৬৪ দিন তালাবদ্ধ জাবির প্রক্টর অফিস

ছবি: আগামীর সময়
এক বহিরাগত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে গত ১২ মে রাতে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা ১৬ মে প্রক্টর অফিসে তালা দেন। এরপর পেরিয়ে গেছে ৬৪ দিন। অপরাধীও ধরা পরেনি এবং এখনো খোলা হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তর। এতে একদিকে ভোগান্তিতে পড়ার কথা বলছেন সেবাপ্রার্থী শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ, আবার নিয়মিত দায়িত্ব পালনে বাধার মুখে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি।
পর্যায়ক্রমে এ ঘটনার তদন্তভার পড়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ওপর। ফলে ঘটনার বিচারের দাবিতে প্রক্টর অফিসে তালা দেওয়ার ঘটনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। আবার প্রক্টর অফিস খোলার বিষয়েও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে। অন্যদিকে, তালা দেওয়া শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডিকে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে তাদের পদত্যাগ দাবি করছেন।
জানা যায়, ১২ মে রাত সোয়া ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশসংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তবে আন্দোলনের দাবি-দাওয়া, সাংবাদিক হেনস্তা, প্রক্টরকে অশ্রাব্য ভাষায় সম্বোধন, উপাচার্যকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়া এবং কর্মসূচি নিয়ে মতভিন্নতার জেরে আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। একপর্যায়ে একদল শিক্ষার্থী প্রক্টর অফিসের তালা ভেঙে নিজেদের তালা লাগিয়ে দেন, যা এখনো খোলা হয়নি।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে জরুরি প্রশাসনিক সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ব্যক্তিদের দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানাকে কমিটির সভাপতি এবং উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফকে সদস্য সচিব করা হয়। ১৪ জুন এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য জানিয়েছিলেন, ১৫ জুনের সিন্ডিকেট সভার পর প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়া হবে। সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে, এখনো অফিসটি খোলা হয়নি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের সেবা এবং প্রশাসনিক নানা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন অংশীজন। বর্তমানে জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ কিংবা আ ফ ম কামালউদ্দিন হল অফিসে বসে দায়িত্ব পালন করছেন প্রক্টর। ফলে প্রক্টর অফিস-সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
এ নিয়ে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী মেরাজ বলেছেন, ‘প্রক্টর অফিস তালা দিয়ে ক্যাম্পাসকে আরও অনিরাপদ করা হয়েছে। প্রয়োজনে প্রক্টর অফিসে গিয়ে বন্ধ পেয়েছি। এ অবস্থায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে?’ আরেক শিক্ষার্থী মালিহা বলছিলেন, ‘যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক প্রক্টর অফিস খোলা থাকার কথা, সেখানে দুই মাস ধরে এটি বন্ধ। আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে?’
তবে আন্দোলনকারীদের তালাদানকারী অংশের সজিব আহমেদ জেনিচ (দর্শন ৫১ ব্যাচ) বলেছেন, ‘প্রক্টরের বিষয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে আমরা সন্তুষ্ট নই। প্রক্টর রাশেদুলসহ প্রক্টরিয়াল বডি সরিয়ে নতুন সেটআপ দেওয়া হোক। আমরা নারী আন্দোলনকারীদের নিয়ে শিগগির সংহতি সমাবেশ করব। আশা করি, এক সপ্তাহের মধ্যে প্রক্টরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করাতে পারব।’
এ বিষয়ে উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, ‘তদন্ত কমিটি প্রক্টর অফিস খোলার অনুমতি দিলেও শিক্ষার্থীরা বলছে বিচার সঠিক হয়নি। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি ইগনোর করতে পারি না, আবার সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এখতিয়ারবহির্ভূত কাজও করতে পারি না।’ তিনি যোগ করেন, আলোচনা করে শিগগির প্রক্টর অফিস খুলে দেওয়া হবে।




