প্রোটিন জোগায় শক্তি, পুষ্টি দেয় সুরক্ষা

ড. সাজেদুল করিম সরকার
এবারের ডিম দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘Protein that Powers and Protects’— অর্থাৎ ডিমকে শুধু প্রোটিনের উৎস হিসেবে নয়, মানসম্মত প্রোটিন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের সমন্বিত খাদ্য হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুধু প্রোটিন নয়, মানসম্মত প্রোটিন: মানবদেহের বৃদ্ধি, টিস্যু গঠন ও মেরামত এবং পেশি রক্ষণাবেক্ষণে প্রোটিন অপরিহার্য। তবে প্রোটিনের গুরুত্ব শুধু পরিমাণে নয়, এর গুণমান ও অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠনেও নির্ভর করে। ডিমে মানুষের প্রয়োজনীয় ৯টি Essential amino acid-ই রয়েছে। এ কারণে এটি উচ্চমানের প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ, প্রাপ্তবয়স্কদের পেশি ও টিস্যু রক্ষণাবেক্ষণ এবং বয়স্কদের পেশিশক্তি ধরে রাখতে ডিমের এই গুণগত বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো একক খাবারই মানুষের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারে না।
প্রোটিনের বাইরেও পুষ্টি: এবারের প্রতিপাদ্যের ‘Protects’ অংশটিও গুরুত্বপূর্ণ। ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি Choline, Vitamin B12, Vitamin D ও Selenium-এর মতো পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম, স্নায়ুতন্ত্র ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় ডিম: বাংলাদেশের মতো দেশে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য প্রাণিজ খাদ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ডিম উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০৯ কোটি। একই সময়ে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে বছরে প্রায় ১৪১টি। এই অগ্রগতি শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির গল্প নয়। এর সঙ্গে Breeding, Hatchery, Feed manufacturing, Commercial farming, Transportation, Marketing & Retail মিলিয়ে গড়ে উঠেছে বিস্তৃত Poultry value chain। ফলে ডিম এখন খাদ্য ও পুষ্টির পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শিশু পুষ্টিতে সম্ভাবনা: ডিমের মানসম্মত প্রোটিন ও বিভিন্ন Micronutrient শিশুদের পুষ্টির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব পরিবারে প্রতিদিন বৈচিত্র্যময় খাদ্য নিশ্চিত করা কঠিন, সেখানে তুলনামূলক সহজলভ্য প্রাণিজ খাদ্য হিসেবে ডিম খাদ্যতালিকার পুষ্টিমান বাড়াতে পারে। বাংলাদেশে স্কুল ফিডিং ও পুষ্টি কর্মসূচির সঙ্গে স্থানীয় Poultry production-এর সমন্বয় নিয়ে ভাবার সুযোগ রয়েছে।
‘More eggs’ থেকে ‘Better eggs’: বাংলাদেশ ডিম উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু আরও বেশি ডিম নয়, আরও নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও গুণগতভাবে উন্নত ডিম উৎপাদন। জাত ও Strain অনুযায়ী উৎপাদনক্ষমতা, Feed efficiency, Egg quality, Amino acid profile, Fatty acid composition ও অন্যান্য পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় Feed ingredients ব্যবহার করে উৎপাদন ব্যয় কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
লেখক: প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট



