জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতির নবীনবরণ ও বিদায়ী সংবর্ধনা

ছবি: আগামীর সময়
নবাগতদের বরণ ও বিদায়ীদের সংবর্ধনা জানিয়েছে বৃহত্তর সিলেট বিভাগ থেকে পড়তে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে এই প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
সমিতির সভাপতি আব্দুল বাসিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, ঢাবির সহকারী প্রক্টর ড. আলী মোহাম্মদ কায়সার, ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্না, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহদী চৌধুরী, ব্যারিস্টার ফয়েজ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।
বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, উন্নয়ন একটি সমন্বিত বিষয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ করে মোট ১০ শতাংশ বাজেট নির্ধারণ করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটা স্যোশাল ইনডেক্সে সিলেট বিভাগ অন্য সব বিভাগের পেছনে থাকে। এমনকি স্কুল-কলেজের সংখ্যায়ও পেছনে। এই জায়গা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের আসল সমস্যা লজিস্টিকসের আর লিডারশিপের। ঢাবির শিক্ষার্থীদেরই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
সিলেটের উন্নয়নে সামনে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছেন, সিলেট সিটি করপোরেশনে মোট ৮০০ কিলোমিটার রাস্তা আছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪০০ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা হয়েছে। আর বাকি যে সাড়ে ৩০০ কিলোমিটার আছে, তার কাজ আগামী ২-৩ বছরের মধ্যেই হয়ে যাবে। আমরা ১১০ বছর সময় নেব না। এ ছাড়া আগামী একনেকের সভায় সিলেট বিভাগের এলজিইডির রাস্তাগুলোর জন্য ৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ হবে। পাশাপাশি সিলেটে নতুন যে মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হচ্ছে, সেখানে একটি ১২০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমি খবর নিয়ে দেখলাম এ বছর সিলেট থেকে ৮০ শিক্ষার্থী ঢাবিতে এসেছেন। ১৯২১ সালে যখন ঢাবি প্রতিষ্ঠিত হয় তখন থেকেই এখানে সিলেটের শিক্ষার্থী রয়েছেন। এমনকি ঢাবির প্রথম নারী শিক্ষার্থী লীলা নাগও আমাদের সিলেটের। আমি গল্প শুনেছি, ঢাবির প্রতিটি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীরা আমাদের সিলেটেরই ছিল। কিন্তু সময়ের আবর্তনে এবার সিলেট থেকে মাত্র ৮০ জন এসেছে।
শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সিলেট থেকে ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার লোকের খুব অভাব। ঢাবিতে যেভাবে সিলেটের ছাত্রসংখ্যা কমছে, এমনিভাবে সিলেটকে আগামী দিনে নেতৃত্ব দেওয়ার লোকও কমছে। তবে যারা এখন ঢাবিতে আছে, তারাই আগামী দিনে সিলেটের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, আমরা সিলেটের মানুষ সবসময় নিজেদের সিলেটি পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমাদের নিজস্ব জাতিসত্তা ও সংস্কৃতিকে আমরা যেভাবে ধারণ করি, সেটা আর অন্য কোথাও দেখা যায় না। এসময় নানা সমস্যায় জর্জরিতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
পড়ালেখার পাশাপাশি নিজেদের বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের তাগিদ দিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলুন। লক্ষ্য ঠিক থাকলে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে সিলেটের শিক্ষার্থীদের নানাভাবে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সচিব বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আমাদের সিলেটের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।’
আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেছেন, আমার সিলেটি পরিচয় নিয়ে সবসময় আমি গর্ববোধ করি। আমাদের আঞ্চলিকতা কিংবা সংস্কৃতি আমাদের প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং এটি আমাদের আত্মপরিচয়। আমাদের যে সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত, সেটাকে দেশবাসীর কাছে আমাদেরই ভালোভাবে তুলে ধরতে হবে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী আমার সঙ্গে ক্যাডেট কলেজে নিয়মিত পত্রিকা পড়তেন। তোমরাও পত্রিকা পড়। নিজের মেধাকে শাণিত করে এগিয়ে চলো।



