‘জিসম’ করতে রাজি হয়ে ক্যারিয়ার নিয়ে ঝুঁকি নিয়েছিলেন বিপাশা

বিপাশা বসু। ছবি: সংগৃহীত
সময়টা ২০০৩ সালের দিকে। বলিউডের গ্ল্যামার জগতে পা রেখে ততদিনে ‘অজনবী’ আর ‘রাজ’-এর মতো হিট সিনেমা দিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছেন বিপাশা বসু। ঠিক সেই সময়েই তার কাছে প্রস্তাব আসে ‘জিসম’ সিনেমার।
সিনেমাটি করার সিদ্ধান্ত যখন নিলেন, চারপাশ থেকে ভেসে আসছিল নানা বাধা আর সতর্কবার্তা। অনেকেই তাকে সরাসরি বলে বসেছিলেন, ‘এই সিনেমা করলে তোমার ক্যারিয়ার শুরুতেই শেষ হয়ে যাবে!’
সম্প্রতি ‘এল ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিপাশা বসু স্মৃতিচারণ করে জানান সেই সময়ের রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং দিনগুলোর কথা।
বিপাশা বলেছেন, ‘ইন্ডাস্ট্রির শুভাকাঙ্ক্ষী থেকে শুরু করে বড় বড় মানুষেরা আমাকে বারণ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, ছবিতে বেশ সাহসী আর আবেদনময়ী দৃশ্য আছে, এমন কিছু করলে অভিনেত্রী হিসেবে আমার ক্যারিয়ার শুরুতেই ধ্বংস হয়ে যাবে।’
কিন্তু বিপাশা কি দমে যাওয়ার পাত্রী? একদমই না! তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তার ভাবনায় বিষয়টি ছিল একদম পরিষ্কার। বিপাশার ভাষায়, ‘আমি ভেবেছিলাম, আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। সিনেমাটাও প্রাপ্তবয়স্কদের ভালোবাসার গল্প নিয়ে তৈরি। এটা তো বাচ্চাদের সিনেমা নয়! আমি ভালোভাবেই জানতাম আমি কোন প্রজেক্টে সই করছি।’
প্রথমবার এমি জিতলেন ব্যাড বানি, সাবরিনা কার্পেন্টার ও অক্টাভিয়া স্পেন্সার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মূলত ‘জিসম’ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘সোনিয়া’-র রূপ আর গল্পের টানটান উত্তেজনাই বিপাশাকে সবচেয়ে বেশি টেনেছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এই চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ মিস করা যাবে না।
পরিচালক অমিত সাক্সেনার পরিচালনায় আর মহেশ ভাটের রচনায় জিসম সিনেমায় বিপাশা বসুর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তৎকালীন নবাগত জন আব্রাহাম। আর বিপাশার ধনী স্বামীর ভূমিকায় ছিলেন গুলশান গ্রোভার। প্রযোজনা করেছিলেন পূজা ভাট ও সুজিত কুমার সিং।
লোকেরা যে ভয় দেখিয়েছিল, বাস্তবতা হয়েছিল তার ঠিক উল্টো! ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়ার পর জিসম কোনো ক্যারিয়ার ধ্বংস করেনি, বরং বিপাশাকে পৌঁছে দিয়েছিল বলিউডের জনপ্রিয়তার শীর্ষে। সিনেমাটি বক্স অফিসে ঝড় তোলে—ভারতে প্রায় ৮.১৪ কোটি এবং বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩.৪১ কোটি রুপি ব্যবসা করে দুর্দান্ত এক হিট সিনেমা হিসেবে জায়গা করে নেয়।
ইন্ডাস্ট্রির মানা করা সত্ত্বেও নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে বিপাশা যে ঝুঁকিটা নিয়েছিলেন, তা শতভাগ সফল হয়েছিল। সেই সাহসের জোরেই ‘জিসম’ আজও বলিউডের অন্যতম চর্চিত এক ইরোটিক থ্রিলার সিনেমা হয়ে রয়ে গেছে!






