হানিকুইন আনারসে নতুন সম্ভাবনা
- রাবির গবেষণা

হানিকুইন জাতের আনারস নিয়ে চলছে যুগান্তকারী গবেষণা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একটি গবেষণাগারে নীরবে এগিয়ে চলছে সম্ভাবনার এক নতুন গল্প। সেখানে হানিকুইন জাতের আনারস নিয়ে চলছে যুগান্তকারী গবেষণা। লক্ষ্য হলো, বিশুদ্ধ ও রোগমুক্ত চারা উৎপাদন। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের খরাপ্রবণ এলাকায় বছর জুড়ে আনারস চাষের প্রযুক্তি উদ্ভাবন। এটি সফল হলে কৃষকরা কম খরচে মানসম্মত চারা পাবেন। বাড়বে ফলন ও রপ্তানির সম্ভাবনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরিতে দুই বছর ধরে এ গবেষণা চলছে। নেতৃত্বে রয়েছেন অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তার সঙ্গে আছেন ইউজিসি ফেলোশিপপ্রাপ্ত পিএইচডি গবেষক মাকসুদা পারভীন এবং জেনেটিকস অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের এম এস গবেষক শারমিন সুলতানা।
গবেষকরা আনারসের ক্রাউনের অতি ক্ষুদ্র টিস্যু ব্যবহার করছেন। ক্যালাস ইনডাকশন ও ইনডাইরেক্ট রিজেনারেশন পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন চলছে। পরবর্তী ধাপে বায়োরিয়্যাক্টর ও লিকুইড মিডিয়া ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র তিন মাসে লক্ষাধিক চারা তৈরি করা যাবে।
অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ জানালেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে একটি গাছ থেকে তিন থেকে ২০টি চারা মেলে; কিন্তু নতুন প্রযুক্তিতে ক্রাউনের মাত্র ১ সেন্টিমিটার টিস্যু থেকে এক মাসেই প্রায় ৫০টি চারা উৎপাদন সম্ভব। এসব চারা শতভাগ মাতৃগুণসম্পন্ন ও রোগমুক্ত। পাশাপাশি কোনো রাসায়নিক বা গ্রোথ প্রোমোটর ছাড়াই নিরাপদ আনারস উৎপাদন গবেষণা দলের অন্যতম লক্ষ্য।
রাজশাহীর খরাপ্রবণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে গবেষকরা ড্রিপ ইরিগেশন ও স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন। এতে পানির অপচয় ও আগাছা কমে। আম, কুল বা পেয়ারা বাগানে সাথী ফসল হিসেবেও এই আনারস চাষ করা যাবে। একবার তৈরি করলে এই সেচ কাঠামো ৫-১০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
গবেষক মাকসুদা পারভীন বলছেন, আনারস একটি বহুমুখী ফসল। এর ফল, পাতা ও কাণ্ড— সবকিছুরই ব্যবহার রয়েছে। হানিকুইন জাত অত্যন্ত মিষ্টি ও সুগন্ধযুক্ত হওয়ায় এ জাতকে গবেষণার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে একই সঙ্গে অধিকসংখ্যক, রোগমুক্ত, উন্নতমানের এবং একই পরিপক্বতার চারা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এসব চারা কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
গবেষক শারমিন সুলতানা বলেছেন, হানিকুইন জাতের আনারসের বাজার চাহিদা অনেক বেশি; কিন্তু একই বয়সের, একই জাতের এবং রোগমুক্ত চারা সহজে পাওয়া যায় না। ফলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন পান না। টিস্যু কালচার প্রযুক্তি সে সংকট দূর করতে পারে।
গবেষকরা আশাবাদী, এই উদ্যোগ সফল হলে কৃষি খাত, কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও নিরাপদ ফল উৎপাদনে উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত।




