লোক্যার্নোতে গোল্ডেন লেপার্ডের জন্য লড়বে নাসিরুদ্দিনের ‘রহমত’

নাসিরুদ্দিন শাহ
বাণিজ্যিক ধারার জাঁকজমক আর বক্স অফিসের ইঁদুরদৌড়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্বমঞ্চে আবারও মাথা উঁচু করে দাঁড়াল ভারতীয় বিকল্প ধারার এক সিনেমা। প্রখ্যাত লোক্যার্নো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আসন্ন ৭৯তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে ভারতের ছবি ‘রহমত’।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নির্মাতা গুরবিন্দর সিং পরিচালিত এবং কিংবদন্তি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত এই ছবিটিই এবার এই বিভাগে ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি।
সুইজারল্যান্ডের এই মর্যাদাপূর্ণ উৎসবে ছবিটির মূল লক্ষ্য হলো সেরা পুরস্কার ‘গোল্ডেন লেপার্ড’ জেতা। শুধু তাই নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরার কারণে আরও ১৩টি বিশ্বমানের সিনেমার সঙ্গে এটি মনোনীত হয়েছে বিশেষ ‘পার্দো ফর চেঞ্জ’ পুরস্কারের জন্যও।
প্রবীণ পাঞ্জাবি সাহিত্যিক অজিৎ কৌরের বেশ কিছু ছোটগল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে ‘রহমত’-এর চিত্রনাট্য। বর্তমান সময়ের পাঞ্জাবের পটভূমিতে তিনটি ভিন্ন কিন্তু ভেতরের সুতোয় বাঁধা গল্প নিয়ে এগিয়েছে এই সিনেমা।
যার প্রথম গল্পে দেখা যাবে এক সাহসী নারীকে, যে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক আহত অপরিচিত মানুষকে আশ্রয় দেয়। দ্বিতীয় গল্পে রয়েছে এক নিখোঁজ স্বজনের শোকার্ত পরিবারের যন্ত্রণার চিত্র।
আর ছবির সবচেয়ে বড় ধামাকা লুকিয়ে আছে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের চরিত্রে, যিনি দীর্ঘ বছর পর ইংল্যান্ড থেকে গ্রামে ফিরে এসে নিজেকে ‘ঈশ্বর’ বলে দাবি করেন! নাসিরুদ্দিন শাহ ছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করেছেন সুবিন্দর ভিকি, মিতা বশিষ্ট এবং নবজ্যোত রান্ধাওয়ার মতো শক্তিশালী অভিনেতারা।
সিনেমাটি নির্বাচিত হওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পরিচালক গুরবিন্দর সিং বলেছেন, “আজকের এই রিলস আর শর্টসের যুগে মানুষের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সবকিছুই বাজারমুখী। এমন সময়েও লোক্যার্নোর মতো মঞ্চে ‘রহমত’-এর মতো একটি মননশীল সিনেমার জায়গা পাওয়া প্রমাণ করে যে, সস্তা জাঁকজমকের বাইরে গিয়ে শান্ত ও জীবনমুখী সিনেমা এখনও প্রাসঙ্গিক।”
এর আগে, পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ছাত্র গুরবিন্দরের প্রথম ছবি ‘আনহে ঘোরে দা দান’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয়েছিল এবং তিনটি জাতীয় পুরস্কার জিতেছিল।
মা ও মেয়ে—অর্থাৎ লেখিকা অজিৎ কৌর এবং প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী অর্পণা কৌর যৌথভাবে এই ছবিটির প্রযোজনা করেছেন। আগামী ৫ থেকে ১৫ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের লোক্যার্নো শহরে বসবে চলচ্চিত্রের এই মর্যাদাপূর্ণ আসর।
সিনেমাপ্রেমীরা এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন, নাসিরুদ্দিন শাহের ‘রহমত’ বিশ্বমঞ্চ থেকে গোল্ডেন লেপার্ড ছিনিয়ে আনতে পারে কি না, তা দেখার জন্য!






