সূচক বেড়েছে ১৯ শতাংশের বেশি

দীর্ঘ সময়ের অস্থিরতা ও মন্দাভাব কাটিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ‘মার্কেট সামারি’ অনুযায়ী, প্রধান মূল্যসূচক, লেনদেন, বাজার মূলধন, বিদেশি বিনিয়োগ, মোবাইল ট্রেডিংসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে কিছু সূচকের পতনকে বাজারের জন্য সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন জানালেন, সূচক, বাজার মূলধন, লেনদেন ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক; তবে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের জন্য কাঠামোগত সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের শুরুতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৮৩৮ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে থাকলেও বছর শেষে তা ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৭৬২ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে পৌঁছায়। একই সময়ে ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস৩০ ১৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮১৫ দশমিক ৯৬ থেকে ২ হাজার ১৭৮ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১০ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৬৮ দশমিক ১৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ৫৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৯৪ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। দৈনিক গড় লেনদেন ৪ হাজার ৭২৫ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৭ হাজার ২২৬ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া মোট শেয়ার হাতবদল ৪৫ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে ৫৯ হাজার ৩৩১ মিলিয়ন শেয়ারে এবং ব্লক মার্কেটের লেনদেন ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তালিকাভুক্ত সব সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৯ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৩ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা সরকারি ট্রেজারি বন্ড বাদ দিলে প্রায় ১০ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন ২৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়ে ৩৯ হাজার ৪১৪ মিলিয়ন থেকে ৪৯ হাজার ৪৩১ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন ৭৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩৫ মিলিয়ন টাকা হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ ছাড়া জি-সেক লেনদেন ৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) লেনদেন প্রায় ৭৪ শতাংশ বেড়ে ৭১ দশমিক ১৩ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে।
তবে জিডিপির তুলনায় বাজার মূলধনের অনুপাত ১১ দশমিক ৯৩ থেকে কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমেছে। তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা ৬৫৫ থেকে ৬৪০-এ, মিউচুয়াল ফান্ড ৩৭ থেকে ৩৬-এ এবং সরকারি ট্রেজারি বন্ডের সংখ্যা ২৩৪ থেকে ২২০-এ নেমেছে। এসএমই বাজারে মোট লেনদেন সামান্য ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ বাড়লেও এসএমই ব্লক মার্কেটের লেনদেন ৩৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কমেছে। বাজারের গড় পিই অনুপাত ৯ দশমিক ৩৪ থেকে কমে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে। এ ছাড়া লেনদেনের ওপর উৎসে কর ও ডিএসইর পরিশোধিত আয়কর— দুটিই আগের বছরের তুলনায় কমেছে।




