জবরদখলের অভিযোগ করলেও দখলকারীর নাম বলল না ফারইস্ট লাইফ ইন্সুরেন্স

ছবি: আগামীর সময়
আদালতের আদেশ অমান্য করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মিরপুরের গুদাম চটবাড়ির ৬২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
আজ রবিবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ আনা হয়। তবে এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও, তারা কারা তা জানাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবদুর রহিম ভূঞা বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি দখল, আদালতের আদেশ অমান্য এবং আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগের বিষয়ে তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে দখল ও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম জানতে চাওয়া হলেও সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ফারইস্ট লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও বললেন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে সম্পত্তির মালিকানা ও রেকর্ড সংরক্ষণ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সম্পত্তির একটি অংশে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু এ বছরের সেপ্টেম্বরে সম্পত্তিটি ঘিরে বিরোধ ও দখলের ঘটনা ঘটে।
কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল সম্পত্তির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে সেখানে প্রবেশ করে। এতে সম্পত্তির দখল নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। কোম্পানির অভিযোগ, এ ঘটনায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে দখল প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের দাবি, সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। আদালতের আদেশ অমান্য করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত সিইও আরও বলেছেন, মামলা না নেওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে পুলিশ একাধিকবার ঘটনাস্থলে গেলেও দখলচেষ্টা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আরও দুটি জিডি করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, আদালতের আদেশের পূর্ণ বাস্তবায়ন, সম্পত্তির ওপর দখল ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দখল প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
এ ছাড়া শাহ আলী থানা পুলিশের ভূমিকা তদন্ত, গ্রাহকদের আমানত ও প্রতিষ্ঠানের বৈধ সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে কোম্পানির স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত সিইও বলেছেন, তারা কোনো সংঘাত চান না। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পত্তি উদ্ধার এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য।



