স্বামীকে বলেছি হাওরে জমি কিনে দাও

বর্ষার পানিতে টইটম্বুর সুনামগঞ্জের হাওরে ‘জলপবন’ সিনেমার শুটিং করছেন অভিনেত্রী রুনা খান। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
‘জলপবন’ সিনেমার শুটিং কতটা হয়েছে?
১৫ আগস্ট এখানে এসেছি। এর পরদিন থেকে টানা শুটিং চলছে। আরও পাঁচ-সাত দিন লাগবে। কয়েকজন স্বপ্নবাজ তরুণের প্রচেষ্টা এ সিনেমা। পরিচালক রাজন তালুকদার, চিত্রগ্রাহক খালেক সাদমানসহ আরও কয়েকজন তরুণ বিসিটিআই থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন। আমার মনে হয়, এ ধরনের মানুষের প্রচেষ্টা ও ভালোবাসা থেকেই সুন্দর কাজ তৈরি হয়।
বর্ষায় সুনামগঞ্জের হাওরে শুটিং করার অভিজ্ঞতা কেমন?
এর আগে সুনামগঞ্জে শীতকালে শুটিং করেছিলাম। তখন একেবারেই অন্যরকম। যতদূর চোখ যায়, সবুজ আর সবুজ। কিন্তু বর্ষায় থইথই পানির মধ্যে এসে এত মুগ্ধ হয়েছি যে, ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। প্রতিটি গ্রাম যেন একেকটি ভাসমান দ্বীপ। একটি গ্রাম থেকে আরেকটি গ্রামে যাতায়াতে নৌকা ছাড়া উপায় নেই। আমরা যে বাড়িতে থাকছি, সেখানে জানালা খুললেই পানি দেখা যায়। সকালে সূর্যোদয়ের সময় মেঘালয় চোখে পড়ে। গত সাত দিনে অন্তত ১০ বার বরকে ফোন করে বলেছি, অবসর নিলে এখানে এসে থাকতে চাই। আমাকে হাওরে জমি কিনে দাও, বাড়ি বানাব।
‘জলপবন’-এ আপনার অভিনীত নিরালা চরিত্রটি নিয়ে বলুন।
সে হাওরের একজন প্রান্তিক নারী। সিনেমায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রয়েছে। বয়াতি চরিত্রে সামিউল হক, ফেরিওয়ালার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুশান্ত পৃথ্বীরাজ। বৃন্দা নামের এক শিশুশিল্পীও আছে। ও দারুণ অভিনয় করছে। নির্মাতা রাজন তালুকদারের বাড়ি এই এলাকায়। হাওরের ছেলে, এখানকার মানুষের জীবন খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাই হাওরের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ও গল্পকে তিনি পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন। স্থানীয় অনেকে অভিনয় করেছেন এ সিনেমায়। ‘জলপবন’কে এক লাইনে বললে, এটি অপেক্ষার গল্প।
নিরালা হয়ে ওঠার জন্য আলাদা কোনো প্রস্তুতি নিয়েছেন?
সবসময় একটা কথা বলি— আমি ‘ডিরেক্টরস আর্টিস্ট’। নিরালাকে যেভাবে দেখতে চেয়েছেন পরিচালক রাজন তালুকদার, সেভাবেই চরিত্রটির কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
সিনেমা থেকে সিনেমায় এতটা সময়ের ব্যবধান কেন?
২১ বছর ধরে পেশাদার অভিনেত্রী ও মডেল হিসেবে কাজ করছি। আমার কাজের ধরন শুরু থেকে একই। যে কাজের প্রস্তাব পাই, সেখান থেকে যে গল্প, চরিত্র বা পরিচালকের ব্যাপারে আগ্রহ ও আস্থা তৈরি হয়, সে কাজই করি। জীবনের কাছাকাছি গল্প বা সিনেমায় অভিনয় করতে পছন্দ করি। কিন্তু আমাদের দেশে কি এ ধরনের সিনেমা খুব বেশি হয়?
আপনার তো কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়...
গত চার বছরে একটি করে সিনেমার শুটিং করেছি। ২০২৩ সালে কৌশিক শংকর দাসের ‘দাফন’, ২০২৪ সালে মাসুদ পথিকের ‘বক’, ২০২৫ সালে জাহিদ হোসেনের ‘লীলামন্থন’ এবং চলতি বছর করেছি সন্দীপ বিশ্বাসের ‘অসীমের পানে’, এরপর ‘জলপবন’। আমাদের দেশের রাজনৈতিক ও সামগ্রিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে সিনেমাগুলোর মুক্তি বারবার পিছিয়েছে।
টেলিভিশনে এখন আপনাকে নিয়মিত দেখা যায় না কেন?
শুধু চেহারা দেখানো বা শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য কাজ করতে চাই না। যে গল্প বা চরিত্র আমাকে সমৃদ্ধ করবে, সেই কাজ করতে চাই। গল্প, চরিত্র ও নির্মাণ ভালো লাগলে আবারও টেলিভিশনে কাজ করতে আপত্তি নেই।







