বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা ৫ শতাংশের প্রতিশ্রুতি

বিটিএমএর সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী
সংকটে থাকা বস্ত্র খাতকে বাঁচাতে দেশীয় সুতায় তৈরি করা পোশাক রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনার হার বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। বিদ্যমান দেড় শতাংশ নগদ প্রণোদনা থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা বৈঠক করেন। এই বৈঠকে বস্ত্রকল মালিকদের পক্ষ থেকে নগদ সহায়তা বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হলে অর্থমন্ত্রী নগদ সহায়তার হার বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন। বাকি দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানানো হয়।
বৈঠক শেষে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বর্তমানে দেশের বস্ত্র খাত নানা সংকট মোকাবিলা করছে। বিদ্যমান এসব সমস্যা সমাধানে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে নগদ প্রণোদনার হার বাড়ানোসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছিলাম। অর্থমন্ত্রী প্রণোদনার হার ৫ শতাংশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা দ্রুত ঘোষণা করা হবে।’
দেশের বস্ত্র খাতকে সুরক্ষা দিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রণোদনা দিয়ে আসছিল সরকার। কিন্তু স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা বা এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কারণ দেখিয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি দেশি সুতা ও কাপড় ব্যবহারে নগদ প্রণোদনা ৬ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করে। ওই বছরের জুলাইয়ে সেই প্রণোদনা আরও কমিয়ে দেড় শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। তারপর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও প্রণোদনা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন কারণে দেশের স্পিনিং মিলগুলো ধুঁকছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়া, বিদ্যুতের লোডশেডিং, দেশের সুতা ব্যবহারে প্রণোদনা হ্রাস ও ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে স্পিনিং মিলের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে ভারত সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা পাওয়ায় দেশটির ব্যবসায়ীরা কম দামে সুতা বিক্রি করতে পারছেন।
এজন্য তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় পাশের দেশটি থেকে সুতা আমদানি বাড়িয়েছে। আবার বন্ড সুবিধায় আমদানি করা সুতাও বেআইনিভাবে স্থানীয় বাজারে চলে যাচ্ছে। ফলে দেশের সুতাকলে উৎপাদিত সুতা বিক্রি কমে গেছে। মিলগুলো তাদের উৎপাদন সক্ষমতার ৬০-৭০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করতে পারছেন না বলেও জানান তারা।
বিটিএমএর অন্য দাবিগুলো ছিল ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল, প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে করহার ১২ শতাংশে নামানো, এমএমএফ কাঁচামালে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, নগদ সহায়তার উৎসে কর প্রত্যাহার এবং ইন্টার-কোম্পানি ঋণে কর অব্যাহতি প্রদান।
বিটিএমএ সভাপতি আরও বলেছেন, বিশ্ববাজারে ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ)-ভিত্তিক পোশাকের চাহিদা বাড়লেও পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার (পিএসএফ), পিভিসি রেজিন ও পিইটি রেজিনের ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক দেশীয় উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে। এ শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে এমএমএফভিত্তিক সুতা, কাপড় ও পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশ আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে যেতে পারবে।
তিনি আরও বলেছেন, এই করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করলে রপ্তানিকারকদের প্রকৃত করের চাপ ও তারল্যসংকট আরও বাড়বে। তাই উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অথবা ৫ শতাংশ করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার দাবি করেন।




