এড শিরানের সঙ্গে বিরোধের পর ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ ট্যুর ঘোষণা ম্যাকলমোরের

ম্যাকলমোর
মঞ্চে দাঁড়িয়ে গাজা ও ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলায় বিশ্বখ্যাত গায়ক এড শিরানের মিউজিক ট্যুর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল জনপ্রিয় মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরেকে। তবে সেই বাধার মুখে দমে না গিয়ে এবার আরও বড় উদ্যোগ নিয়ে হাজির হলেন গ্র্যামিজয়ী এই শিল্পী। গাজাবাসীর জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে ও সংহতি জানাতে পুরো বিশ্ব জুড়ে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ ট্যুর-এর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্রূপাত্মক সুর মিলিয়ে ম্যাকলমোরে বলেছেন, ‘যেমনটা আপনারা সবাই জানেন, শিরানের ট্যুর থেকে বের করে দেওয়ায় আমার শিডিউল এখন বেশ ফাঁকা’।
মূলত সেপ্টেম্বরের শুরুতে নিউ জার্সিতে এড শিরানের কনসার্টে উদ্বোধনী পরিবেশনা করার সময় প্রকাশ্যে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন এবং মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীদের উৎসর্গ করে গান গান ম্যাকলমোরে।
এর পরই স্টেডিয়ামের বিলিয়নেয়ার মালিক ও কনসার্ট প্রমোটরদের চাপে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে সেই ট্যুর থেকে বাদ দেয়া হয়।
এ ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে ৪১ বছর বয়সী এই তারকা র্যাপার বলেছেন, ‘বিলিয়নিয়ার শ্রেণি ঠিক করে দেবে কোন শিল্পীর কণ্ঠ মঞ্চে উঠবে আর কাকে সেন্সর করা হবে, এ সংস্কৃতি মেনে নেওয়া যায় না। মুক্ত ফিলিস্তিনের জন্য বিশ্ব জুড়ে যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, তা কোনো ধনকুবেরের ক্ষমতায় থামানো যাবে না’।
ম্যাকলমোরে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ট্যুর থেকে অর্জিত সমস্ত অর্থ সরাসরি ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কর্মরত আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোয় দান করা হবে।
আগামী ২৬ অক্টোবর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এই কনসার্ট সিরিজ। এর পর ২৯ অক্টোবর প্যারিস ও ৩০ অক্টোবর লন্ডনে শো করবেন তিনি। খুব শিগগিরই আমেরিকার বিভিন্ন শহরের ডেট ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলায় ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে তুমুল সমালোচনার জন্ম দেয়। কনসার্ট বয়কটের ডাক দেন ভক্তরা, যার ফলে দ্রুত কমতে থাকে টিকিটের দাম।
এমনকি প্রমোটরদের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এড শিরানের সঙ্গে কনসার্টে পারফর্ম করতে অস্বীকৃতি জানান তার অন্য সহ-শিল্পীরাও।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত সপ্তাহে ফিলাডেলফিয়ার শো-তে ভক্তদের কাছে ক্ষমা চান এড শিরান। পুরো বিষয়টি সামলাতে নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে শিরান বলেন, ‘গাজার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত মর্মান্তিক, অন্যায় ও মাত্রাতিরিক্ত। এটি কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং এটি একটি বড় মানবিক সংকট’।





