পোশাক রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএ জাপান ডেস্ক
- ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণ এবং জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) উদ্যোগে চালু হলো ‘বিজিএমইএ জাপান ডেস্ক’।
গতকাল বুধবার জাপানি ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের জন্য বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদির মিলনায়তনে এই বিশেষ উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ডেস্ক মূলত একটি ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের অর্ডার ব্যবস্থাপনা, জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ তৈরি, বাজারসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে ডেস্কটি সহায়তা করবে।
অপ্রচলিত বা নতুন বাজারের মধ্যে জাপানেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা ও গন্তব্য। বর্তমানে দেশটি থেকে বছরে প্রায় ১১৪ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় আসে। তবে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বিশাল এই বাজারের সম্ভাব্য ক্ষমতার তুলনায় প্রাপ্তির পরিমাণ বেশ কম। প্রায় ১৩ কোটি জনসংখ্যার দেশ জাপানে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক বিক্রি হয়। অথচ বিশালাকার এই বাজারে বাংলাদেশের বর্তমান অংশীদারত্ব মাত্র ১ শতাংশের সামান্য বেশি। পোশাক খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক কৌশলী পদক্ষেপে চলতি অর্থবছরই এ রপ্তানি দ্বিগুণ করা সম্ভব, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
জাপানি ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের জন্য বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৭২টি কারখানাকে ডেডিকেটেড বা বিশেষভাবে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, যা শুধু জাপানি ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের রপ্তানি আদেশ অনুযায়ী পোশাক তৈরি করবে। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বললেন, একটি নির্দিষ্ট খাত বা প্রচলিত কয়েকটি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকা দীর্ঘমেয়াদে সমীচীন নয়। এ কারণে বিজিএমইএ পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বললেন, জাপানের বাজার বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই বিজিএমইএতে জাপান ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
মাহমুদ হাসান খান বললেন, জাপানের বাজারে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে স্বল্পতম সময়ে পণ্য সরবরাহ বা ‘লিড টাইম’ নিশ্চিত করা বর্তমানে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাপান ডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেছেন, এই ডেস্ক বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে গতিশীল করবে।



