শাবানার পা ছুঁয়ে সালাম করতে ৩ দিন ফোন, সাড়া পাননি অমিত

শাবানা ও অমিত হাসান। ছবি: কোলাজ
ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানাকে নিয়ে এক চরম আফসোস ও মন খারাপের গল্প শোনালেন জনপ্রিয় অভিনেতা অমিত হাসান। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীর প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এক আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢালিউডের স্বর্ণালি যুগে বাংলা চলচ্চিত্রে শাবানা ও অমিত হাসান একাধিক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো ‘হিংসা’ যেখানে শাবানা ছিলেন অমিত হাসানের বড় বোন, ‘শাসন’ সিনেমায় মা এবং ‘সংসারের সুখ’ সিনেমায় ছিলেন বড় ভাবির চরিত্রে। পর্দায় তাদের রসায়ন ছিল অতুলনীয়।
সম্প্রতি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিত সভায় শাবানাকে নিয়ে কথা বলেন অমিত হাসান। তিনি জানান, ২০১৪ সালে তিনি যখন প্রথমবারের মতো সপরিবারে আমেরিকা ভ্রমণে যান, তখন শাবানার সঙ্গে দেখা করার প্রবল ইচ্ছা জাগে তার। চলচ্চিত্র প্রযোজক আমানের কাছ থেকে শাবানার একটি ফোন নম্বরও জোগাড় করেন তিনি।
আমেরিকা পৌঁছে সেই নম্বরে কল করা হলে ফোনটি ধরেন শাবানার স্বামী ওয়াহিদ সাদেক। সাদেক ফোন ধরে বলেছিলেন, ‘আমি তো এখন অফিসে আছি, তুই বিকালে ফোন করিস, তোর বুবুর সঙ্গে কথা বলিয়ে দেব।’
শাবানার সাক্ষাতের আশায় ব্যাকুল অমিত হাসান তখন আবেগে আপ্লুত হয়ে সাদেককে বলেছিলেন, ‘ভাইয়া, আমি তার সঙ্গে অনেক কাজ করেছি—তিনি পর্দায় আমার মায়ের চরিত্র করেছেন, ভাবীর চরিত্র করেছেন, বোনের চরিত্র করেছেন। আমি অন্তত একবার তার পা ছুঁয়ে সালাম করে শ্রদ্ধা জানাতে চাই।’
সেই কথামতো আমেরিকা ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে আসার আগে টানা তিন দিন ধরে সাদেককে ফোন করে যান অমিত হাসান, কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে সেই ফোন আর রিসিভ করা হয়নি। হতাশা ও আক্ষেপ নিয়ে দেশে ফিরে আসতে হয় এই অভিনেতাকে।
ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অমিত হাসান বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, হয়তো উনি ভেবেছিলেন অমিত হাসান তার পরিবার নিয়ে এসেছে, বোধহয় থাকার জায়গা নেই, যদি বলা হয় তবে হয়তো তারা এসে থাকবে। কিন্তু আসল বিষয়টা তা ছিল না।’
মন খারাপ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি শাবানা ম্যাডামকে, আমার বুবুকে পাইনি। ফোন ধরেও উনি সেই ভালোবাসার মূল্যটা বুঝতে পারেননি—যে অমিত কোন অনুভূতির জায়গা থেকে শাবানা ম্যাডামকে খুঁজছে। যাই হোক, এটা আমার চরম দুর্ভাগ্য।’
অভিমান থাকলেও শাবানার প্রতি অমিত হাসানের শ্রদ্ধা বিন্দুমাত্র কমেনি। তিনি জানান, একই এলাকায় থাকার কারণে তিনি যখনই ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন, তার চোখ জোড়া শাবানাকেই খোঁজে। ভবিষ্যতে আবার দেখা হলে তিনি কিংবদন্তি এই নায়িকার পা ছুঁয়ে সালাম করতে চান বলে ব্যক্ত করেন।








