চুয়েটে শাটডাউন
রাত জেগে মিছিল আর 'বনলতা এক্সপ্রেস' দেখে ক্যাম্পাস পাহারা

সংগৃহীত ছবি
সর্বাত্মক শাটডাউনে অচল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাস। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মধ্যরাতেও ফিরছেন না হলে। রাত জেগে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা দেখে ও মিছিল-স্লোগানে ক্যাম্পাস পাহারা দিচ্ছেন তারা।
সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন শত শত শিক্ষার্থী। ‘অপসারিত’ উপাচার্যের নামে ‘সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ স্লোগান দেন তারা। এরপর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানালেন, চলমান আন্দোলন দমাতে নতুন উপাচার্যের পক্ষের কেউ কেউ হুমকি দিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের। বিভিন্নভাবে আন্দোলনের মাঠ থেকে তাদের সরানোর চেষ্টা চলছে। শিক্ষকদের নামে করা হচ্ছে অপপ্রচার। এর প্রতিবাদে হল থেকে বেরিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। চুয়েট ক্যাম্পাসকে কোনোভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের দখলে যেতে দেবেন না তারা।
এর আগে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে বড় পর্দায় বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমা প্রদর্শন করা হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেটা উপভোগ করেন। রাত জেগে পালা করে ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন বলেও জানালেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের সপ্তম দিনে সোমবার চুয়েট ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পালন করেন ‘শ্বেত কাপড়ে গণসাক্ষ্য’ কর্মসূচি। একটি সাদা শাড়ির ওপর রংতুলি ও মার্কার দিয়ে উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরেন তারা।
এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও চলমান কর্মবিরতির সমর্থনে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
চুয়েটের মূল ফটক এবং উপাচার্য ভবনে এখনও তালা ঝুলছে। বন্ধ আছে অ্যাকাডেমিক-প্রশাসনিক সব ধরনের কার্যক্রম।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় আকস্মিক এই পরিবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিস্মিত ও হতাশ হন। পরদিন থেকেই ক্যাম্পাসে শুরু হয় আন্দোলন।




