অমিতাভকে ভয় পেতেন পারভীন ববি, থানায়ও করেছিলেন অভিযোগ

অমিতাভ বচ্চন ও পারভীন ববি। ছবি: সংগৃহীত
সত্তরের দশকে অমিতাভ বচ্চন ও পারভীন ববি জুটি মানেই ছিল এক চরম উন্মাদনা। ‘দিওয়ার’, ‘কালা পাত্থর’ কিংবা ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’-র মতো একাধিক সুপারহিট চলচ্চিত্রে তাদের অনস্ক্রিন রসায়ন কোটি কোটি দর্শকের মন জয় করেছিল।
তবে রুপালি পর্দার পেছনের বাস্তব জীবনটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই প্রখ্যাত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও প্রাণনাশের বিস্ফোরক অভিযোগ এনে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিলেন এই গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী।
একসময় বলিপাড়ায় জোর গুঞ্জন ছিল যে জয়া বচ্চনের সঙ্গে বিবাহিত থাকা অবস্থাতেই পারভীন ববির সঙ্গে অমিতাভের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে একপর্যায়ে অমিতাভ নিজে থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করলে তা মানতে পারেননি পারভীন।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া উল্লেখ করেছে তৎকালীন সাময়িকীতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমিতাভ বচ্চনকে আন্তর্জাতিক ডাকাত বলে আখ্যা দেন পারভীন। তিনি অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘অমিতাভ বচ্চন আমার জীবন ধ্বংস করতে পেছনে লেগেছেন! তার পোষা গুন্ডারা আমাকে অপহরণ করে নির্জন এক দ্বীপে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে আমার শরীরে অস্ত্রোপচার করে কানের নিচে একটি সিক্রেট চিপ বা ট্রান্সমিটার বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে আমার সব তথ্য তিনি পেয়ে যান!’
শুধু সাক্ষাৎকারেই নয়, অমিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধে থানায় আনুষ্ঠানিক পুলিশ অভিযোগও করেছিলেন এই অভিনেত্রী।
পারভীন ববির এমন গুরুতর অভিযোগে সেই সময়ে গোটা বিনোদন জগতে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। তবে পরে চিকিৎসকদের সূত্রে জানা যায়, পারভীন ববি আসলে মারাত্মক সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এটি এমন একটি মানসিক ব্যাধি যার ফলে রোগী কাল্পনিকভীতি, মারাত্মক হ্যালুসিনেশন ও বিভ্রান্তিতে ভোগেন।
পরে এক সাক্ষাৎকারে নিজের সাবেক সহ-শিল্পীর এমন আচরণ নিয়ে অমিতাভ বচ্চন দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘পারভীন যে জটিল মানসিক রোগে ভুগছিলেন, সেটির ধরনই এমন ছিল। তিনি মানুষকে অতিরিক্ত ভয় পেতেন এবং নিজের কল্পনাতেই নানা ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করে সেগুলোকে সত্যি ভাবতেন।’
মৃত্যুর ঠিক এক বছর আগে ২০০৪ সালে এক হোটেলে পারভীনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তার প্রাক্তন প্রেমিক ও অভিনেতা কবির বেদীর। প্রবীণ এই অভিনেতা জানান, কুশল বিনিময় করতে গেলে পারভীন অত্যন্ত বিষণ্ন গলায় তাকে বলেছিলেন, ‘তুমিও তো অন্যদের মতো আমাকে পাগল ভাবো, তাই না?’
কবির বেদী সান্ত্বনা দিতে গেলেও তার চেহারা মুহূর্তেই বদলে যায় এবং তিনি কবিরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। সেটাই ছিল তাদের শেষ সাক্ষাৎ।
২০০৫ সালের ২০ জানুয়ারি মুম্বাইয়ের নিজের ফ্ল্যাট থেকে পারভীন ববির গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, মৃত্যুর পর বেশ কয়েক দিন তার মৃতদেহ ঘরের ভেতরেই পড়ে ছিল। এক সময়ের জনপ্রিয় এই বলিউড কুইনের এমন করুণ ও নিঃসঙ্গ পরিণতি আজও সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়কে নাড়া দেয়।





