গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
বড় বই নয়, গল্প ও আনন্দে সাজবে নতুন কারিকুলাম

‘নীল কমল অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: আগামীর সময়
শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার ও পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে বিশ্বমানের দক্ষ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে আনা হবে এ পরিবর্তন।
‘এই পরিবর্তন বড় বড় বই চাপিয়ে দিয়ে নয় বরং নতুন কারিকুলাম এমনভাবে সাজানো হবে যাতে শিশুরা গল্প, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা নিতে পারে।’
আজ বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে ‘হলদে পাখি নীল কমল অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।
শিশুদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ কমানোর ওপর জোর দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিশুদের বয়স আনন্দের মাধ্যমে শেখার। তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বা বড় বড় বই চাপিয়ে দেওয়ার সময় এখন নয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলামে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবজীবনভিত্তিক দক্ষতা শেখানো হবে। শিক্ষার্থীরা কীভাবে ভালো নাগরিক হবে, কীভাবে নিজের ঘরবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখবে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করবে—সেসব বিষয় বাস্তবসম্মতভাবে শিখবে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল চালুর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।
উপস্থিত খুদে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আজ আমি শুধু গার্ল গাইডসদের মাঝে নেই, আমি আগামী বাংলাদেশের নেতাদের মাঝে আছি। আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।
অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আগত মোট ৫৭ জন সফল হলদে পাখি সদস্যকে মর্যাদাপূর্ণ ‘নীল কমল অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার পর ববি হাজ্জাজ তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এই অর্জন ভবিষ্যতে দেশের অন্য শিক্ষার্থীদেরও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গার্ল গাইডসের নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।






