১৯৭১ সালের এরিক ক্ল্যাপটনের ‘লাইলা’ গানটির সেই ‘লাইলা’ আসলে কে?

জর্জ হ্যারিসন, প্যাটি বয়েড ও এরিক ক্ল্যাপটন
রক মিউজিকের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ‘লাইলা’ গানটি এক অমলিন মহাকাব্য। গানটি সেসময়ে প্রকাশের পর সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসার পাশাপাশি দারুণ বাণিজ্যিক সাফল্য কুড়িয়ে নেয় এবং ১৯৭২ সালেই দখল করে নেয় মিউজিক চার্টের শীর্ষস্থান।
তবে গল্পের কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ঠিক ২০ বছর পর, ১৯৯২ সালে এক নতুন দ্যুতি নিয়ে গানটির একটি অ্যাকোস্টিক সংস্করণ আবার মুক্তি দেওয়া হয়। আর সেই নতুন রূপ সুরের দুনিয়ায় এতটাই তোলপাড় সৃষ্টি করে যে, ১৯৯৩ সালে সংগীতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড’-এ সেরা রক গান হিসেবে পুরস্কৃত হয়।
কিন্তু আপনি কি জানেন, যে নারীর উদ্দেশ্যে এরিক ক্ল্যাপটন এই কালজয়ী গানটি গেয়েছিলেন, তার আসল নাম কিন্তু ‘লাইলা’ ছিল না।
‘লাইলা’ গানের পেছনের সেই আসল নারী হলেন খ্যাতনামা ইংরেজ মডেল ও আলোকচিত্রী প্যাটি বয়েড। আর এই গানটির জন্ম হয়েছিল বিটলস তারকা জর্জ হ্যারিসন, প্যাটি বয়েড এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মধ্যকার এক ত্রিভুজ প্রেমের তীব্র টানাপড়েন থেকে।
১৯৬৪ সালে বিটলসের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘এ হার্ড ডেস নাইট’-এর সেটে বিটলস তারকা জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম হয় প্যাটি বয়েডের। ১৯৬৬ সালে তারা বিয়ে করেন।
আর হ্যারিসনের মাধ্যমেই তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও গিটার জাদুকর এরিক ক্ল্যাপটনের সঙ্গে পরিচয় ঘটে প্যাটির।
বন্ধু হ্যারিসনের স্ত্রী হলেও প্রথম দেখাতেই প্যাটির প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করেন ক্ল্যাপটন। গোপনে পাঠাতে থাকেন ‘ই’ স্বাক্ষরিত প্রেমের চিঠি। যেগুলো ২০২৪ সালে ক্রিস্টিস দ্বারা নিলামে তোলা হয়েছিল।
১৯৭০ সালের এক সন্ধ্যায় প্যাটিকে নিজের লন্ডনের ফ্ল্যাটে ডেকে নেন ক্ল্যাপটন। বললেন, ‘তোমাকে শোনানোর মতো একটা জিনিস আছে আমার কাছে।’ এরপর ক্যাসেট প্লেয়ার চালাতেই বেজে ওঠে ‘লাইলা’।
দ্বাদশ শতাব্দীর বিখ্যাত পারসি কাব্য ‘লাইলী-মজনু’-এর বিরহ ও পাগলপারা প্রেম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ক্ল্যাপটন এই গানটি লিখেছিলেন। ‘আমেরিকান সংরাইটার’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ল্যাপটনের বন্ধু ইয়ান ডালাস তাকে ‘লাইলী ও মজনু’-র প্রেমের গল্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সময়ে ইয়ান ডালাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছিলেন।
প্যাটি পরবর্তীতে ক্রিস্টিসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘গানটি এতটাই খাঁটি আবেগ ও ভালোবাসায় ভরা ছিল যে আমি এর সৌন্দর্যে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। তবে একই সঙ্গে বন্ধুর স্ত্রীর প্রেমে পড়ে ক্ল্যাপটনের এই ব্যাকুলতা দেখে ভীষণ অপরাধবোধও হচ্ছিল।’
গান শোনানোর পর সেই রাতেই এক পার্টিতে মুখোমুখি হন দুই বন্ধু— জর্জ হ্যারিসন ও এরিক ক্ল্যাপটন। হ্যারিসনের চোখে চোখ রেখে সোজাসুজি ক্ল্যাপটন বলে ওঠেন, ‘তোমাকে আমার একটা কথা বলার আছে, আমি তোমার স্ত্রীর প্রেমে পড়েছি’।
পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে প্যাটি বয়েডের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এর দুই বছর পর ১৯৭৯ সালে ভালোবাসার মানুষ এরিক ক্ল্যাপটনকে বিয়ে করেন প্যাটি। যদিও ১৯৮৯ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
প্রেম, বন্ধুত্বের টানাপড়েন আর বিরহের আগুনে পুড়ে তৈরি হওয়া সেই ‘লাইলা’ গানটি আজও সংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য প্রেমগাথা হয়ে রয়েছে।








