বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার 'অচেনা ২৭তম’ খেলোয়াড়

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের মূল দলে খেলোয়াড় থাকে ২৬ জন। আর্জেন্টিনা অবশ্য এবার ২৬ জনের বদলে ২৭ জন নিয়ে বিশ্বকাপ সফরে রয়েছে! এই শেষ সদস্যটি মাক্সিমো লেগুইস্যামন। তিনি দলের সঙ্গেই থাকেন তবে ম্যাচ ডে'র মূল স্কোয়াডে নাম থাকে না।
১৯ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক খেলেন তিগ্রে ক্লাবের রিজার্ভ দলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দলের একমাত্র 'স্পারিং পার্টনার' (অনুশীলনে সাহায্যকারী খেলোয়াড়) হিসেবে তিনি দলে রয়েছেন। এর আগে তিনি আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলেও খেলেছেন।
মজার ব্যাপার হলো, কাতার ২০২২ বিশ্বকাপেও ঠিক একইভাবে তিগ্রে ক্লাবেরই আরেক তরুণ গোলরক্ষক ফেদেরিকো গোমেস গার্থ ঠিক এই ভূমিকায় দলে ছিলেন। অর্থাৎ, পজিশন এবং ক্লাব-দুই দিক থেকেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
মাঠ কাঁপানো এক প্রতিভার গল্প
মাক্সিমো লেগুইস্যামনের এখনো তিগ্রের মূল দলের হয়ে পেশাদারী অভিষেক হয়নি, তবে ক্লাবের যুব একাডেমিতে তাকে অন্যতম প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে ধরা করা হয়। ২০২২ সালে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছিল। তবে সেটি কোনো দুর্দান্ত সেভের জন্য নয়, বরং গোল করার জন্য! ফোর্থ ডিভিশনের এক ম্যাচে এস্তুদিয়ান্তেস দে লা প্লাতার বিপক্ষে নিজের গোলপোস্ট থেকে শট নিয়ে মাঠের অপর প্রান্তের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি।
এটিই তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল ছিল না। এর আগে সেভেন্থ ডিভিশনে রেসিংয়ের বিপক্ষে এবং সিক্সথ ডিভিশনে সেন্ট্রাল কর্ডোবার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে আরও দুটি গোল করেছিলেন এই গোলরক্ষক।
বিশ্বকাপ পূর্ববর্তী সফরের জন্য যখন কোচ লিওনেল স্কালোনি প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছিলেন, তখন সান্তিয়াগো বেলত্রান, অগাস্টিন গিয়াও, নিকোলাস কাপাল্দোদের মতো বেশ কয়েকজন তরুণকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু একে একে সবাই ক্যাম্প থেকে বাদ পড়লেও নিজের জায়গা ধরে রাখেন একমাত্র মাক্সিমো।
শৈশব ও ক্যারিয়ারের শুরু
১.৯০ মিটার (প্রায় ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি) উচ্চতার এই তরুণ গোলরক্ষক এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্তিনেস এবং ফ্রাঙ্কো আরমানিকে নিজের আদর্শ মানেন। বুয়েনস আইরেসের উত্তর শহরতলির এসকোবার অঞ্চলের 'ক্লাব সোশ্যাল মাথেউ'-এ তার ফুটবলের হাতেখড়ি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিগ্রে ক্লাবের গ্রীষ্মকালীন ট্রায়ালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি গোলরক্ষকের গ্লাভস জোড়া হাতে তুলে নেন।
অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলার পাশাপাশি তিনি মূল দলের সঙ্গেও অনুশীলন করেছেন। চলতি বছরের মে মাসে তিগ্রে ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই তরুণের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে তারা।
স্পারিং পার্টনার নেওয়ার পেছনের কারণ
কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ একজন অতিরিক্ত গোলরক্ষককে 'স্পারিং পার্টনার' হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মূল দলের তিন গোলরক্ষক- মার্তিনেস, আরমানি এবং জেরোনিমো রুলির অনুশীলনে সাহায্য করার জন্য গোলকিপিং কোচ মার্টিন তোকাল্লির একজন সঙ্গী প্রয়োজন ছিল। সেই চিন্তা থেকেই গার্থকে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের জন্য সেই একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যেখানে আরমানির জায়গায় এবার যুক্ত হয়েছেন হুয়ান মুসো।
পূর্বসূরি ফেদেরিকো গোমেস গার্থের কী হলো?
কাতারে স্পারিং পার্টনার হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর, গোমেস গার্থ ২০২৩ ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে খেলেন। হাভিয়ের মাসচেরানোর অধীনে ভ্যালেন্টিন বার্কো, অগাস্টিন গিয়াওদের নিয়ে গড়া সেই দলটি শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিগ্রে ক্লাব গার্থকে ছেড়ে দিলে তিনি পর্তুগালের ক্লাব 'অ্যাকাডেমিকো দে ভিসেউ'-এ যোগ দেন।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি আর্জেন্টিনার ক্লাব 'উনিয়ন'-এ খেলার জন্য দেশে ফিরলেও, ডান হাঁটুর অ্যান্টিরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় দুর্ভাগ্যবশত মাঠে নামতে পারেননি।




