Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
মোবাইল আসক্তি ঠেকাতে খোকনের ‘পথ পাঠাগার’
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় স্ক্রিন টাইম

‘কাগজের ফুল’ প্রযোজনায় রাজি ছিলেন যশ চোপড়া

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
agamir somoy
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২০
‘কাগজের ফুল’ প্রযোজনায় রাজি ছিলেন যশ চোপড়া

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

‘আদম সুরত’ থেকে ‘মাটির ময়না’ ‘রানওয়ে’—তারেক মাসুদের প্রতিটি কাজেই ছিল নিজস্ব ছাপ। কাছ থেকে দেখা সেই তারেকের অজানা গল্পই শোনালেন অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

তারেক মাসুদের সঙ্গে আমার পরিচয় ওর ছাত্রজীবন থেকেই। তখন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করত। সেই সময় থেকেই ওর মাথায় সিনেমা বানানোর চিন্তা এসেছিল। ১৯৮২-৮৩ সালের দিকে এস এম সুলতানকে নিয়ে ‘আদম সুরত’ বানানো শুরু করে। তখন ওর হাতে কোনো টাকা ছিল না। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে, ক্যামেরা ও ফিল্ম সংগ্রহ করে কাজটা করতে হয়েছিল। তখন তো সবকিছু সেলুলয়েডে হতো। ১৬ মিলিমিটার ক্যামেরায় শুট করত। বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ফিল্ম সংগ্রহ করে কাজ করতে হয়েছে বলে অনেক সময় লেগেছিল। প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে সিনেমাটির শুটিং হয়েছিল। ক্যামেরায় ছিল মিশুক মুনীর। সে তারেকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। এস এম সুলতান তখন আমাদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন মানুষ। কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি অনেকটাই অনাবিষ্কৃত ছিলেন। নড়াইলে থাকতেন। জীবনযাপনও ছিল বিচিত্র। তাঁর অনেক পশুপাখি ছিল। তারেক সেই মানুষটির জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখেছিল এবং তাঁর জীবন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছিল। সিনেমাটির নাম প্রথমে ছিল ‘ইনার স্ট্রেন্থ’। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘আদম সুরত’। এই ‘আদম সুরত’-এর বর্ণনা, অর্থাৎ ভয়েসওভারটা আমার গলায় দেওয়া হয়েছিল। মিশুক সেটা রেকর্ড করেছিল।

একের পর এক মানুষের গল্প
এরপর তারেক ‘সোনার বেড়ি’ তৈরি করল। মেয়েদের সামাজিক শৃঙ্খল থেকে মুক্তির বিষয় নিয়েও কাজ করল। পথশিশুদের নিয়ে ডকুমেন্টারি করল। ‘কাইন্ড অফ চাইল্ডহুড’ ধরনের কাজও করেছে। এসব কাজ সে এক-দুই দিনে করেনি। অনেক বছর ধরে মানুষের পেছনে ঘুরেছে, তাদের জীবন দেখেছে, তারপর সিনেমা তৈরি করেছে। সেখান থেকেই চলচ্চিত্রের বিষয়ে তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আরও গভীর হতে থাকে।

আরও ঘনিষ্ঠতা
১৯৮৮ সালে আমরা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল করেছিলাম। সেখানে আমাদের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ে। আমাদের চলচ্চিত্রগুরু আলমগীর কবিরের সঙ্গে আমরা তখন ছিলাম। আমাদের সঙ্গে মোরশেদুল ইসলাম, তানভীর মোকাম্মেল, মানজারে হাসিন মুরাদসহ আরও অনেকে ছিলেন। আরও অনেক তরুণ চলচ্চিত্রকর্মী সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখান থেকেই বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের মধ্যে আমাদের একটা বন্ধন তৈরি হয়। আমি একেবারে শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে ছিলাম। তার তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম—‘মাটির ময়না’, ‘অন্তর্যাত্রা’ ও ‘রানওয়ে’।

