নেপালে ২৪ ঘণ্টায় ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ডের দাবিটি কি সত্যি?

ছবি: আগামীর সময়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে-নেপালে ধর্ষক শনাক্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। দাবি অনুযায়ী, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নাকি এমন কঠোর আইন চালু করেছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই তথ্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, ধর্ষণ কমাতে নেপাল সরকার নতুন একটি কঠোর আইন চালু করেছে, যেখানে অপরাধী শনাক্ত হলেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। বিষয়টি অনেকের কাছে প্রশংসনীয় হিসেবে তুলে ধরা হলেও, বাস্তবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি নেপাল সরকার।
আগামীর সময়ের যাচাইয়ে দেখা যায়, নেপালের কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা সরকারি সূত্রে এ ধরনের আইনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে বিচারব্যবস্থার সংস্কারের পরিকল্পনা।
গত ২৯ মার্চ নেপালের আইনমন্ত্রী Sobita Gautam তার ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিওতে ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা এবং শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগের কথা জানান। এ জন্য একটি ‘স্টাডি টাস্কফোর্স’ গঠনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। লক্ষ্য-অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।
তবে তার বক্তব্যে কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বা নতুন করে মৃত্যুদণ্ডের আইন চালুর কোনো উল্লেখ নেই।
অন্যদিকে, নেপালের সংবিধান অনুযায়ী দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের কোনো সুযোগই নেই। সংবিধানের ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করা যাবে না। অর্থাৎ সাংবিধানিকভাবেই দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ।
সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট, ‘নেপালে ধর্ষকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে’-এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া তথ্য, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।





