টানা তিন মাস কমল জেট ফুয়েলের দাম
- লিটারে কমল ১৯ টাকা

সংগৃহীত ছবি
চলতি মাসে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও কমেছে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের (জেট ফুয়েল) দাম। এর ফলে টানা তৃতীয় মাসের মতো জেট ফুয়েলের দাম কমল।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জুলাই মাসের জন্য নতুন দর ঠিক করে। ঘোষিত দর অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৫০ টাকা ২১ পয়সা থেকে ১৯ টাকা ২২ পয়সা কমিয়ে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম শূন্য দশমিক ৯৮০৮ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে জুন মাসেও জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছিল। তখন প্রতি লিটারে ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটের দাম ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জেট ফুয়েলের দাম কমায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিচালনার জ্বালানি ব্যয় কিছুটা কমবে। তবে এর প্রভাব বিমান ভাড়ায় পড়বে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে জেট ফুয়েলের দাম বড় পরিসরে বাড়ানো হয়েছিল। গত ২৪ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৯ শতাংশ বাড়ানো হয়। এরপর ৭ এপ্রিলও মূল্যবৃদ্ধি করা হয়।
পরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করলে দেশেও ধাপে ধাপে জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়। মে মাসে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটারের দাম ২২৭ টাকা শূন্য ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়। জুনে তা নেমে আসে ১৫০ টাকা ২১ পয়সায়। সর্বশেষ জুলাই মাসের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে টানা তৃতীয় মাসের মতো জেট ফুয়েলের দাম কমাল বিইআরসি।
আর্ন্তজাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রতি মাসে জেট ফুয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হয়।
চলতি মাসে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বিশ্ববাজারে দাম অনেক বেড়ে গেলে দেশেও গত এপ্রিলের মাঝামাঝি দাম বাড়ানো হয়। এরপর মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে দেশের বাজারে জুন মাসের জন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের (পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিন) দাম বাড়ায় সরকার।
এদিকে চলতি মাসে ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বিইআরসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ১৬ টাকা ৫৩ পয়সা কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে।
এর আগে ২ জুন বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। একই সময়ে অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা করা হয়েছিল। জুলাই মাসে নতুন সমন্বয়ের ফলে এক মাসের ব্যবধানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আরও ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে।
একই হারে অন্যান্য ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও কমেছে। যদিও বাজারে বিইআরসি নির্ধারিত দামে কখনই এলপিজি পাওয়া যায় না। খুচরা ব্যবসায়ীরা সবসময়ই নানা কৌশলে বাড়তি টাকা আদায় করে আসছে।