প্রথম দেখাতেই বুঝেছিলাম
১৯৮২ সাল থেকেই তারেককে চিনতাম। সে যে ধরনের কঠিন কাজ দিয়ে শুরু করেছিল, বিশেষ করে ‘আদম সুরত’, সেটা দেখে তখনই আমার মনে হয়েছিল— এই ছেলে ভবিষ্যতে অনেক ভালো প্যারালাল ফিল্ম তৈরি করবে। তার চলচ্চিত্র ভাবনা ছিল অন্যরকম। সে তখনই আলাদা করে ভাবত। 
তারেক মাসুদের সঙ্গে এত বছর কাজ করে আমার কাছে একটা বিষয় সবচেয়ে পরিষ্কার হয়েছে— সে চলচ্চিত্রকে শুধু বিনোদন হিসেবে দেখেনি। সে মানুষের জীবন, ইতিহাস, সমাজ দেখেছে। নিজের শৈশবকে দেখেছে। তারপর সবকিছুকে চলচ্চিত্রে রূপ দিয়েছে। তার সিনেমায় বাস্তব মানুষ, বাস্তব ইতিহাস এবং বাস্তব ভাষা এসেছে। একটি পুরোনো বাড়ির উঠোনের ঘাস পর্যন্ত তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

‘মাটির ময়না’ নিজের শৈশব
সিনেমাটির গল্পের সঙ্গে তারেকের নিজের শৈশবের গভীর সম্পর্ক ছিল। তারেকের বাবা প্রেসিডেন্সি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। খুব মেধাবী ছাত্র ছিলেন। কিন্তু পরে কোনো এক সময়ে তার চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসে। তিনি খুব ধার্মিক হয়ে যান। এরপর তারেককে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারেকের প্রাথমিক শিক্ষা মাদ্রাসায়। সেখানে কিছুদিন থাকার পর সে বেরিয়ে আসে এবং আবার সাধারণ শিক্ষায় ফিরে যায়। তাই মাদ্রাসার ভেতরের জীবন কেমন, সেখানে কী হয়—এসব তারেকের একেবারে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানা ছিল। ‘মাটির ময়না’র আনু চরিত্রের মধ্যে তারেকের ছেলেবেলার চরিত্রই উঠে এসেছে। তার নিজের শৈশবের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা থেকেই সিনেমাটির অনেক কিছু এসেছে। ‘মাটির ময়না’তে আমি তারেকের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছি। তারেকের একজন কাজিন ছিলেন মাহমুদুর রহমান বেনু। তিনি তারেকের প্রেরণার অন্যতম উৎস ছিলেন। ‘মুক্তির গান’-এর টিম লিডারও ছিলেন বেনু ভাই। তিনি লন্ডনে থাকতেন। ‘মাটির ময়না’তে তারেকের ছোট ভাইয়ের যে চরিত্র ছিল, সেটির মধ্যে বেনু ভাইয়ের চরিত্রের প্রতিরূপ ছিল।

শুটিংয়ে ১০ মাস
‘মাটির ময়না’র শুটিং আমরা প্রায় ১০ মাস ধরে করেছিলাম। কারণ সিনেমাতে বিভিন্ন ঋতুর প্রয়োজন ছিল। বর্ষা দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত—এভাবে ঋতু অনুযায়ী শুটিং করতে হয়েছে। টানা শুটিং করা সম্ভব ছিল না। একেক সময় একেক ঋতুর জন্য যেতে হয়েছে। তখন আমরা সেলুলয়েডে ৩৫ মিমি ক্যামেরায় শুট করেছিলাম। ক্যামেরাটি ছিল স্টুডিও ক্যামেরা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকা সেই ক্যামেরা তখন আনপ্যাক অবস্থায় ছিল। কিন্তু সেটি চালানোর মতো লোকও খুব বেশি ছিল না। তারেক অনেক চেষ্টা করে সরকারি অনুমতি নিয়ে ক্যামেরাটি নিয়ে আসে। লেন্সসহ ক্যামেরাটির ওজন ছিল প্রায় ৪১ কেজি। ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি ছিলেন সুদীর পালসানে। তিনি তারেকের পুরোনো বন্ধু এবং পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি বোম্বেতে বিকল্প ধারার সিনেমাতে কাজ করতেন এবং পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছেন।

