অনুমতি ছাড়া গান ব্যবহার করায় হোয়াইট হাউজের ওপর ক্ষুব্ধ কেটি পেরি

কেটি পেরি
ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার প্রচারণামূলক এক ভিডিওতে, নিজের জনপ্রিয় গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’ অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমেরিকান পপ তারকা কেটি পেরি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই তা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের অফিসিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্টে ইরানে চালানো সামরিক হামলার ভিডিও ফুটেজ দিয়ে একটি কনটেন্ট আপলোড করা হয়। ‘ইরানকে সতর্ক করা হলো’ ক্যাপশনের সেই ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজানো হয়েছিল কেটি পেরির বিশ্বখ্যাত গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’।
ঘটনাটি নজরে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ৪১ বছর বয়সী এই পপ তারকা। তিনি লেখেন, ‘আমি চরমভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ! এই কাজের জন্য আমার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি, এমনকি আমাকে জিজ্ঞাসা পর্যন্ত করা হয়নি। যে গানটি মানুষের আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা জোগাতে লেখা হয়েছিল, তাকে ধ্বংস ও সহিংসতার প্রচারণায় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা আমার গানের মূল আদর্শের চরম লঙ্ঘন।’
২০২৩ সালে নিজের ‘টিনএজ ড্রিম’ অ্যালবামের স্বত্ব ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিময়ে মিউজিক কোম্পানি ‘লিটমাস মিউজিক’-এর কাছে বিক্রি করে দেন কেটি পেরি। ফলে গানটির বাণিজ্যিক মালিকানা এখন আর পেরির হাতে নেই। তবে নিজের তৈরি গানকে রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবহার করায় একজন শিল্পী হিসেবে তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
রাজনৈতিকভাবে ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক কেটি পেরি অতীতে কমলা হ্যারিস ও জো বাইডেনের পক্ষে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে থাকা এই গায়িকা ট্রাম্পের নীতির ঘোরবিরোধী হিসেবেই পরিচিত।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়াই গান ও শিল্পকর্ম ব্যবহারের অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে অলিভিয়া রদ্রিগো, সাবরিনা কার্পেন্টার, রিহানা, অ্যাডেল, ব্রুস স্প্রিংস্টিনের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারাও তাদের গান ট্রাম্পের রাজনৈতিক সভা ও সরকারি প্রচারণায় ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।





