ইরানের হামলায় জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত, একজন নিখোঁজ
- সমঝোতা স্মারকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন’: খামেনি

কুয়েতে ইরানি হামলা। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে যুদ্ধের দাম এখন শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনে নয়, গুনতে হচ্ছে প্রাণহানিতেও। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানায় সেন্টকম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারককে কার্যত অকার্যকর বলে ঘোষণা করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। এতে আরও গভীর হলো দুই দেশের সংঘাত।
সেন্টকমের ভাষ্য, ওই ঘটনায় আরও এক সেনা এখনো নিখোঁজ। চারজনকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিল জর্ডানের হাসপাতালে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সামান্য আহত অন্য সেনারা ফিরেছেন দায়িত্বে । এর ঘণ্টাখানেক আগেই (শনিবার ) এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও প্রমাণ করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই।
খামেনির অভিযোগ, সমঝোতা ভঙ্গ করে ওয়াশিংটন দেখিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখা যায় না। তিনি দেশটিকে ‘গ্রেট স্যাটান’ আখ্যা দিয়ে আধিপত্যবাদ ও নিষ্ঠুরতার অভিযোগও তোলেন। তিনি আরও বলেছেন, সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর পথেই যদি যুক্তরাষ্ট্র এগোয় এবং এর মূল্য দিতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে ‘ইরানি জাতি ও প্রতিরোধ অক্ষের’ পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের জন্য ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ অপেক্ষা করছে। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি যোদ্ধা ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের কর্মকাণ্ড সেই বার্তারই উদাহরণ।
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের নির্মাণবিষয়ক কমিটির সদস্য মোজতবা ইউসেফি বলেছেন, অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। প্রয়োজনে ইসরায়েলের রেলপথ ও সেতুতেও হামলা চালাতে পারে তেহরান। তিনি দাবি করেছেন, অবকাঠামোগত দিক থেকে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিনই কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে রিয়াদ। এর আগে একই ধরনের নিন্দা জানিয়েছিল কাতার ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব।




