জিয়া খানকে নিয়ে ১৪ বছর পর মুখ খুললেন সুরাজ

জিয়া খান ও সুরাজ পাঞ্চোলি
বলিউড অভিনেত্রী জিয়া খানের আত্মহত্যার ঘটনা ও দীর্ঘ আইনি লড়াই নিয়ে আবারও মুখ খুললেন অভিনেতা সুরাজ পাঞ্চোলি। সিবিআই আদালত থেকে বেকসুর খালাস ও নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে চলমান বিভ্রান্তিকর খবর ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত রবিবার নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এক দীর্ঘ আবেগঘন বিবৃতি দিয়ে মিডিয়া ও নেটিজেনদের সত্য তথ্য পরিবেশনের আহ্বান জানান আদিত্য পাঞ্চোলির পুত্র।
সামাজিক মাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়ে সুরাজ লেখেন, ‘বিজ্ঞ আদালত যাবতীয় তথ্য, প্রমাণ ও আইনের ওপর ভিত্তি করেই রায় দিয়েছেন। দীর্ঘ ১৪ বছর আদালত চত্বরে চক্কর কাটার পর আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো অমীমাংসিত প্রশ্ন বাকি নেই। আদালতের সমস্ত নথি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। যারা শুধু অন্ধভাবে জাজ করেন, তাদের বলব আগে নথিগুলো পড়ুন।’
নিজের জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের কথা স্মরণ করে সুরাজ জানিয়েছেন, ঘটনাটি যখন ঘটে তখন তার বয়স মাত্র ২০ বছর। জিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল মাত্র চার মাসের। সে ভেতরে ভেতরে কী মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিল, তা বোঝার মতো বয়স বা পরিপক্কতা তার ছিল না। কিন্তু পরবর্তী ১৪টি বছর তাকে আদালতে নির্দোষ প্রমাণ করতে লড়াই করতে হয়েছে। যেখানে তার ক্যারিয়ার ও জীবন গড়ে তোলার কথা, সেখানে তার পুরো সময়টাই আদালতের বারান্দাতেই কেটে গেল।
নিজে এত মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেলেও জিয়ার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কখনো মুখ খোলেননি বলে জানান সুরাজ। তিনি বলেছেন, ‘এতদিন চুপ ছিলাম বলে যার যা খুশি তা বানিয়ে লেখার অধিকার নেই। জিয়া তার জীবনের যেসব মানসিক আঘাত বা ব্যক্তিগত সংগ্রামের কথা আমাকে জানিয়েছিল, তার সম্মানে আমি তা কখনো জনসমক্ষে আনিনি। অনেক যন্ত্রণার মধ্যেও আমি তার গোপনীয়তা রক্ষা করেছি। বিনিময়ে আমি সমাজ ও মিডিয়ার কাছ থেকে কিছুটা দায়িত্বশীল আচরণ ও সম্মান আশা করি।’
২০১৩ সালে মুম্বাইয়ের বাসভবন থেকে অভিনেত্রী জিয়া খানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর সুরাজ পাঞ্চোলির বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করা হয়।
তবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে সিবিআই-এর বিশেষ আদালত উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে সুরাজকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়। তবুও ডিজিটাল মাধ্যমে তাকে নিয়ে ক্রমাগত ট্রোলিংয়ের প্রতিবাদেই এই কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন এই অভিনেতা।





