কোকেন কিনতে গিয়ে ধরা, জেলের বদলে রিহ্যাব—তারপর ১২ বছর আড়ালে

হীরামন্ডির মাধ্যমে ওটিটিতে অভিষেক ঘটে ফারদিনের
শিরোমণি বলিউড তারকা হিসেবে যখন ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই এক কাণ্ডে তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল পুরো সিনেমাজগত। ২০০১ সালে এটিএম বুথের সামনে ড্রাগস কেনার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ফারদিন খান।
এরপর জেল, দীর্ঘ আইনি লড়াই, ক্যারিয়ারের পতন এবং পরে ১২ বছরের দীর্ঘ অন্তরাল। তবে সব বাধা পেরিয়ে আবারও রূপালি পর্দায় রূপকথার মতো প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন বলিউড বাদশাহ ফিরোজ খানের এই যোগ্য উত্তরসূরি।
২০০১ সালের ৫ মে গভীর রাতে মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় একটি এটিএম বুথের কাছে এক গ্রাম কোকেন কেনার সময় ফারদিনকে গ্রেপ্তার করে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৬ বছর এবং ‘নো এন্ট্রি’র মতো ব্লকবাস্টার সিনেমার শুটিং শেষ করে ক্যারিয়ারের তুঙ্গে ছিলেন তিনি।
প্রায় ১১ বছর মামলা চলার পর ২০১২ সালে আদালত তাকে ৬ মাসের জেল অথবা ডিটক্স রিহ্যাবে যাওয়ার অপশন দেয়। ফারদিন রিহ্যাব বেছে নেন এবং বলিপাড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ডিটক্স সেন্টারে সাজা পাওয়া প্রথম তারকা হন তিনি।
অবশেষে ২০১৮ সালে তার ওপর থাকা সব আইনি অভিযোগ খারিজ হয়।
২০১০ সালে ‘দুলহা মিল গয়া’ সিনেমার পর দীর্ঘ সময়ের জন্য স্ক্রিন থেকে গায়েব হয়ে যান ফারদিন। ২০১৬ সালে হঠাৎ তার বেশ কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অতিরিক্ত ওজনের কারণে তাকে চেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।
কুরুচিপূর্ণ বডি শেমিংয়ের জবাবে তখন ফারদিন স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি লজ্জিত বা হতাশ নন, বরং নিজের জীবন নিয়ে সুখে আছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে প্রবীণ অভিনেত্রী মমতাজের মেয়ে নাতাশা মাধবানিকে ২০০৫ সালে বিয়ে করেন ফারদিন। দুই সন্তানের জনক ফারদিনের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন থাকলেও তারা এখনো বিচ্ছেদের পথে হাঁটেননি।
২০২১ সালের শেষের দিকে কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়ার অফিস থেকে বের হওয়ার সময় প্রায় ১৮ কেজি ওজন কমিয়ে একদম ফিট ও ছিপছিপে লুকে ধরা দেন ফারদিন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার দ্বিতীয় ইনিংস।
২০২৪ সালে বিখ্যাত পরিচালক সঞ্জয় লীলা ভানসালির মেগা ওটিটি প্রজেক্ট ‘হীরামন্ডি’-র মাধ্যমে ওটিটিতে অভিষেক ঘটে ফারদিনের।
এরপর রিতেশ দেশমুখের সাথে ‘বিস্ফোট’ এবং অক্ষয় কুমারের সাথে ‘খেল খেল মে’ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন।
অতি সম্প্রতি ২০২৬ সালের পিরিয়ড ড্রামা সিনেমা ‘রাজা শিবাজী’-তে মোঘল সম্রাট শাহজাহানের ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় করে নিজের সেরাটা দিয়েছেন এই অভিনেতা।
আইফা অ্যাওয়ার্ডসে নিজের দীর্ঘ অন্তরাল নিয়ে আবেগঘন ফারদিন বলেছেন, ‘এত বছর পর আদৌ কোনো কাজ পাব কিনা তা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রি যেভাবে আমাকে বিশ্বাস করেছে ও সুযোগ দিয়েছে, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।’





