সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেক কমাল সরকার
- বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এমন সিদ্ধান্ত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অভ্যন্তরীণ বাজারে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে গতকাল মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের খুচরা ও পাইকারি বাজারে পোলাও বা সুগন্ধি চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে সরবরাহে টান ধরায় সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছিল এই নিত্যপণ্যটি। অসাধু মজুদদারি রোধ এবং স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করে চালের দাম নাগালের মধ্যে আনতেই সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ। তবে রপ্তানিকারকরা বলছেন ভিন্ন কথা। চাহিদার কয়েক গুণ বেশি সুগন্ধি চাল উৎপাদন হয়; যার কারণে রপ্তানির অনুমতি থাকলেও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকার কারণ নেই।
সংশোধিত এ নির্দেশনায় আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা চাল রপ্তানির পরিমাণ কমিয়ে ঠিক অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং যার মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রপ্তানিকারকরাও আগের বরাদ্দের অতিরিক্ত চাল বিদেশে পাঠাতে পারবেন না।
এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যার মধ্যে গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান ২ হাজার ৪১৯ টন চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।
কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছতা ও বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনা নিশ্চিত করতে ১০টি সুনির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী রপ্তানিকারকদের ‘রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭’-এর সব বিধান মেনে চলতে হবে এবং এই অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রতিটি চালান পাঠানোর আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা নিশ্চিত করবে এবং জাহাজীকরণের পরপরই সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। ভবিষ্যতে নতুন অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত পরিমাণের বেশি চাল পাঠানো যাবে না।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে দর সুরক্ষায় প্রতি কেজি চালের সর্বনিম্ন মূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য হওয়ায় কোনো সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করার সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় দেশে আসার প্রমাণ হিসেবে পিআরসি দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই এ অনুমোদন বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো— বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল অগ্রাধিকার। বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসই প্রক্রিয়ায় চাল পাঠানোর পথ খোলা রেখেছে, যা বাজারের স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদেরও স্বস্তি দেবে।





