মাঠের সংঘর্ষে পাল্টে গেল ফল, রাবিকে হারিয়ে শাবিপ্রবিকে বিজয়ী ঘোষণা

খেলোয়াড়দের হাতাহাতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত পাল্টে যায় ম্যাচের ফলও। ছবি : সংগৃহীত
শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্ত পর্যন্ত জয় ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতের মুঠোয়। কিন্তু ফ্রি-কিককে কেন্দ্র করে মাঠে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা, যা মুহূর্তেই রূপ নেয় সংঘর্ষে। খেলোয়াড়দের হাতাহাতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত পাল্টে যায় ম্যাচের ফলও। খেলা পরিচালনা ও শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিযুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় খেলা পরিচালনা ও শৃঙ্খলা কমিটির যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন খেলা পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সদস্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
সভা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল (ছাত্র-ছাত্রী) প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর আওতায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। খেলা শেষ হওয়ার মাত্র দুই মিনিট আগে শাবিপ্রবি একটি ফ্রি-কিক পায়। ফ্রি-কিক প্রতিহত করার সময় রাবির খেলোয়াড় অভিমালা (জার্সি নং-১১) শাবিপ্রবির খেলোয়াড় সাকিব হোসেনের (জার্সি নং-১৭) মুখে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে সাকিব গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহত খেলোয়াড়ের ঠোঁটে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পরপরই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষের খেলোয়াড়রা। এতে ম্যাচটি বিশৃঙ্খল অবস্থায় শেষ হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জরুরি যৌথ সভা ডাকে খেলা পরিচালনা ও শৃঙ্খলা কমিটি। সভায় ম্যাচের রেফারি, দুই দলের ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিযোগিতার নিয়মকানুন বিশ্লেষণ করে সর্বসম্মতিক্রমে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল (ছাত্র-ছাত্রী) প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর নিয়মাবলির ১০ ও ১২ ধারা অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দলকে অভিযুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া, রাবির খেলোয়াড় অভিমালার বিরুদ্ধে অখেলোয়াড়সুলভ ও মারমুখী আচরণের অভিযোগে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে শাবিপ্রবির খেলোয়াড় ফারহান তামিম দীপ্ত (জার্সি নং-২২) ও আসাদুল হাবিবকে (জার্সি নং-১১) টুর্নামেন্টের বাকি সব ম্যাচ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় রিফাত বলেছেন, এক গোলে এগিয়ে থেকে মাঠ থেকে বিদায় নিয়েছি আমরা। হুট করে রাতে জানানো হচ্ছে আমরা ম্যাচ হেরে গেছি। এভাবে আনঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। একটা দল উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়ে মাঠ ছাড়লো আর রাতে ঘোষণা করা হচ্ছে তারা হেরে গেছে। এটা খুবই হাস্যকর।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক রোকসানা বেগম টুকটুকি জানান, তারা রাবি খেলোয়াড়দের যে শাস্তি দিয়েছে, সেটা নিয়মানুযায়ী অন্যায়। সেটা কোনো শাস্তির পর্যায়ে পড়ে না। আমরা তার প্রেক্ষিতে একটা আবেদন দিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়তো তারা আমাদের আবেদনের উত্তর দেবে।




