পোশাকের কাঁচামালে শর্ত শিথিল
- আমদানি নীতি আদেশ সংশোধনের প্রজ্ঞাপন

সংগৃহীত ছবি
পোশাকশিল্পে উচ্চমূল্যের ও বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদন বাড়াতে কৃত্রিম তন্তুর তৈরি বিশেষ ধরনের কাপড় আমদানির সুযোগ বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানি, বিশেষায়িত টেক্সটাইল ও হোসিয়ারি পণ্যের কাঁচামাল এবং বন্ডেড শিল্পপ্রতিষ্ঠানের লবণ আমদানির ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এতে রপ্তানিমুখী পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের আমদানি প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য-১ শাখা থেকে গত রবিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২৯ সংশোধন করে এসব পরিবর্তন আনা হয়। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সংশোধিত আদেশ অনুযায়ী, শুধু কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের তৈরি পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাপড় এখন আকৃতি ও আকার নির্বিশেষে আমদানি করা যাবে। এর আওতায় রয়েছে সেলাইবিহীন স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য ও ফাংশনাল পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষায়িত কাপড়। তবে এসব কাপড় আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) অথবা বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সুপারিশ নিতে হবে।
এ ছাড়া আমদানি নীতি আদেশের ২৫ অনুচ্ছেদের বিভিন্ন উপ-অনুচ্ছেদে সংশোধন এনে কাঁচামাল ও মোড়কসামগ্রীর তালিকায় ‘অন্যান্য উপকরণ’ যুক্ত করা হয়েছে। ফলে রপ্তানিমুখী পোশাক ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে বিধানটি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশেষায়িত টেক্সটাইল ও হোসিয়ারি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও শর্ত শিথিল করা হয়েছে। নিশ্চিত ও অপ্রত্যাহারযোগ্য ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে রপ্তানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র বা চুক্তির বিপরীতে ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) বা ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ কাঁচামাল ও মোড়কসামগ্রী আমদানি করা যাবে। এক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ও শর্তযুক্ত তালিকাভুক্ত পণ্যও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে আমদানি করা যাবে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ছাড়াই প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারবে। একই সঙ্গে কারখানার উৎপাদন সচল ও সক্ষমতা বজায় রাখতে মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানির সুযোগও স্পষ্ট করা হয়েছে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আগামীর সময়কে বললেন, রপ্তানি শিল্পের বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে নীতি সহজ করা হলে শিল্পের জন্য তা ইতিবাচক হবে।



