটি স্বাদটাই ফিরিয়ে আনতে চাই।

প্রশ্ন: বিদেশে এখন অনেক তরুণ বাঙালি শেফ কাজ করছেন। তাদের জন্য বা যারা বাংলাদেশ থেকে স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী? শুধু ভালো রান্না জানলেই কি মাস্টারশেফ হওয়া যায়?

ইসমাইল হোসেন: আমার পরামর্শ হলো, কাজ করার জন্য ভালো একটা জায়গা খুঁজে নিন, ভালো একজন হেড শেফের অধীনে কাজ শুরু করুন। নিজের কাজকে সম্মান করতে শিখুন, উপকরণের প্রতি যত্নশীল হোন এবং কঠোর পরিশ্রম করে যান। কিচেনের সবকিছু আপনার হেড শেফের কাছ থেকে শিখে ফেলা সম্ভব হবে না। মূলত তার কাছ থেকে শিখতে পারবেন মূল ভিত্তিটা। বাকিটা আপনাকে শিখতে হবে বই পড়ে, অনলাইন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেট থেকে। একটা উদাহরণ দেই, যারা স্কুল-কলেজে ভালো রেজাল্ট করে, তারা কিন্তু সবকিছু শুধু টিচারদের কাছ থেকেই শেখে না। বাসায় এসে প্র‍্যাকটিস করে, রিসার্চ করে এবং আরও পড়াশোনা ও লেখালেখি করে। সফল হওয়ার এটাই একমাত্র পথ। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার পরামর্শ এটাই, পরিশ্রম করে যান, নিজের প্যাশন আর নিজের গল্পটাকে অনুসরণ করুন। অন্যের কী আছে আর আপনার কী নেই, তা নিয়ে পড়ে না থেকে সমাধানের পথ খুঁজুন।

আমি যখন রান্না শিখছিলাম, বড় কোনো ইউনিভার্সিটি বা স্কুলে যাওয়ার মতো টাকা আমার ছিল না। কিন্তু আমি আমার পথ খুঁজে নিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম অন্য কোনো উপায়ে শেখা যায় কি না। আমি প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে ভেবেছি। বিকেলে আড্ডা না দিয়ে আমি পড়াশোনা করেছি, অন্যদের জন্য বিনা পারিশ্রমিকেও কাজ করেছি শেখার জন্য। আর শুধু ভালো রান্না পারলেই কি মাস্টারশেফ হওয়া যায়? আমি তা মনে করি না। কারণ মাস্টারশেফ স্রেফ একটা প্ল্যাটফর্ম। সেখানে যেতে হলে আপনাকে রান্নার সব টেকনিক, সস এবং খুঁটিনাটি সবকিছু সম্পর্কে জানতে হবে। কারণ শো-তে তারা আপনাকে যেকোনো বিষয়ে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারে। তাই আপনাকে সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমি মনে করি, এই ইন্ডাস্ট্রিতে বা কিচেনে দীর্ঘ সময় কাজ করার যে অভিজ্ঞতা, সেটাই আপনাকে আসল প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে। তাই শুধু রান্না জানলেই মাস্টারশেফে যাওয়া যাবে না, এর সঙ্গে জীবনবোধ এবং কাজের অভিজ্ঞতা থাকা দরকার।

প্রশ্ন: রাজশাহীর সেই মেঠোপথ থেকে লন্ডনের বিখ্যাত কিচেন, এই পুরো গল্পটাকে যদি একটা রান্নার স্বাদের সাথে তুলনা করতে হয়, সেটা কোন স্বাদ হবে-ঝাল, মিষ্টি না কি মিশ্র?

ইসমাইল হোসেন: রাজশাহী থেকে লন্ডন; কখনো ১ নম্বর রান্না, আবার কখনো ১০০ নম্বরের নিচে জীবন। সব রকমের স্বাদ বা অভিজ্ঞতা না থাকলে তো অন্যটার মূল্য বোঝা যায় না। অন্ধকার না থাকলে যেমন আলোর গুরুত্ব বোঝা যায় না, সাদা ছাড়া কালোর মর্ম বোঝা যায় না। একটা জীবনে এর সবই দরকার আছে। আমি আনন্দিত যে রাজশাহীর মতো ছোট একটি শহরে বড় হওয়ার সময় আমি এই সবকিছুর অভিজ্ঞতা পেয়েছি। পরিবারের সমস্যা, আর্থিক টানাপোড়েন, স্কুল-কলেজের প্রতিকূলতা-এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে আমি গিয়েছি বলেই আজ বুঝতে পারি যে একটি ভালো জীবন কেন এবং কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