‘অন্তর্যাত্রা’র পুরনো বাড়ি
‘অন্তর্যাত্রা’র জন্য পুরান ঢাকার যে পুরনো বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়, বাড়ির মালিক সেটি ভেঙে ফেলবেন বলে ঠিক করেছিলেন। তারেক অনেক অনুরোধ করে ছয় মাস সময় পিছিয়ে নেয়। বাড়িটি সংস্কার করে শুটিং শুরু হয়। মজার ব্যাপার হলো, সেখানে মাটি খুঁড়ে একটি পুরনো তুলসীমঞ্চ পাওয়া যায়। তারেক সেই তুলসীমঞ্চকে গল্পের অংশ করে নেয়। উঠোনে ঘাস লাগানো হয়। তিন মাস ধরে সেই ঘাসের যত্ন নেওয়া হয়েছে। নার্সারি থেকে বড় বড় গাছ এনে গর্ত করে বসানো হয়। পুরো উঠোনটাকে এমনভাবে সাজানো হয়, যেন বহু বছর ধরে সেখানে একটি পুরনো বাড়ি ও বাগান রয়েছে। অনুরোধ করে কলকাতা থেকে বাড়িটির পুরনো মালিকদের আনা হয়েছিল। ‘অন্তর্যাত্রা’য় লক্ষ্মণ দাস নামে যে চরিত্র ছিল, সে বাড়িটি পাহারা দিত। তার মুখে যে ইতিহাস বলা হয়েছে, সেটাও ওই বাড়ির সঙ্গে যাদের পরিবারের সম্পর্ক ছিল, তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। তারেক সেই বাস্তব ইতিহাস গল্পের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। এই জায়গাতেই তারেক ছিল আলাদা। সে কোনো কিছুতেই সহজ সমাধান মেনে নিত না। তাই তার সিনেমার জন্য সময়, প্রস্তুতি ও অনেক টাকা লাগত। অনেক ঝুঁকি নিতে হতো। কিন্তু তারেকের কাছে চলচ্চিত্রের সত্যতা ও নির্মাণের মানই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। 

পানির জন্য নাসায় ফোন
‘মাটির ময়না’তে একটা দৃশ্য ছিল—নৌকা এসে বাড়ির ঘাটে ভিড়বে। বাড়িটি নদীর পাড়ে। কিন্তু দেখা গেল, তখন পানি চার-পাঁচ ফুট নিচে। নৌকা ভিড়লে অভিনেতারা নৌকা থেকে পা দিয়ে বাড়ির ভিটায় উঠবে। কিন্তু পানি কম থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছিল না। তখন বাঁধ দেওয়া হলো। বাইরে থেকে পাম্প চালিয়ে ভেতরে পানি তোলা হলো। পানির ওপর বাঁশ দিয়ে মাচা তৈরি করা হলো। সেই মাচার ওপর সুধীর পালসানে ক্যামেরা নিয়ে বসা। একসময় পানির চাপ এত বেড়ে গেল যে, বাঁধ আর চাপ সহ্য করতে পারল না। বাঁধ ভেঙে পানি ছিটকে বেরিয়ে গেল। ক্যামেরা তখন বাঁশের মাচার ওপর। সেই ক্যামেরার দাম ছিল অনেক। আমরা প্রায় ১০-১২ জন মিলে দৌড়ে গিয়ে ক্যামেরাটা বাঁচিয়েছিলাম। আমাদের জীবনের পরোয়া ছিল না। তারেকের সিনেমার জন্য আমরা এভাবেই কাজ করতাম। পরে ক্যাথরিন নাসায় ফোন করেছিল। জানা গেল, ওই এলাকায় নিম্নচাপ আসছে এবং পরদিন থেকে পানির উচ্চতা চার-পাঁচ ফুট বাড়তে পারে। রাত দুইটায় তারেক ও ক্যাথরিন আমার বাসায় এসে বলে, ‘দাদা জলদি চলেন।’ সেই রাতেই আমরা ছুটলাম। রাতের আঁধারে নৌকায় চড়ে, ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যে সেখানে পৌঁছালাম। ভোরবেলা শুটিং শুরু হলো। সত্যিই পানি চার-পাঁচ ফুট বেড়ে গিয়েছিল। আমরা সেই পানির মধ্যেই শুটিং করেছিলাম।

‘কাগজের ফুল’ ছিল ‘মাটির ময়না’র সিক্যুয়েল। সিনেমাটির অনেক চরিত্র ছিল বাস্তব মানুষকে কেন্দ্র করে

