ভূতপ্রেতে আমার খুব ভয়

নাজিফা তুষি - র্যাফ ক্লিক
‘রইদ’ সিনেমার মাধ্যমে প্রশংসা কুড়ানোর পর এবার ‘আন্ধার’ নিয়ে বড় পর্দায় আসছেন অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। অক্টোবরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ভৌতিক ঘরানার সিনেমাটি। তুষির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
‘আন্ধার’ সিনেমার নাদিয়া চরিত্রটি নিয়ে দর্শকদের কতটা ধারণা দিতে চান?
টিমের অনুমতি ছাড়া বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, ‘আন্ধার’ একটি হরর ঘরানার সিনেমা এবং নাদিয়া এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রতিটি সিনেমার চরিত্রের জন্য আপনার আলাদা করে দীর্ঘ প্রস্তুতি থাকে। ‘আন্ধার’-এর নাদিয়া চরিত্রের জন্য প্রস্তুতিটা কেমন ছিল?
সব সিনেমায় প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। কিন্তু ‘আন্ধার’-এর ক্ষেত্রে আমরা বেশ কিছুটা সময় পেয়েছিলাম। শুটিংয়ে যাওয়ার আগে ফিল্ম ক্যাম্প করেছিলাম, গাজীপুরের একটি রিসোর্টে। প্রথমে স্ক্রিপ্ট রিডিং হয়েছে, এরপর রিহার্সেল। বিটপির পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রযোজকরা খুবই ফ্লেক্সিবল ছিলেন এবং এ ধরনের প্রস্তুতির উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। শুটিংয়ে যাওয়ার আগে মোটামুটি এক থেকে দেড় মাসের মতো প্রস্তুতি ও গ্রুমিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম। হরর সিনেমায় শুধু অভিনয় করলেই হয় না; শব্দ, আবহ, দৃশ্যের পরিবেশ— অনেক কিছু নিজের মধ্যে অনুভব করে নিতে হয়। সেই জায়গা থেকে আমাদের প্রস্তুতিটা খুব ভালো ছিল।
‘আন্ধার’-এর শুটিং অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? বিশেষ করে সিনেমাটির আবহ ও গল্পের কারণে কাজের ধরনে কি কোনো আলাদা চ্যালেঞ্জ ছিল?
এর আগে আমি হরর সিনেমায় কাজ করিনি। তাই শুরুতে এই ঘরানার অভিনয়ের ধরন কেমন হবে, কীভাবে চরিত্রটিকে উপস্থাপন করব— এসব নিয়ে একটা চ্যালেঞ্জ অনুভব করেছিলাম। তবে শুটিংয়ের সময় আমাদের প্রযোজক ও পরিচালক দুজনই খুব ফ্লেক্সিবল ছিলেন। রায়হান রাফীর সঙ্গে ‘আন্ধার’ই আমার প্রথম সিনেমা। যদিও ‘প্রেশার কুকার’ আগে মুক্তি পেয়েছে, সেটার শুটিং আমি ‘আন্ধার’-এর পর করেছি।
এর আগে ‘রইদ’ সিনেমায় কাজ করেছিলাম। সেই চরিত্র থেকে বের হয়ে ‘আন্ধার’-এর নাদিয়া চরিত্রে নিজেকে নিয়ে আসাটাও একটা বিষয় ছিল। ‘রইদ’-এর সময় আমার স্কিন টোনও অনেকটা পুড়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে ‘আন্ধার’-এ আমাকে সম্পূর্ণ অন্য ধরনের, সুন্দর ও প্রাণবন্ত একটি চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়েছে।
এই সিনেমায় আফসানা মিমির সঙ্গে আপনার রসায়ন কেমন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করে প্রশংসাও করেছেন।
আফসানা মিমি আপুর সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। এখানে তিনি আমার খালার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ব্যক্তিগত মানুষ হিসেবেও আফসানা মিমিকে আমার অনেক পছন্দ। আফসানা মিমি আপুর ব্যক্তিত্ব এত সুন্দর এবং তিনি এত মিষ্টি একজন মানুষ যে, ‘আন্ধার’-এ কাজ করতে গিয়ে আমি সত্যিই তার প্রেমে পড়ে গিয়েছি। আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর যে বিষয়টি লেগেছে, তা হলো— একজন মানুষ বয়স বাড়ার পরও কীভাবে শিশুর মতো নিষ্পাপ, প্রাণবন্ত ও মিষ্টি থাকতে পারেন। ভবিষ্যতে তার সঙ্গে আরও কাজ করতে চাই। তার কাছ থেকে শেখারও অনেক কিছু আছে।
ব্যক্তিগতভাবে হরর ঘরানার সিনেমা কতটা পছন্দ করেন?
ছোটবেলায় এমন একটা সময় ছিল, টানা প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে একটা না একটা হরর সিনেমা দেখতাম। যদিও বাস্তবজীবনে ভূতপ্রেতে আমার খুব ভয়। এমনকি রাতে একা ঘুমাতেও ভয় লাগে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ভয় পাই বলেই আবার সেই ভয় পাওয়ার মজাটা উপভোগ করতে ভালো লাগে।
‘আন্ধার’-এ কাজ করতে গিয়ে নির্মাতা রাফীর নতুন কোনো দিক বা বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করেছেন?
রাফী একজন অভিনেতাকে খুব সুন্দরভাবে ব্রিফ করতে পারেন এবং একজন অভিনেতার ফ্লেক্সিবিলিটিকেও গুরুত্ব দেন। এর আগে আমি যে কাজগুলো করেছি, সেখানে অনেক চরিত্রের মধ্যে খুব বেশি ইন্টেন্স থাকতে হয়েছে। কারণ পরিচালকরা সেভাবেই চরিত্রটিকে চেয়েছেন। কিন্তু রাফী আমাকে খুব ফ্লেক্সিবলভাবে শুটিং করিয়েছেন। তার এই কাজের ধরনটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। অনস্ক্রিন ও অফস্ক্রিন— দুই জায়গাতেই আমাদের বোঝাপড়া ভালো। একজন পরিচালক ও অভিনেতার মধ্যে যে ধরনের কেমিস্ট্রি প্রয়োজন, ‘আন্ধার’-এর মাধ্যমে সেটি আমরা তৈরি করতে পেরেছিলাম। পরে ‘প্রেশার কুকার’-এ সেই বোঝাপড়াটা আরও ভালো হয়েছে। ‘প্রেশার কুকার’ আপনারা এর মধ্যে দেখেছেন এবং দর্শকরাও পছন্দ করেছেন।
‘আন্ধার’-এর অন্যান্য অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
এখানে চঞ্চল ভাই আছেন। তার সঙ্গে আমার কাজের আন্ডারস্ট্যান্ডিং আগে থেকেই ভালো ছিল। আফসানা মিমি আপু, সিয়াম ও রেহান— এই তিনজনের সঙ্গে ‘আন্ধার’-এ আমার প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া মনোয়ার ভাইসহ সবার সঙ্গেই কমবেশি ভালো বোঝাপড়া হয়েছে এবং কাজের অভিজ্ঞতাও ভালো ছিল। সিয়াম অনেক কো-অপারেটিভ। আগে থেকেই তাকে চিনতাম, কিন্তু তার সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। আমার কাছে মনে হয়েছে, তিনি খুবই ডিসিপ্লিনড একজন অভিনেতা। রেহানের সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা ভালো। আমরা ‘আন্ধার’-এর কাজ করতে গিয়ে একসঙ্গে বেশ কিছু সময় কাটিয়েছি। সব মিলিয়ে পুরো টিমের সঙ্গেই আমার কাজের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল।