আসলে এগুলো থেকেই শিক্ষা নিতে হয়। লন্ডনে আসার পর আমি অনেক সংগ্রাম করেছি, অনেক কষ্ট করেছি। এজন্য আমি খুশি। আমি সেই কষ্টের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আমি আনন্দিত এখানে আমাকে সাহায্য করার জন্য কেউ ছিল না। আমার প্রয়োজনের আগে যদি আমি সব সাহায্য পেয়ে যেতাম, তবে সম্ভবত আজ এতদূর আসতে পারতাম না। তাই আমার মনে হয়-টক, ঝাল, মিষ্টি, লবণ, তেতো-সবকিছু মিলেই জীবন। একটি ছাড়া অন্যটির কোনো মানে নেই। পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতার জন্য আপনার জীবনে সবকিছুরই স্বাদ থাকা প্রয়োজন।


রেসিপিঅপূর্বাইসমাইল হোসেনমাস্টারশেফরান্নার ভুবনকিচেন
    শেয়ার করুন:
    মন্ত্রণালয়ের নির্দেশও মানে না আরইবি

    মন্ত্রণালয়ের নির্দেশও মানে না আরইবি

    ২৪ মে ২০২৬, ০০:০০

    সাগরে তেল-গ্যাসে নতুন আশা দরপত্র আহ্বান আজ

    সাগরে তেল-গ্যাসে নতুন আশা দরপত্র আহ্বান আজ

    ২৩ মে ২০২৬, ২৩:২৪

    ধানমন্ডি লেকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র : ক্ষমতার খপ্পরে সংস্কৃতি!

    ধানমন্ডি লেকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র : ক্ষমতার খপ্পরে সংস্কৃতি!

    ২৪ মে ২০২৬, ০১:০২

    ঝাঁক বেঁধে বড় আন্দোলনের পথে তেলাপোকা

    ঝাঁক বেঁধে বড় আন্দোলনের পথে তেলাপোকা

    ২৪ মে ২০২৬, ০০:৩৮

    সচেতন করতে জহিরের দেয়াল লিখন

    সচেতন করতে জহিরের দেয়াল লিখন

    ২৩ মে ২০২৬, ০৫:০৭

    কোয়াডের তিন দিন আগেই ভারতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    কোয়াডের তিন দিন আগেই ভারতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    ২৩ মে ২০২৬, ২৩:১৮

    ত্রিশালে ‘নজরুল মেলা’ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

    ত্রিশালে ‘নজরুল মেলা’ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

    ২৩ মে ২০২৬, ২২:৫৬

    সিনেমা দেখে দীর্ঘ সময়ের করতালি, গুরুত্ব কতটা?

    সিনেমা দেখে দীর্ঘ সময়ের করতালি, গুরুত্ব কতটা?

    ২৪ মে ২০২৬, ০০:২৯

    ২ হাজার কোটি টাকার কম মূলধনের ব্যাংক নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না

    ২ হাজার কোটি টাকার কম মূলধনের ব্যাংক নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না

    ২৪ মে ২০২৬, ০১:১৯

    প্রতীকী ‘শিশুমর্গে’ প্রাচ্যনাটের প্রতিবাদ

    প্রতীকী ‘শিশুমর্গে’ প্রাচ্যনাটের প্রতিবাদ

    ২৩ মে ২০২৬, ২২:৫৬

    ফের কমল উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম

    ফের কমল উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম

    ২৪ মে ২০২৬, ০০:২১

    স্বর্ণপাম জিতলো রোমানিয়ান সিনেমা

    স্বর্ণপাম জিতলো রোমানিয়ান সিনেমা

    ২৪ মে ২০২৬, ০১:৫৬

    চুক্তির ‘অনেক কাছাকাছি’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

    চুক্তির ‘অনেক কাছাকাছি’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

    ২৩ মে ২০২৬, ২২:৫০

    যুদ্ধবিরতি চুক্তির ইঙ্গিত ট্রাম্পের, খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি

    যুদ্ধবিরতি চুক্তির ইঙ্গিত ট্রাম্পের, খুলতে পারে হরমুজ প্রণালি

    ২৪ মে ২০২৬, ০৩:৪৪

    একেক সময় একেক কথা ট্রাম্পের

    একেক সময় একেক কথা ট্রাম্পের

    ২৪ মে ২০২৬, ০২:২৭

    advertiseadvertise