সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়াই এখনো

কাজী নওশাবা আহমেদ; ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
অভিনয়ের পর্দা থেকে শুরু করে সামাজিক দায়বদ্ধতায় কাজী নওশাবা আহমেদের রয়েছে নিজস্ব স্বর। তাকে যতটা ক্যামেরার সামনে দেখা যায় এর বাইরে তার গল্প যেন আরও বিস্তৃত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পান্থ আফজাল
অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা হিসেবে আপনার পর্যবেক্ষণ কী বলে, দর্শকের সঙ্গে নাকি ক্ষমতার সঙ্গে শিল্পীদের নিবিড় সম্পর্ক?
অবশ্যই একজন শিল্পীর আগে নিজের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ থাকে। এরপর শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। শিল্পের সঙ্গে মানেই দর্শকের সঙ্গে বেশি যুক্ত থাকা। আমার কাছে মনে হয়, রাজনীতির বাইরে কেউ নেই। কিন্তু একজন শিল্পীর মূল কাজ দর্শক ও সৃষ্টির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা।
বিনোদন অঙ্গনে লবিং, গ্রুপিং, সিন্ডিকেট কিংবা স্বজনপ্রীতি নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কী?
এখনো এসবের সম্মুখীন হই। আমার অনেক বেশি ভিউ কিংবা ফলোয়ার নেই। কিন্তু অভিনয় তো জানি। সেই সুবাদে অনেক দিন পর ‘ঝামেলা’ নামের একটি সিনেমায় কাজ করতে পেরেছি। এখন তো অডিশনের কোনো ডাকও আসে না। আদৌ অডিশন নেওয়া হয় কি না, জানি না। আমরা সবক্ষেত্রে চরিত্র অনুযায়ী কাস্টিং করি কি না, সেটি নিয়ে সন্দেহ আছে।
‘ঝামেলা’ সিনেমা নিয়ে কি এখনো ঝামেলায় আছেন!
নাম ‘ঝামেলা’ হলেও অনেক আনন্দ নিয়ে এর কাজ করেছি। পরিচালক ইয়ামিন ইলান খুব ভালো নির্মাতা। দারুণ গোছানো। কম করলেও তিনি বুঝেশুনে কাজ করেন। ব্যক্তিজীবনে আমরা বন্ধু। ২০১৮ সালে যে অল্প কজন মানুষ আমার সঙ্গে কাজ করেছেন, তিনি অন্যতম। তার মিউজিক ভিডিও এবং নাটকে কাজ করেছি। এখন ‘ঝামেলা’য় আছি। এ সিনেমায় ডলি জহুর, সাবেরী আলম, আব্দুল্লাহ রানা ছাড়াও অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, তানজিকা আমিন, রাশেদ মামুন অপু, আবু হুরায়রা তানভীর, ইভান সাইর প্রমুখ। গান গেয়েছেন আসিফ আকবর।
‘স্টার স্টোরিজ’-এর এই সাক্ষাৎকার পুরোটি দেখতে চোখ রাখুন আজ রাত ৮টায় আগামীর সময় এন্টারটেইনমেন্টের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে
আপনার পরিচালিত ‘সোমেশ্বরী’ সিনেমার কাজ কতদূর?
‘সোমেশ্বরী’র শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। এখন সম্পাদনার টেবিলে আছে। তবে ফিল্মটি আমি একা নই, অনেকে মিলে পরিচালনা করেছি। সবকিছু শেষে কবে, কোথায় মুক্তি দিতে পারি দেখা যাক।
নির্মাণে আপনার পথচলার গল্পটা শুনি?
অভিনয় বলেন আর নির্মাণ, আমার হাতেখড়ি কিন্তু থিয়েটারেই। মঞ্চে অভিনয় করেছি, নির্দেশনাও দিয়েছি। অন্যদিকে চারুকলা থেকে পেইন্টিংয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। আর করোনাকাল থেকেই মোবাইল ফোন দিয়ে ছোট ছোট ডকুমেন্টারি ফিল্ম বানিয়েছি। এর মধ্যে আরেকটি ডকুমেন্টারি এখন সম্পাদনা পর্যায়ে আছে। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা নেই বলে সেটি নিয়ে এগোতে পারিনি। এক্ষেত্রে ‘সোমেশ্বরী’ আমার একটা লাফ বলতে পারেন। অনেকে ভাবে অভিনয় আর নির্মাণের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়; আমার ক্ষেত্রে কিন্তু সেটা হয়নি। কারণ, খুব বুঝেশুনে টিম ঠিক করেছি। এই সিনেমায় আমার অভিনয় করার কথা ছিল না, কিন্তু টিমের সবার আবদারে সেটি করেছি। একই সঙ্গে পরিচালনা আর অভিনয় করা খুবই কঠিন। তবে টিম ঠিকঠাক থাকলে সবই সম্ভব বলে মনে হয়েছে।
মঞ্চে ‘সিদ্ধার্থ’ অনেকবার মঞ্চায়ন হয়েছে। এতে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
‘সিদ্ধার্থ’ শুধু একটি অভিজ্ঞতা না, এটা আমার কাছে লাইফটাইম। কিছু চরিত্র আমার ডান-বাম অলিন্দে জায়গা করে নিয়েছে। যেমন— ইকড়ি, সোমেশ্বরী, ‘রক্তকরবী’র নন্দিনী আর সিদ্ধার্থ। এর মধ্যে সিদ্ধার্থ থাকবে সবার আগে। কখনো ভাবতেও পারিনি এই চরিত্র আমাকে এত কিছু দেবে। শুধু মঞ্চেই নয়, আমার জীবনেও সিদ্ধার্থর দারুণ অবদান ও প্রভাব রয়েছে। আমি এ চরিত্রের জন্য আরশীনগরের রেজা আরিফের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।



