মায়ের মৃত্যুর পর আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন গোবিন্দ

গোবিন্দ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
নব্বই দশকের জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা গোবিন্দর সঙ্গে তার মা নির্মলা দেবীর সম্পর্ক ছিল খুবই গভীর। মায়ের মৃত্যুর পর চরম কষ্ট ও শোকে তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে নিজের জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন—যে খবরটি হয়তো এতদিন অনেকেরই অজানা ছিল।
সম্প্রতি ভারতীয় বার্তা সংস্থা ‘এএনআই’-কে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন ‘হিরো নম্বর ওয়ান’ খ্যাত এই তারকা।
১৯৯৬ সালের ১৫ জুন ৬৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী নির্মলা দেবী। মায়ের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন গোবিন্দ।
মায়ের মৃত্যুর পর নিজের মানসিক অবস্থার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে গোবিন্দ বলেছেন, ‘আমি চরম কষ্টে ছিলাম, মারাত্মক যন্ত্রণায় ভুগছিলাম। সেই সময় আমার মনে হয়েছিল আমার জীবনের সবকিছু হয়তো এখানেই শেষ। আমি নর্মদা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম, নদীর ভেতরের দিকে হেঁটে গেলে হয়তো আবার মায়ের সাথে দেখা হয়ে যাবে! সেই গভীর আবেগ থেকেই পানিতে নেমে পড়েছিলাম।’
নদীতে নেমে যখন গোবিন্দ ক্রমেই তলিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন রাম কুণ্ডল নামের এক সাধু তার জীবন রক্ষা করেন। গোবিন্দ স্মরণ করে বলেছেন, “তিনি আমাকে দূর থেকে ডেকে আমার দিকে এগিয়ে আসেন। আমাকে পানি থেকে উদ্ধার করে জিজ্ঞেস করেন, ‘কী হয়েছে গোবিন্দ?’ সেই মুহূর্তটিই আমার চিন্তাধারা বদলে দেয়। আমাকে বোঝানো হয় যে আমি যা করছি তা ভুল। আমি বুঝতে পারি যে আমার সন্তানদের জন্য হলেও আমাকে বেঁচে থাকতে হবে।”
সেই ঘোর ও বিষণ্নতা থেকে পুরোপুরি বের হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে গোবিন্দর সময় লেগেছিল প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন। পরবর্তীতে নিজের দায়িত্ব ও জীবনের ভিন্ন অর্থ উপলব্ধি করে আবারও চলচ্চিত্রে মনোযোগ দেন এই জনপ্রিয় বলিউড তারকা।