কানযাত্রা
তারেক খুব দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ ছিল। সে বুঝতে পেরেছিল, ‘মাটির ময়না’র বিষয়বস্তু—মাদ্রাসা ও মুক্তিযুদ্ধ—রাজনৈতিকভাবে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সে আগেই একটি ইউরোপীয় প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার ব্যবস্থা করে। এর ফলে বাংলাদেশে সিনেমাটি নিষিদ্ধ হলেও আন্তর্জাতিকভাবে সিনেমাটির পথ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশে সিনেমাটি নিষিদ্ধ করা হলো। কিন্তু আন্তর্জাতিক মালিকানা থাকার কারণে আমরা সিনেমাটি বিদেশে নিয়ে যেতে পারলাম। কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি পুরস্কার পেল। সারা পৃথিবীতে সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর হলো। বড় বড় চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি প্রদর্শিত হতে লাগল। তখন বাংলাদেশ সরকার একটা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ে গেল। যে সিনেমাটাকে দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেটাই সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সরকারকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হলো।

সারা যাকেরকে নেওয়ার গল্প
‘অন্তর্যাত্রা’র কাস্টিংয়ের সময় একটা চরিত্রের জন্য প্রথমে সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে কথা হয়েছিল। কিন্তু তারেক বলেছিল, সুবর্ণার একটা খুব সফিস্টিকেটেড ইমেজ আছে। চরিত্রটি সেটা থেকে বের হতে পারবে না। এরপর আলমগীর কবিরের স্ত্রী জয়শ্রী কবিরের কথাও ভাবা হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে চরিত্রটির একটা মিল ছিল। কিন্তু তিনি তখন লন্ডনে ছিলেন এবং এডিকশন থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। ফলে সেটিও বাদ দিতে হয়। তখন আমি বললাম, সারা যাকের ভাবিকে নেওয়া যায়। সেটাই চূড়ান্ত হলো। তারেক বলল, সারা ভাবির চোখ তো গ্রে বা ধূসর ধরনের। চরিত্রের জন্য চোখ কালো দরকার। সঙ্গে সঙ্গে কালো কনট্যাক্ট লেন্সের ব্যবস্থা করা হলো। সারা ভাবি চোখে কালো লেন্স পরলেন। দেখতে একেবারে বদলে গেলেন। আরেকটা সমস্যা ছিল ভাষা। চরিত্রটিতে ইংরেজি সংলাপের পাশাপাশি সিলেটি বাংলা সংলাপও ছিল। সারা জাকের আদ্যোপান্ত ঢাকার মেয়ে। সিলেটি ভাষা বোঝেন না বললেই চলে। তখন তারেকের একজন সহকারীকে চার-পাঁচ মাসের জন্য তাঁর সঙ্গে দেওয়া হলো। সবসময় তাঁর সঙ্গে ছিল, মানে সারাক্ষণ ছেলেটি সিলেটি ভাষায় তার সঙ্গে কথা বলতো- এভাবে সারা ভাবিও সিলেটি ভাষা পুরোপুরি রপ্ত করে ফেললেন। আমার মনে হয়, এটা তার জীবনের অন্যতম সেরা অভিনয়।

বিশাল ক্যানভাসের স্বপ্ন
‘কাগজের ফুল’ ছিল ‘মাটির ময়না’র সিক্যুয়েল। খুব বড় একটি প্রকল্প। সিনেমাটির জন্য তারেক অনেক গবেষণা করেছিল। ১৯৪০-এর দশকের ভারত কেমন ছিল, সেটা বোঝার জন্য কলকাতা ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ৫২টি বই কিনে এনেছিল। চিত্রনাট্যও সেই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। সিনেমার অনেক চরিত্র ছিল বাস্তব মানুষকে কেন্দ্র করে। তাদের মধ্যে শোভা সেনের চরিত্র ছিল। শম্ভু মিত্র ছিলেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ছিলেন। আরও অনেক বাস্তব চরিত্র ছিল। নড়াইলের যে জমিদার— তাকেও কেন্দ্র করে একটি চরিত্র রাখা হয়েছিল।

‘কাগজের ফুল’-এর কাস্টিং অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। তারেকের সব সিনেমার কাস্টিং কনসালট্যান্ট হিসেবে আমি কাজ করছিলাম। সেটি সিনেমার এন্ড ক্রেডিটে দেওয়া হয়েছিল। আমি ‘মাটির ময়না’য় যে চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম, অর্থাৎ তারেকের বাবার চরিত্রের তরুণ বয়সের অংশে আমার ছেলে কৃষ্ণেন্দুর অভিনয় করার কথা ছিল। তারেকের বাবার এক সহপাঠিনীর চরিত্রে কঙ্কনা সেন শর্মা, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে জমিদারের চরিত্রে নেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তারেকের দাদার চরিত্রে আমি ছিলাম। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের চরিত্রে শতাব্দী ওয়াদুদসহ আরও অনেক চরিত্রের কাস্টিং চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।

