মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জ মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংকও

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের কারণে দেশের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) ১৪তম সভায় দেশের সার্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনা করে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী থাকলেও তা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের নির্ধারিত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনো বেশ ওপরে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যসহ পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং সাম্প্রতিক দেশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সরকার গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে যথাক্রমে ১৩৫, ১৬০, ১৬৫ ও ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে।
পাশাপাশি গত ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এমন একসময়ে এই দুটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যখন পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে আগস্টে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ (জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ), যা সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত: অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক এসব ধাক্কার প্রকৃত প্রভাব কেমন পড়ে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চায় মুদ্রানীতি কমিটি।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত বর্তমান নীতি সুদহারে (রেপো রেট) কোনো পরিবর্তন না আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সভায়। ফলে গত জুলাইয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করা নীতি সুদহার আপাতত অপরিবর্তিত থাকছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুদ্রানীতি কমিটির অন্যান্য সদস্য ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



