হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন ভাইরাল রবি কিষাণ?

রবি কিষাণ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
আজকাল ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের রিলস স্ক্রল করতেই যার মুখ সবচেয়ে বেশি ভেসে উঠছে, তিনি আর কেউ নন—জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিক রবি কিষাণ! নেটদুনিয়ার অ্যালগরিদম যেন এখন পুরোপুরি তার দখলে।
তবে ইন্টারনেট কেন তাকে নিয়ে এতটা মেতেছে, তা নিয়ে খোদ রবি কিষাণ নিজেই নাকি রহস্যের কোনো কূলকিনারা পাচ্ছেন না!
কিছুদিন আগে তার নতুন সিনেমা ‘মা বেহেন’-এর সংবাদ সম্মেলনে অভিনেতা হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ‘মহাদেবের কসম! আমি নিজেও জানি না কেন বারবার এভাবে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাই।’
তার এই হঠাৎ ভাইরাল হওয়ার পেছনের কারণ কোনো সিনেমা বা কোনো অভিনয় নয়। নেটিজেনদের মতে, তার কথা বলার ভঙ্গি, অদ্ভুত সব মুখভঙ্গি আর নিখুঁত টাইমিংয়ের কারণেই মিম পেজগুলোর প্রিয় পাত্রে পরিণত হয়েছেন তিনি।
একবার বিশিষ্ট পডকাস্টার রাজ শমানীর শো-তে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন রবি কিষাণ। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়— তিনি কি টাকা নাকি পরিচিতি বেছে নেবেন?
উত্তরে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে রবি কিষাণ বলেছিলেন, ‘পেহচান, মানি ফলোস, মাই ব্রাদার!’ অর্থাৎ আগে পরিচিতি বানাও, টাকা তো পেছনে পেছনে আসবে ভাই।
ব্যাস, তার এই সংলাপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। লাখ লাখ মানুষ এই অডিও দিয়ে রিল বানাচ্ছেন। কেউ কমেন্টে মজা করে লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে বিহারের ইলন মাস্ক কথা বলছেন!’, আবার কেউ লিখেছেন, ‘ভাই তো মারাত্মক অ্যাটিটিউড দিলেন!’
শুধু পডকাস্টের সংলাপই নয়, তার নাচের ভিডিওগুলো নিয়েও নেটদুনিয়ায় তোলপাড় চলছে। এক অনুষ্ঠানে তার অদ্ভুত নাচের স্টেপ দেখে নেটিজেনরা তাকে ‘বিহারের টম ক্রুজ’ আবার কেউ কেউ ‘বিহারের জাস্টিন বিবার’ উপাধিও দিয়ে ফেলেছেন!
অন্যদিকে এক স্টেজ শো-তে তার গান গাওয়ার ভিডিও দেখে ভিউয়ের বন্যা বয়ে গেছে। এক ভক্ত কমেন্টে লিখেছেন, ‘ভাই মনে হয় ক্যাপস লক অন করে গান গাইছেন!’ অন্য একজন মজা করে লিখেছেন, ‘ইনি হেঁটেছিলেন বলেই হয়তো কোরিয়ান ব্যান্ড বিটিএস আজ দৌড়াতে পারছে!’
আরেকটি পডকাস্টে রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রবি কিষাণ এক অদ্ভুত ভঙ্গিতে বলেন, ‘ইউ হ্যাভ টু ডু ইট... ব্রো, ইউ ফাইট ইলেকশনস... হুমম... বেটার ডু ইট। ডোন্ট মেক ফেসেস!’
কথাগুলো খুব সাধারণ হলেও, কথা বলার মাঝে তার অহেতুক লম্বা বিরতি এবং ‘হুমম’ শব্দ করার অভিব্যক্তিটি রাতারাতি ট্রেন্ডে পরিণত হয়। এখন তার সেই রিলের কমেন্ট সেকশন জুড়ে কেবল হাজার হাজার নেটিজেনের ‘হুমম’ বার্তার বন্যা!
তবে এসব বিষয়কে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন রবি কিষাণ। তার ভাষ্য, ‘আমি পৃথিবীতে এসেছি মানুষকে আনন্দ দিতে। যখনই কেউ খুব কষ্টে থাকে, দিনশেষে বাড়ি ফিরে টিভি অন করলেই আমার মুখ দেখতে পায়। ৩৪ বছর ধরে এই দেশের মানুষকে হাসি ও আনন্দ দিয়ে আসছি আমি। ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেনই মানুষের কষ্ট হরণ করার জন্য।’
সব মিলিয়ে রবি কিষাণের এই স্বতঃস্ফূর্ত বিচিত্র রূপ এখন বিনোদনের খোরাক জোগাচ্ছে কোটি কোটি নেট নাগরিককে।