যশ চোপড়ার সঙ্গে যৌথ প্রযোজনা
‘কাগজের ফুল’ ছিল বিশাল বাজেটের সিনেমা। আমি তখন মুম্বাইয়ে অন্য একটি কাজে ছিলাম। তারেকরাও তখন মুম্বাই গিয়ে যশ চোপড়ার সঙ্গে দেখা করেন। যশ চোপড়া সিনেমাটি প্রযোজনা করতে রাজি হন। এমনকি যৌথ প্রযোজনার চুক্তিও হয়েছিল। এর বাজেট ছিল অনেক বড়। ‘কাগজের ফুল’-এর সেট তৈরি হচ্ছিল মানিকগঞ্জে। জমিদারের নৌকাও তৈরি করা হয়েছিল। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের নৌকার ডিজাইন দেখে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা দিয়ে নৌকাটি বানানো হয়েছিল।

‘মাটির ময়না’র দৃশ্যে শিশুশিল্পীদের মাঝে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। অডিওভিশন

শুধু ‘কাগজের ফুল’ নয়
তারেকের আরেকটি সিনেমার স্ক্রিপ্টও ছিল। এর প্রেক্ষাপট ছিল সপ্তদশ শতাব্দীর ভারত। স্যার টমাস রো যখন ভারতে এসে সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে দক্ষিণ ভারতে একটি কারখানা স্থাপনের অনুমতি চেয়েছিলেন, সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। সিনেমাটি অনেক বড় পরিসরে ঐতিহাসিক ক্যানভাসের হওয়ার কথা ছিল। বাজেটও ছিল কয়েকশ কোটি টাকার মতো। একটি বিদেশি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তাও এগিয়েছিল। ‘কাগজের ফুল’ শেষ করার পর এই সিনেমা শুরু করার পরিকল্পনা ছিল।

‘কাগজের ফুল’ কেন ফুটলো না
তারেকের সঙ্গে ক্যাথরিনের যে জুটি ছিল, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ক্যাথরিন শুধু তারেকের স্ত্রী ছিলেন না, তিনি তারেকের সহকর্মীও ছিলেন। খুব ভালো এডিটর ছিলেন এবং তারেকের প্রায় সব সিনেমার এডিটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ক্যাথরিন চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনাও করেছিলেন। কিন্তু এত বড় ক্যানভাসের সিনেমা তারেক ছাড়া একা ক্যাথরিনের পক্ষে গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল না। তারেকের কাজের মধ্যে এদেশের সাংস্কৃতিক পটভূমি ছিল, যা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাথরিন আমেরিকান, ইউরোপে পড়াশোনা করেছে। ফলে তারেক যে বিশাল ঐতিহাসিক ক্যানভাস নিয়ে কাজ করছিল, সেটা সামলানোর জন্য তারেকের উপস্থিতি খুব প্রয়োজন ছিল।

আজীবনের সঙ্গী ক্যাথরিন
‘কাগজের ফুল’-এর শুটিংয়ের প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়েছিল। ঠিক শুটিংয়ের মুখে ক্যাথরিন তাঁর প্রথম সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। মানিকগঞ্জে সেট তৈরি হচ্ছিল। শুটিংয়ের তারিখও ঠিক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ক্যাথরিনের সন্তান আসার কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়। ক্যাথরিন আমেরিকার কানেকটিকাটে তার বাবার বাড়িতে চলে যান। প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। সন্তান জন্মের পরও কয়েক মাস কেটে যায়। প্রায় দেড় বছর পর তারা ফিরে আসেন এবং পুরনো সেট সংস্কার করে আবারও শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। পুরোনো জমিদারবাড়ির সেট সংস্কার করে রাখা হয়েছিল। 

তারেকের ছেলে নিশাদ এখন আমেরিকায় বেড়ে উঠছে। তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। বছরের কিছু সময় সে বাংলাদেশে থাকে। বর্তমানে তার বয়স প্রায় ১৫ বছর।

