অভিনেত্রীর সঙ্গে গোপন সম্পর্কের বিস্তারিত বইয়ে লিখে বিপাকে নওয়াজউদ্দিন!

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী ও নিহারিকা সিং
বলিউডের অন্যতম পাওয়ারহাউজ অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। ওটিটি থেকে শুরু করে বড় পর্দা—যেকোনো চরিত্রে যার অভিনয় প্রশংসিত। তবে ২০১৭ সালে নিজের আত্মজীবনী ‘অ্যান অর্ডিনারি লাইফ’ প্রকাশ করে গোটা ভারতে নজিরবিহীন বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন এই তারকা।
বইটিতে নিজের সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, গোপন পরকীয়া ও ওয়ান-নাইট স্ট্যান্ডের মতো বিষয়ের এমন কিছু খোলামেলা বিবরণ দিয়ে বসেছিলেন, যা নিয়ে শুরু হয় তীব্র ঝড়।
বইটিতে নওয়াজউদ্দিন তার ‘মিস লাভলি’ সিনেমার সহ-শিল্পী নিহারিকা সিং-এর সঙ্গে সম্পর্কের কথা বিশদভাবে বর্ণনা করেন। তাদের প্রথম শারীরিক সম্পর্কের মুহূর্তটি বর্ণনা করতে গিয়ে নওয়াজ নিজেকে ‘কামুক গ্রাম্য গেঁয়ো’ হিসেবে আখ্যা দেন।
তিনি লেখেন—তিনি কীভাবে নিহারিকার ঘরে গিয়েছিলেন, যেখানে মোমবাতি জ্বালানো ছিল, নিহারিকা পরেছিলেন পশমি পোশাক, আর সেখানেই তাদের অন্তরঙ্গতা শুরু হয়। নওয়াজ দাবি করেন, এই সম্পর্ক দেড় বছর স্থায়ী হয়েছিল।
বইটি বাজারে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিহারিকা সিং। তিনি অভিযোগ করেন, নওয়াজউদ্দিন কেবল মনগড়া ও বিকৃত তথ্য প্রকাশ করেননি, বরং সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে তার অনুমতি ছাড়া এই ব্যক্তিগত বিষয়গুলো জনসমক্ষে এনেছেন।
নিহারিকা বিস্ফোরক দাবি করে বলেছিলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক মাত্র কয়েক মাসের ছিল। সবচেয়ে বড় কথা, নওয়াজ আমার কাছে তার বিয়ের কথা লুকিয়েছিলেন। পরে আমি জানতে পারি যে তার গ্রামে তার স্ত্রী রয়েছে।’
আত্মজীবনীতে নওয়াজ নিজের চরিত্র নিয়েও বেশ রূঢ় মন্তব্য করেছিলেন। তিনি স্বীকার করেন যে তিনি শারীরিক চাহিদার কারণেই কেবল নারীদের কাছে যেতেন এবং কাজ শেষে চলে আসতেন। তিনি নিজেকে স্বার্থপর বলে অভিহিত করে জানান, তার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো প্রতিটি নারীর একই অভিযোগ ছিল—নওয়াজ কেবল নিজের চাহিদাই বুঝতেন।
শুধু নিহারিকাই নন, বইয়ে নাম উঠে আসা নওয়াজের আরেক প্রাক্তন প্রেমিকা সুনীতা রাজওয়ারও তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও ব্যক্তিগত জীবন বিক্রির অভিযোগ এনে তীব্র সমালোচনা করেন।
শুরুতে নওয়াজউদ্দিন দাবি করেছিলেন—‘সত্য বলতে ভয় নেই’। কিন্তু চারদিক থেকে সমালোচনার বাণ এবং আইনি জটিলতার আশঙ্কায় শেষমেশ নতি স্বীকার করতে বাধ্য হন তিনি। বই প্রকাশের পরপরই তা বাজার থেকে একযোগে প্রত্যাহার করে নেন এই অভিনেতা।
জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়ে নওয়াজউদ্দিন বলেছিলেন, ‘কারো অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার ইচ্ছা আমার ছিল না। বইয়ে তাদের নাম উল্লেখ করাটা একদমই উচিত হয়নি।’ পরবর্তীতে আক্ষেপের সুরে তিনি জানান—‘সত্য সবসময় সবার কাছে তিতা মনে হয়। ভবিষ্যতে হয়তো আর কোনোদিন এভাবে সত্য লেখার ভুল করব না।’




