মনে হয়েছিল মরেই যাব: মনীষা কৈরালা

মনীষা কৈরালা
বলিউডের নব্বই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। ‘বোম্বে’, ‘১৯৪২: এ লাভ স্টোরি’ কিংবা ‘দিল সে...’-র মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দেওয়া এই নেপালি সুন্দরী ২০১২ সালে আক্রান্ত হন ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে।
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মরণব্যাধি ক্যানসারকে জয় করে নতুন জীবন পেলেও, সেই কঠিন সময়ের মানসিক যন্ত্রণা ও একাকীত্ব আজও তার স্মৃতিতে তাজা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যানসার নির্ণয়ের সেই ‘ভীতিকর ও অন্ধকার’ রাতের স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন এই তারকা।
সুশান্ত প্রধানের পডকাস্টে অংশ নিয়ে মনীষা জানান, নেপালের এক হাসপাতালে যখন চিকিৎসকরা তাকে জানান যে তিনি চতুর্থ স্টেজের ক্যানসারে আক্রান্ত, তখন থেকেই তার পৃথিবী যেন থমকে গিয়েছিল।
মনীষা বলেছেন, ‘দিনের বেলা ডাক্তাররা ক্যানসারের কথা জানান। কিন্তু রাত হতেই বিশাল এক শূন্যতা ও একাকিত্ব আমাকে ঘিরে ধরে। সেটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে একা ও দীর্ঘতম রাত! চারপাশ একদম অন্ধকার মনে হচ্ছিল। খালি মনে হতো, আমি হয়তো আর বাঁচব না, মরেই যাব! একজন ক্যানসার রোগী যে কতটা একা বোধ করেন, তা শুধু তিনিই বুঝবেন।’
ক্যানসার শুধু শরীর নয়, মনীষার জীবন দর্শনকেই বদলে দিয়েছে। একাকীত্ব প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মনীষা খোলাসা করেন, শুধু রোগ বা একলা থাকা নয়— হাজার মানুষের ভিড়ে থেকেও মানুষ একাকী হতে পারে।
‘কখনো কখনো অনেক মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়েও নিজেকে বড্ড একা মনে হয়। এমনকি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আগেও যখন নানা নামিদামি বলিউড পার্টিতে যেতাম, সবার সঙ্গে মেশার চেষ্টা করতাম, কিন্তু কিছুতেই মেলাতে পারতাম না। মনে হতো আমি এখানে একদম বেমানান,’ বলেছেন মনীষা।
ক্যানসার থেকে অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে ফেরার পর জীবনকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শুরু করেন মনীষা। অপ্রয়োজনীয় বন্ধু ও পরিচিতদের ভিড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।
মনীষার ভাষায়, জীবন তাকে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছে, তাই অপ্রয়োজনীয় সব কিছুই জীবন থেকে তিনি বাদ দিয়ে দিয়েছেন। আগে তিনি অনেক বন্ধু বা মানুষের ভিড়ে থাকলেও, এখন তিনি পরিবার ও অল্প কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে শান্তিতে বাঁচতে চান। স্বাস্থ্য নিয়েও হয়েছেন সচেতন। এখন তিনি প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটান এবং প্রতিটা নিঃশ্বাসে বাঁচার আনন্দ উপভোগ করেন।
একসময় দিনে ৩-৪টি সিনেমার কাজ, দিনে ১৮ ঘণ্টা টানা শুটিং করতে করতে অভিনয় জীবনের ওপর চরম ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন বলে জানিয়েছেন মনীষা। সেই ক্লান্তি থেকেই ক্যারিয়ারে বেশ কিছু ভুল সিনেমা বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
তবে ক্যানসার লড়াইয়ের সময় বিশ্ব জুড়ে কোটি ভক্তের দোয়া ও ভালোবাসা পাওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন তার অভিনয় মানুষের কাছে কতটা মূল্যবান ছিল।
নিউ ইয়র্কের ‘মেমোরিয়াল স্লোন কেটারিং ক্যানসার সেন্টার’-এ কঠিন চিকিৎসা ও কেমোথেরাপির পর ২০১৩ সালে ক্যানসারমুক্ত হন মনীষা। এরপর ‘সঞ্জু’, ‘ডিয়ার মায়া’ এবং ‘লাস্ট স্টোরিজ’-এর মাধ্যমে কাজে ফেরেন।
২০২৪ সালে সঞ্জয় লীলা বনসালির ওটিটি সিরিজ ‘হীরামন্ডি: দ্য ডায়মন্ড বাজার’-এ ‘মালিকাজান’ চরিত্রে অভিনয় করে আবারও বিশ্বের ভক্তদের মন জয় করে নেন এই অভিনেত্রী।