বাবার মৃত্যুর খবর, তারপর শেষ যাত্রা
তখন কোনো একটি চলচ্চিত্রের শুটিং করছিলাম। তারেক হঠাৎ আমাকে ফোন করল। বলল, তার বাবা মারা গেছেন। সে বাবার দাফন-কাফন করবে, মাকে সময় দেবে, তারপর ঢাকা ফিরবে। এর মধ্যে ‘রানওয়ে’র একটি ওপেন-এয়ার শো ফরিদপুর শহরে হচ্ছে। তিন দিন শো হবে। শো শেষ করে সে ১২ আগস্ট ফিরবে। ১৩ তারিখে আমাদের প্রোডাকশন মিটিং হবে। কিন্তু সেই প্রোডাকশন মিটিং আর হয়নি।

দুর্ঘটনার দিন তারেকের বাসায় ছিলেন তার বন্ধু ঢালী আল মামুন। ঢালীর স্ত্রী জলিও ছিলেন। তারা দুজনই শিল্পী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ১৩ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪টার ফ্লাইট ছিল। তারা ‘কাগজের ফুল’ সেট দেখতে চাইলো। এটা কিন্তু আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। সকালে যাবেন, দুপুরের মধ্যে ফিরে আসবেন। সন্ধ্যায় আমাদের প্রোডাকশন মিটিং। তাদের ফেরার সময় খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। রাস্তার পরিস্থিতিও খারাপ ছিল। একটি বাস ভুল লেনে চলে এসেছিল। রাস্তার পাশে লম্বা গাছ থাকায় বিপরীত দিক থেকে কে আসছে, সেটা বোঝাও কঠিন ছিল। বাসটি শর্টকাটে যাওয়ার জন্য ডান দিকে, অর্থাৎ ভুল লেনে চলে এসেছিল। বৃষ্টির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেনি। এরপর যে দুর্ঘটনা ঘটে, সেটা আমরা সবাই জানি। তারেক আর ফিরে আসেনি।

মাটির ময়নাতারেক মাসুদজয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়স্মরণ
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দুই দফা ইনজেকশন, তবুও বেঁচে রইলেন নারী

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দুই দফা ইনজেকশন, তবুও বেঁচে রইলেন নারী

    ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ

    ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ

    পদত্যাগের নির্দেশ পেয়ে এমপি মিষ্টি স্পিকারের দপ্তরে

    পদত্যাগের নির্দেশ পেয়ে এমপি মিষ্টি স্পিকারের দপ্তরে

    প্রথম দুই-তিন লাইন পড়েই ঠিক করি অনুবাদ করতে হবে

    প্রথম দুই-তিন লাইন পড়েই ঠিক করি অনুবাদ করতে হবে

    পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মিষ্টি

    পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন মিষ্টি

    ৪৯তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ গোপালগঞ্জের ৯ সুপারিশপ্রাপ্ত

    ৪৯তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ গোপালগঞ্জের ৯ সুপারিশপ্রাপ্ত

    মাদক নির্মূলের নামে সালিশ, কান ধরে উঠবস ও টাকা আদায়ের অভিযোগ

    মাদক নির্মূলের নামে সালিশ, কান ধরে উঠবস ও টাকা আদায়ের অভিযোগ

    বাসে ওঠার পর নিখোঁজ বাউফলের ব্যবসায়ী, ১২ দিনেও সন্ধান নেই

    বাসে ওঠার পর নিখোঁজ বাউফলের ব্যবসায়ী, ১২ দিনেও সন্ধান নেই

    বাউফলের সাবেক মেয়র জুয়েল ঢাকায় গ্রেপ্তার

    বাউফলের সাবেক মেয়র জুয়েল ঢাকায় গ্রেপ্তার

    মিষ্টি পেলেন তেতো স্বাদ

    মিষ্টি পেলেন তেতো স্বাদ

    সংসদে মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা

    সংসদে মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা

    চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চালাবে বিদেশি অপারেটর

    চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চালাবে বিদেশি অপারেটর

    থানার সামনে ওসির গাড়িচালককে মারধর, যুবদল নেতা আটক

    থানার সামনে ওসির গাড়িচালককে মারধর, যুবদল নেতা আটক

    গ্রাহকদের ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও এজেন্ট ব্যাংক পরিচালক

    গ্রাহকদের ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও এজেন্ট ব্যাংক পরিচালক

    রূপপুরের জ্বালানি আসছে শুক্রবার

    রূপপুরের জ্বালানি আসছে শুক্রবার