৩,৫০০ রুপির জন্য আটকে ছিল ‘ট্র্যাজেডি কুইন’ মীনা কুমারীর লাশ

মীনা কুমারী
পর্দায় যার অভিনয় লাখ লাখ মানুষের চোখে পানি আনত, বাস্তব জীবনেও তার নিয়তি ছিল গভীর এক বেদনার কাব্য। রূপালি পর্দার মহাতারকা, বলিউডের কালজয়ী ‘ট্র্যাজেডি কুইন’ মীনা কুমারী। কিন্তু সফলতার এই ঝকঝকে জীবনের আড়ালে ঢাকা পড়ে রয়েছে এক চরম নিষ্ঠুরতার ইতিহাস।
মাত্র ৪ বছর বয়সে যার শৈশব বিক্রি হয়ে গিয়েছিল ফিল্ম স্টুডিওর আলোয়, ৩৯ বছর বয়সে যখন তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন, তখন হাসপাতালের ৩,৫০০ রুপির বিল মেটানোর মতো সামর্থ্যও ছিল না তার পরিবারের।
১৯৩৯ সাল। আসল নাম মাহজাবীন বানু, বয়স মাত্র ৪ বছর। অথচ বাবা আলী বক্সের অর্থলোভের কারণে স্কুলের ব্যাগ ছেড়ে তার হাতে উঠে আসে শুটিংয়ের স্ক্রিপ্ট।
‘লেদারফেস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পেয়েছিলেন মাত্র ২৫ রুপি। ভেবেছিলেন কয়েক দিন কাজ করে আবার স্কুলে ফিরবেন, খেলার বন্ধুদের কাছে ফিরবেন। কিন্তু সেই ফেরা আর কোনোদিন হয়নি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বানিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কাজ করানো হতো এ ছোট্ট মেয়েটিকে।
বাবার অমতে চলচ্চিত্র নির্মাতা কামাল আমরোহীকে গোপনে বিয়ে করেন মীনা কুমারী। কিন্তু বাবা যাতে তাদের এ সম্পর্কে বাধা না দেন, তার জন্য বাবাকে তুলে দিতে হয়েছিল নগদ ২ লাখ রুপি। পরে এ বিয়ের জেরে বাবার বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন তিনি, ভেঙে যায় পারিবারিক সম্পর্ক।
১৯৫২ সালে ‘বাইজু বাওরা’ দিয়ে শুরু হয় মীনা কুমারীর একচ্ছত্র রাজত্ব। ‘পরিণীতা’, ‘আজাদ’, ‘শারদা’ একের পর এক কালজয়ী সিনেমায় ব্যাকুল ও জটিল নারীদের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে অর্জন করে নেন বলিউডের ‘ট্র্যাজেডি কুইন’ খেতাব।
একই বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি গোপনে কামাল আমরোহীর সঙ্গে আকদ হলেও ১৯৬৪ সালে তাদের মধ্যে চরম তিক্ততা তৈরি হয় এবং বিচ্ছেদ ঘটে।
স্বামী কামাল আমরোহীর উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রজেক্ট ‘পাকিজা’ মাঝপথে থমকে গিয়েছিল তাদের বিচ্ছেদের পর। ততদিনে অতিরিক্ত মদপান আর কাজের চাপে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত মীনা কুমারী।
তবুও জীবনের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ১৯৬৯ সালে ‘পাকিজা’-র সেটে ফেরেন তিনি। ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সিনেমাটি মুক্তি পায় এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর হয়ে যায়।
সিনেমা মুক্তির মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, ১৯৭২ সালের ৩১ মার্চ মাত্র ৩৯ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ কালজয়ী অভিনেত্রী। এত বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও জীবনের শেষ দিনগুলোয় নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
বিখ্যাত পরিচালক বিমল রায়ের মেয়ে রিনকি রায় ভট্টাচার্যের ভাষ্যমতে, সেন্ট এলিজাবেথ নার্সিং হোমে মীনা কুমারীর মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে তার লাশ খালাস করার মতো ৩,৫০০ রুপিও ছিল না তার পরিবারের কাছে। অবশেষে মীনার ডাক্তার সেই অর্থ পরিশোধ করে তার লাশ হাসপাতাল থেকে বের করার ব্যবস্থা করেন।




