হৃতিককে কঙ্গনার বার্তা, ‘আগুনে ঘি ঢালা বন্ধ করুন’

কঙ্গনা রানাউত ও হৃতিক রোশন
বলিউডের বহুলালোচিত ও পুরনো দ্বন্দ্বে যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের ‘জেনারেশন গটার’ বলে তোপের মুখে পড়া অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউত এবার ক্ষোভ উগরে দিলেন হৃতিক রোশনের ওপর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে শুরু হওয়া ‘আমাদের হৃতিকের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত’ ট্রেন্ডে হৃতিক রোশন মন্তব্য করার পরেই এক দীর্ঘ বার্তা দিয়ে তাকে আগুনে ঘি ঢালা বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিলেন কঙ্গনা।
সম্প্রতি ভারতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে আন্দোলনকারী তরুণ-তরুণীদের ‘জেনারেশন গটার’ বা অপদার্থ প্রজন্ম বলে গালি দেন কঙ্গনা।
কঙ্গনার এই অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সুর চড়ান সিজেপি নেতা সৌরভ দাস। জবাবে কঙ্গনা ওই রাজনৈতিক নেতার ক্যারিয়ার নিয়ে কটাক্ষ করলে, সৌরভ একটি সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছেন, ‘বন্ধুরা আমাকে বলছে কঙ্গনা নাকি আমার পেছনে লেগেছে কারণ আমাকে নাকি দেখতে কিছুটা তরুণ বয়সের হৃতিক রোশনের মতো লাগে!’
এরপরই নেটদুনিয়ায় ট্রোল বানিয়ে নেটিজেনরা হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড শুরু করেন— ‘আমাদের হৃতিকের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত’। ইঙ্গিতটা ছিল এমন যে, অতীতে হৃতিক যা সহ্য করেছিলেন, তা এখন সবাই বুঝতে পারছে!
ফ্রেডি বার্ডি নামের এক ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার যখন লেখেন, ‘বিশ্বের উচিত হৃতিকের কাছে ক্ষমা চাওয়া’, তখন সেই পোস্টে চুপ থাকেননি হৃতিকও।
মন্তব্য বিভাগে হৃতিক লেখেন, ‘কাউকে পছন্দ করেন না বলে আরেকজনকে সমর্থন করাটা সমাজের এক বড় ব্যাধি। আমি সঠিক তথ্য ও সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছি।’
হৃতিকের এই পরোক্ষ মন্তব্য নজর এড়ায়নি কঙ্গনার। শনিবার রাতে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সরাসরি হৃতিককে ট্যাগ করে কঙ্গনা লেখেন, ‘প্রিয় হৃতিক, তুমি সাবা আজাদকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছ দেখে ভালো লাগছে, তোমাদের একসঙ্গে মানায়ও ভালো। একটি শক্ত সম্পর্কে থেকে অন্য একজন নারীকে এভাবে কটাক্ষ করা তোমাকে মানায় না। তোমার নাম ভাঙিয়ে যারা আমাকে হেনস্থা করছে, তোমার বরং তাদের বিরোধিতা করা উচিত।’
কঙ্গনা আরও লেখেন, ‘নিজের সঙ্গীকে লজ্জিত করা এবং আগুনে ঘি ঢালা বন্ধ করো। আশা করি তোমার শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং এমন অযৌক্তিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবে।’
২০১৬ সালে কঙ্গনা এক সাক্ষাৎকারে হৃতিককে সিলি এক্স বা বোকা প্রাক্তন হিসেবে অভিহিত করার পর থেকেই দুজনের মধ্যে এক চরম আইনি ও মানসিক যুদ্ধ শুরু হয়, যা আজও থেমে থেমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।





