গতিহীন জামদানি ভিলেজ

জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআই পণ্য হিসেবে জামদানি শাড়ি শিল্পের উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও প্রচারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ‘জামদানি ভিলেজ স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির অনুকূলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ দেওয়া আছে ৮ কোটি টাকা। কিন্তু গত আগস্ট মাস পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া অর্থের এক টাকাও খরচ হয়নি।
এদিকে প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জীভূত আর্থিক ব্যয় ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা, যা বরাদ্দের ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড। গত ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভা। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ওই সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়া গ্রামে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জামদানি ভিলেজ স্থাপনের প্রকল্পটি। পিএসসি সভায় প্রকল্প পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকল্পের আওতায় মূল ভবন—অর্থাৎ তিনতলার গবেষণা ও নকশা উন্নয়ন এবং প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র, ক্রেতা বা বায়ারস রিফ্রেশমেন্ট ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। এরই মধ্যে পাইলিং শেষ হয়েছে। ২৯টির মধ্যে ১৭টির পাইল ক্যাপের রড বাইন্ডিং কাজ শেষ। অবশিষ্ট ১২টির পাইল ক্যাপের রড বাইন্ডিং কাজ সম্পন্নপূর্বক ঢালাই কাজ শিগগির সম্পন্ন করা হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ‘আরসিসি ফ্রেমসহ গেট ও এমএস গেট নির্মাণ’কাজ ছাড়া অন্য সব পূর্তকাজের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মূল ভবন নির্মাণকাজের নির্মাণসামগ্রী যেমন— রড, বালু, ইট, সিমেন্ট, আরসিসি ফ্রেমসহ গেট ও এমএস গেটের নির্মাণস্থল দিয়ে প্রবেশ করানো হচ্ছে। মালামাল প্রবেশের অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই। তাই ‘এমএস গেট নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। মূল ভবনের অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ‘এমএস গেট নির্মাণ’ কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বাজেট) মো. তারিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি খুবই কম। পূর্ত নির্মাণকাজের বাইরেও মেশিনারিজ, যন্ত্রপাতি, আসবাব এবং অফিস সরঞ্জাম কেনার বিষয় রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। ফলে সংশোধিত আরডিপিপি (সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অতিদ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) এনডিসি রোকেয়া খাতুন জানিয়েছেন, মাসভিত্তিক প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন ইপিএমআইএস সফটওয়্যারে আপডেট করতে হবে।
শিল্প ও শক্তি বিভাগের যুগ্ম প্রধান জান্নাত উল ফেরদৌস বলেছেন, প্রকল্পের পিএসসি এবং পিআইসি সভাগুলো নিয়মিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) সুব্রত শিকদার বলেছেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর বা সংস্থার বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর পিএসসি এবং পিআইসি সভাগুলো নিয়মিত করা হয়। কিন্তু এ মাসে পিআইসি সভা করা হয়নি। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পিআইসি সভা আয়োজন করা হবে।
পিএসসি সভার সভাপতি বস্ত্র ও পাট সচিব শরিফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেছেন, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের সব কাজ ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করতে হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের পাইল ক্যাপের রড বাইন্ডিং কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে মূল ভবন নির্মাণের স্থাপত্য নকশা ও মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সংশোধিত আরডিপির প্রস্তাব বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।



