বেসুরো পারফরম্যান্সে তোপের মুখে চীনা তারকা, বাতিল কনসার্ট

টিভি উপস্থাপক ও মিডিয়া আইকন শি শুয়া
বিশ্ব বিনোদনের দুনিয়ায় পপ তারকাদের কনসার্ট মানেই লাখো ভক্তের উন্মাদনা আর টিকিটের জন্য হাহাকার। কিন্তু নিজের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে ও জাঁকজমকপূর্ণ জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে গায়িকা হওয়ার শখ পূরণ করতে গিয়ে এবার চরম আইনি ও সামাজিক বিপাকে পড়েছেন চীনের অন্যতম শীর্ষ টিভি উপস্থাপক ও মিডিয়া আইকন শি শুয়া।
গায়িকা হিসেবে তার ‘বাজে পারফরম্যান্স’ এবং কনসার্টের চড়া টিকিটের মূল্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শেষ পর্যন্ত তার দেশব্যাপী মিউজিক ট্যুরের প্রথম মেগা শো-টি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাধারণ একটি অনলাইন ট্রোলিং থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনাটি বর্তমানে চীনের অর্থনীতি, তরুণদের বেকারত্ব এবং সামাজিক বৈষম্যের এক বড় প্রতীকী প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।
চীনের জনপ্রিয় ভ্যারাইটি শো ‘হ্যাপি ক্যাম্প’-এর দীর্ঘ দুই দশকের সঞ্চালক শি শুয়া মূলত তার কমেডি ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনার জন্য দর্শকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়। কিন্তু মে মাসে তার নিজ শহর চেংডুতে দুটি একক কনসার্ট করার মাধ্যমে তিনি গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
ভক্তদের ভালোবাসায় সেই কনসার্টের সব টিকিট মাত্র ৮ মিনিটে বিক্রি হয়ে যাওয়ায় শি শুয়ার আত্মবিশ্বাস এতটাই বেড়ে যায় যে, লাইভস্ট্রিমে তিনি নিজেকে একজন ‘পপ কুইন’ দাবি করে বসেন এবং দেশ জুড়ে কনসার্ট ট্যুরের ঘোষণা দেন। যার প্রথম স্টপ ছিল রাজধানী বেইজিং এবং টিকিটের দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭৪ ডলার।
বেইজিং কনসার্টের ঘোষণার পর থেকেই চীনের সাধারণ নেটিজেনরা শি শুয়ার গায়কিকে ‘বেসুরো ও অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, নিজের কোনো মৌলিক বা ভালো গান না থাকা সত্ত্বেও শুধু জনপ্রিয়তাকে বিক্রি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা করছেন তিনি। ক্ষোভের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, অনেকে শি শুয়ার স্বামী যিনি একজন পেশাদার গায়ক, তাকে মেসেজ পাঠিয়ে বলেছেন, ‘আপনার স্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।’
বিষয়টি সাধারণ ট্রোলিংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বড় আকার ধারণ করে যখন চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘পিপলস ডেইলি’ সরাসরি তার নাম না নিয়ে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ‘প্রকৃত যোগ্যতা ছাড়া যারা সস্তা জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে সাংস্কৃতিক মান নষ্ট করে ফায়দা লুটতে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত বড় বিপদে পড়বে।’ এই কড়া হুঁশিয়ারির পর কনসার্ট আয়োজকরা বাধ্য হয়ে বেইজিং শোটি বাতিল করেন এবং টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দেন।
শি শুয়ার এই কনসার্ট বাতিলের ঘটনাটি চীনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যেও নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতেই, গায়কি ভালো না হলে দর্শক টিকিট কিনবে না এবং শো ফ্লপ করবে— এটাই বাজারের নিয়ম। কিন্তু অনলাইনে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা করে বা রাষ্ট্রীয় চাপ তৈরি করে এভাবে কনসার্ট বাতিল করানো বা ‘ক্যানসেল কালচার’ কোনো সুস্থ সংস্কৃতির লক্ষণ নয়।





